বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় চ্যানেল দখলমুক্ত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় চ্যানেল দখলমুক্ত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:১৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৭

বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় চ্যানেল দখলমুক্ত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এম আতাহারুল ইসলাম বলেছেন, বুড়িগঙ্গা নদীর দ্বিতীয় চ্যানেলকে দখলমুক্ত করার ব্যাপারে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দখলদারদের বিরুদ্ধে আইন আছে কিন্তু প্রয়োজন কঠোর বাস্তবায়ন। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এই সকল আইন বাস্তবায়ন করা হবে। রোববার ‘‘বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা ও দূষণরোধে করণীয়’’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার এর উদ্যোগে নদী তীরবর্তী জনসাধারণদের নিয়ে রাজধানীর আরমানিটোলার আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এম আতাহারুল ইসলাম বলেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি কিন্তু স্বাধীনতা রক্ষা করছিনা। বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণরোধ ও দখলমুক্ত করতে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী মানুষদের জাগ্রত হতে হবে। নদী কমিশন সৃষ্টি হয়েছে মানুষের দাবির কারণে এবং নদীকে সংরক্ষণ, রক্ষা ও উদ্ধার করার জন্য। বুড়িগঙ্গা নদীর দ্বিতীয় চ্যানেলকে দখলমুক্ত করার ব্যাপারে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দখলদারদের বিরুদ্ধে আইন আছে কিন্তু প্রয়োজন কঠোর বাস্তবায়ন। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এই সকল আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, দেশের নদীগুলোকে বাঁচাতে গঠিত হয়েছে শক্তিশালী নদী রক্ষা বিষয়ক টাস্কফোর্স। টাস্কফোর্স সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীসমূহ পুনরায় জরিপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নদী সংলগ্ন এলাকায় সকল প্রকার নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে হবে। এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা নদীকে নদী হিসেবে দেখতে চাই, ঝিল হিসেবে নয়। নদীকে বাঁচাতে দৃষ্টিনন্দন প্রধান লক্ষ্য নয়, দখল ও দূষণমুক্ত রাখাই মূল উদ্দেশ্য।

বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, নদীকে বাঁচাতে জনগণ ও সরকারের মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। নদীকে রক্ষা করা গেলে এর অর্থনৈতিক সুফল ভোগ করা যাবে। বুড়িগঙ্গা সংশ্লিষ্ট মানুষজন এখন নর্দমার পাশে কীটপতঙ্গের মত জীবন যাপন করছেন। এই অবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ২০০০ সাল থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁসে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা দখলকার্য অব্যাহত রেখেছে। কামরঙ্গীচরের পাওয়ার স্টেশন, সিকদার মেডিকেল যার উদাহরণ। সরকার ও জনগণের মিলিত সহযোগিতায় এসকল দখলদারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।

মতবিনিময় সভা থেকে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষায় জনগণ ও সরকারকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানানো হয়। আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রার্থীদের বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষায় তাদের পরিকল্পনা প্রকাশ করার দাবিও জানানো হয় এই সভা থেকে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর বিন আব্দাল আজিজ, ৩১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ রফিকুল ইসলাম রাসেল, ৩৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. আবু সাঈদ, ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. আওয়াল হোসেন ও বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মো. সাহিদুর রহমান। সভায় বুড়িগঙ্গা পাড়ের স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাধারণ জনগণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিগন অংশ গ্রহন করেন।

কেএইচ/এএস

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও