নরসিংদীতে খুনের ৭ মাস পর মাদ্রাসাছাত্রের কঙ্কাল উদ্ধার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

নরসিংদীতে খুনের ৭ মাস পর মাদ্রাসাছাত্রের কঙ্কাল উদ্ধার

নরসিংদী প্রতিনিধি ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭

print
নরসিংদীতে খুনের ৭ মাস পর মাদ্রাসাছাত্রের কঙ্কাল উদ্ধার

নরসিংদীতে সৎ চাচার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৭ মাস পর মাদ্রাসাছাত্রের পাঁচ টুকরা কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদীর মদনগঞ্জ রেললাইনের ৫নং ব্রিজের দক্ষিণ পাশে অভিযান চালায় এসআই সুবল চন্দ্র পাল ও মাধবদী থানা পুলিশ। গ্রেফতার আসামি কাউসারের স্বীকারোক্তির পর মাধবদী থানা পুলিশ ইকবাল হোসেন (১৭) নামে ওই ছাত্রের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে ইকবাল হোসেন আলগী মনোহরপুর শাহিন মিয়ার গ্যারেজ থেকে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয়। সেদিন তার মা-বাবাকে মোবাইলে জানায়, রাত ৮টার দিকে বাড়িতে ফিরবে। এরপর সে আর ফিরে আসেনি।

বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মাধবদী থানায় একটি জিডি করে তার পরিবার। পরে তার মোবাইল কললিস্টের সূত্র ধরে মাদবদী থানা পুলিশ দক্ষিণ শিলমান্দীর হিরন মিয়ার ছেলে কাউসার মিয়াকে (২৪) গ্রেফতার করে।

কাউসার স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, নিহতের সৎ চাচা ওমর ফারুকসহ তিনজন মিলে ইকবালকে হত্যা করে। হত্যার পর কাউসার, নাজমুল খাঁন ও ওমর ফারুক মিলে নিহতের লাশ মদনগঞ্জ ব্রিজের পাশের জমিতে পুঁতে রাখে। পরে তার অটোরিকশাটি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এরপর থেকে চাচা ওমর ফারুক গা ঢাকা দেয়। সন্দেহের সূত্র ধরে প্রথমে কাউসার ও পরে নজরুল খাঁনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি ও হত্যার পরিকল্পানাকারী কোতালিরচরের মৃত জাহাদ আলীর ছেলে ওমর ফারুক এখনও পলাতক রয়েছে।

দীর্ঘ ৭ মাস পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আসামিদের চিহ্নিত করা স্থান বিলের পানির নিচ থেকে ইকবাল হোসেনের কঙ্কাল উদ্ধার করেছেন। ইকবাল হোসেন কোতালিচর হোসেন বাজারের জাকির হোসেনের ছেলে। সে পৌলানপুর ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম প্রথমবর্ষের ছাত্র। লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য সে পড়াশুনার পাশাপাশি ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতো।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, আমরা মোবাইল কললিস্টের সূত্র ধরে প্রথমে পাঁচদোনা ভাটপাড়া থেকে কাউসারকে গ্রেফতার করি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর কাউসার স্বীকার করে যে, নিহতের সৎ চাচা ওমর ফারুক, নজরুল ও সে মিলে তাকে হত্যা করে মাটির নিচে পুঁতে রাখে। ৭ মাস পর আসামিদের চিহ্নিত স্থান থেকে আজ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন মিলে বিলের পানির নিচ থেকে ইকবালের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার করি।

এলবি/আরপি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad