না’গঞ্জে বিএনপি নেতার নির্দেশে খুন হয় মিল্টন ও পারভেজ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

না’গঞ্জে বিএনপি নেতার নির্দেশে খুন হয় মিল্টন ও পারভেজ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৭:০০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৭

print
না’গঞ্জে বিএনপি নেতার নির্দেশে খুন হয় মিল্টন ও পারভেজ

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা ও বিলুপ্ত শহর কমিটির সহ সভাপতি এম এ মজিদের নির্দেশে জোড়া খুনের পর তাদের টাকা পয়সা লুট করা হয়েছে। সোমবার বিকালে দোষ স্বীকার করে গ্রেফতারকৃত মামলার ৯নং আসামি মাহবুব আদালতে এ জবানবন্দি দিয়েছে।

.

 

নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম ১৬৪ ধারায় মাহবুবের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন। মাহাবুব (৩০) শহরের ১নং বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার মৃত জাকিরের ছেলে। একইদিন সকালে বাবুরাইল এলাকা থেকে এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাহবুব ও তার সহযোগী নিজামুদ্দিন রুবেলকে গ্রেফতার করেছে জেলা ডিবি। কোর্ট পুলিশের এসআই কামাল হোসেন জানান, জবানবন্দি গ্রহন শেষে মাহবুবকে জেলা কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।

মাহবুবের জবানবন্দির বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবির পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম মাজহার জানান, বিএনপি নেতা এম এ মজিদের নির্দেশেই মিল্টন ও পারভেজকে খুন হয়েছে এবং নিহতদের টাকা পয়সা লুট করা হয়েছে। এরপর ঘরের ভিতর লাশ রেখে ওই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। হত্যাকান্ডের আরো অনেকের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্তের সার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে মাজহার জানান।

তিনি আরো জানান, আবুল নামে এক আসামীকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ও তার দেয়া তথ্যে মাহবুব ও রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এনিয়ে আবুল, রাকিব, রাজন ও জসিম নামে চার আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে বাকিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
তিনি জানান, মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা ও বিলুপ্ত শহর কমিটির সহ সভাপতি এম এ মজিদ ও তার ভাই বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, হত্যাকান্ডের ঘটনায় তাদের ইন্ধন থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ১২ অক্টোবর রাতে ফতুল্লার কাশীপুর হোসাইনি নগর এলাকায় রাজিবের রিকশার গ্যারেজে পূর্বশত্রুতার জের ও প্রভাববিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলাকারীরা কুপিয়ে তুহিন হাওলাদার মিল্টন (৪০) ও পারভেজ আহমেদ (৩৫) নামে দুইজনকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তাদের লাশ ঘরের ভিতর রেখে টাকা পয়সা লুট করে ওই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। নিহতরা হলো কাশিপুর হোসাইনীনগর এলাকার প্রফেসর ছগির আহম্মেদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত সাহেব আলীর ছেলে তুহিন হাওলাদার মিল্টন এবং কাশিপুর খিলমার্কেট এলাকার মিজানুর রহমান বিজুর ছেলে পারভেজ।

এঘটনায় নিহত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে সন্ত্রাসীদের ভয়ে মামলা না করায় ১৪ অক্টোবর দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মোজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে দেড়শ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলাটি দায়ের করেন।

এলপি/এএস

 

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad