সামিনের কাছে গল্পও হার মানে!

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

সামিনের কাছে গল্পও হার মানে!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮:১০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৭

print
সামিনের কাছে গল্পও হার মানে!

নিজের মা-বাবা কে জানে না। এরই মধ্যে এক দম্পতির যত্নে বেড়ে উঠছিল সে। ভালোই চলছিল সব। মিশনারিজ থেকে পরিবার পেয়েছিল, পেয়েছিল বাবা-মা। নাম রাখা হয়েছিল সামিন ওয়ানিয়া খান। এক মাস বয়স থেকে চার বছর ভালো কেটেছে সামিনের। এরপর আরও তিন বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু, ৮ বছর বয়সী ছোট্ট সামিন এখন কঠিন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন।

.

পালিত মা আয়েশা আক্তার অন্যত্র বিয়ে করেছেন। পালিত বাবা মো. রায়হান উদ্দিন খান সামিন থেকে দূরে। দ্বিতীয় বাবা (পালিত মায়ের স্বামী সূত্রে) আজিজ আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন সব তথ্য জানিয়েছেন সামিনের দত্তক বাবা মো. রায়হান উদ্দিন খান।

মেয়ের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে জানিয়ে তিনি সরকার ও সচেতন সমাজের কাছে সামিন ওয়ানিয়া খানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।

রায়হান জানান, দীর্ঘ ১৪ বছরের বিবাহিত জীবনে স্ত্রী আয়েশা আক্তারের বন্ধ্যাত্বজনিত কারণে তাদের কোনো সন্তান ছিল না। ২০১০ সালে ঢাকার মাদার তেরেসা মিশনারি থেকে আদালতের মাধ্যমে এক মাস বয়সী শিশুকন্যার অভিভাবকত্ব লাভ করেন তারা।

এরপর ওই শিশুর নাম রাখা হয় সামিন ওয়ানিয়া খান। আয়েশা আক্তার চাকরির কারণে চট্টগ্রাম থাকতেন। রায়হান উদ্দিনের কর্মস্থল ঢাকায়। তার সঙ্গেই ঢাকায় থাকত সামিন। রায়হান উদ্দিনের মা দেখাশুনা করতেন সামিনকে। পাশাপাশি গৃহকর্মীও ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে রায়হান জানান, ২০১৪ সালের মে মাসে আয়শা আক্তার স্বামীর ঘর করবে না বলে জোর করে সামিনকে নিয়ে চট্টগ্রাম চলে আসেন। ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রায়হান উদ্দিনকে তালাক দিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন আজিজ আহমেদ চৌধুরী নামের আরেক ব্যক্তিকে।

পরে আয়েশা আক্তার ও আজিজ আহমেদ মিলে সামিন ওয়ানিয়া খানের নাম পরিবর্তন করে রাখেন সামিন আহমেদ চৌধুরী। রায়হান উদ্দিন তার শিশুকন্যাকে দেখার এবং ভরণপোষণের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় অপহরণ প্রচেষ্টার অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে আজিজ দম্পতি।

এক পর্যায়ে আদালতে আবেদন করা হয়, রায়হান উদ্দিনের অভিভাবকত্ব বাতিলের জন্য। অবশ্য পরে আজিজ আহমেদ অভিভাবক নিযুক্ত হতে চান না বলে আদালতে আবেদন করেন। পরে অভিভাবক পরিবর্তন যোগ্য নয় বলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।

এদিকে, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি আয়েশা আক্তারকে তালাক প্রদান করেছেন তার দ্বিতীয় স্বামী আজিজ আহমেদ। পরে আয়েশা আক্তার চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে সামিনের একক অভিভাবকত্ব দাবি করে আপিল মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।

এরই মধ্যে আয়েশা আক্তার আদালতের অনুমতি ছাড়া শিশু কন্যাকে রেখে গত ২ সেপ্টেম্বর বিদেশে (আইসল্যান্ড) চলে গেছেন।

রায়হান উদ্দিন জানান, সামিনের বর্তমান বয়স ৮ বছর। তাকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ঘাটফরহাদবেগের ৬ নং কাজেম আলী রোডের একটি বাসায় গৃহকর্মীরর কাছে রেখে যাওয়া হয়। উক্ত বাসার দরজা সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। গৃহকর্মীর কাছ থেকে ফোন নিয়ে সামিন একবার রায়হান উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছে। সে বাবার কাছে চলে আসতে চায়।

বিষয়টি গত ৩০ আগস্ট আদালতে অবহিত করে সামিনকে রায়হান উদ্দিন জিম্মায় পাওয়ার আবেদন করেন। আদালত বিষয়টির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আগামী বছরের ৯ জানুয়ারি।

এই দীর্ঘ সময় মেয়ের জীবন নিয়ে আতঙ্কিত রায়হান। এমন পরিস্থিতির মধ্যে তিনি সামিন ওয়ানিয়া খানকে ফিরে পাওয়া এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সরকারসহ সচেতন মহলের কাছে আকুতি জানিয়েছেন।

কেএএস/আইএম

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad