রাস্তার মোড়ে মোড়ে খলসানি মেলা, বন্যায় ক্রেতা কম

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ | ২ কার্তিক ১৪২৪

রাস্তার মোড়ে মোড়ে খলসানি মেলা, বন্যায় ক্রেতা কম

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ১২:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৭

print
রাস্তার মোড়ে মোড়ে খলসানি মেলা, বন্যায় ক্রেতা কম

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই জেলার আশপাশের প্রায় প্রত্যেকটি হাট-বাজার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে মাছ শিকারের ফাঁদ চাঁই (বাঁশের তৈরি মাছ ধরার বিশেষ এক ধরনের যন্ত্র)বিক্রি করতে দেখা যায়। মাছ শিকারের জন্য এটি একটি কার্যকরী যন্ত্র। মানিকগঞ্জে স্থানীয়ভাবে এর নাম খলসানি। আবার কোথাও কোথাও ঢেউল নামেও পরিচিত এই যন্ত্রটি। এই চাঁইয়ের মধ্যে ছোট কোনো মাছ শিকার করা সম্ভব না। শুধুমাত্র মাঝারি ও বড় মাছ শিকারের জন্য এই চাঁই। পর্যাপ্ত পরিমাণে চাঁই (খলসানি) থাকা সত্বেও পানির চাপ বাড়ায় বিক্রয় করতে পারছে না চাঁই বিক্রেতারা।

বাঁশ দিয়ে তৈরি এই খলসানি বা চাঁই তৈরি করে মানিকগঞ্জের শিবালয়, ঘিওর, দৌলতপুর, সাটুরিয়া ও সদর উপজেলার প্রায় হাজার খানেক পরিবার। নারী-পুরুষ ও শিশুরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন বাঁশের তৈরি এই চাঁই বানানোর কাজে। আর তাদের প্রধান পেশা হচ্ছে এই বাঁশের তৈরি চাঁই তৈরি। বাপ-দাদা তিন পুরুষের এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছে তারা। শুধু বর্ষা মাসেই এই চাঁইয়ের চাহিদা থাকে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই চাঁই সরবরাহ করে থাকেন তারা।

এবার বর্ষায় অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধির কারনে মাছ শিকার হচ্ছে কম। ফলে বিক্রিও এখন কম।

শিবালয় উপজেলার মানিক মন্ডল পরির্বতন ডটকমকে জানান, বর্ষা এলেই এই চাঁইয়ের চাহিদা থাকে। তাও এখন কারেন্ট জালের কারণে এই চাঁইয়ের কদর কমে গেছে।

তিনি আরো বলেন, খাল-বিল, নদী-নালা ও ধান খেতে পানি বেড়ে যাওয়ায় এই চাঁই বিক্রি করতে পারছি না। আজ সারা দিনে এক জোরা চাঁইও বিক্রি করতে পারি নাই।

পার্শ্ববর্তী ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলা থেকে আগত চাইয়ের পাইকার ব্যবসায়ী জামাল মিয়ার সাথে পরির্বতন ডটকম প্রতিবেদকের আলাপকালে তিনি জানান, মানিকগঞ্জ থেকে প্রতি বছর আমি চাঁই নিয়ে থাকি। বিশেষ করে সদরের কাটিগ্রাম এলাকার শাহিন মিয়ার বাড়ী থেকে। এ বছরও আমি মাল নেওয়ার জন্য আসছি। গত বছরের চেয়ে এ বছর দামটা একটু বেশি। এখন তো আর আগের মতো বাঁশ পাওয়া যায় না। আবার যা-ও পাওয়া যায় তার দাম দ্বিগুনেরও বেশি।

তিনি আরো বলেন, এটি একটি শিল্প। আর এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন। 

এসআরআর/এএফ/এএসটি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad