টাঙ্গাইলে কথিত জ্বীনের বাদশার নির্যাতনে কলেজছাত্রী মৃত্যুশয্যায়
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

টাঙ্গাইলে কথিত জ্বীনের বাদশার নির্যাতনে কলেজছাত্রী মৃত্যুশয্যায়

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৭:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

টাঙ্গাইলে কথিত জ্বীনের বাদশার নির্যাতনে কলেজছাত্রী মৃত্যুশয্যায়

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জ্বীনের বাদশা সেজে এক কলেজ ছাত্রীকে (২০) নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাদারিয়াপাড়া গ্রামে সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। সে ভূঞাপুর উপজেলার ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর থেকে কথিত জ্বীনের বাদশা একই গ্রামের হাজী দারোগ আলী (৭০) পলাতক রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট্য সূত্রে এবং ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত সোমবার ওই কলেজছাত্রী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় পাশ্ববর্তী বাড়ির হাজী দারোগ আলী বলেন যে, ‘তাকে জ্বীনে ধরেছে। জ্বীনের বাদশা ছাড়া তাকে বাঁচানো যাবে না।’

এ সময় হাজী দারোগ আলী নিজেই জ্বীনের বাদশা সেজে কলেজছাত্রীকে সারা শরীরে স্পর্শ করে ঝাড়-ফুক দিতে থাকে। এক পর্যায়ে কথিত জিনের বাদশা দারোগ আলী ছাত্রীকে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। জিনের বাদশার নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পাশের বাড়ির এক লোক রাত বারটার দিকে পার্শ্ববর্তী ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীর অবস্থা অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার সকালে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে।

হাসপাতালের চিকিৎসক  তাকে মেডিক্যাল চেকআপ, সিটিস্ক্যানসহ বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। কিন্তু নির্যাতনকারী কথিত জিনের বাদশার ছেলেদের প্রভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। পরে ওই কলেজছাত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, ‘জিনের বাদশার নির্যাতনে আমার মেয়ের চোখ এমন হয়েছে। আমার মেয়ের কিছু হলে আমি বিয়ে দিবো কিভাবে। আমার স্বামী নাই। দেবর-ভাসুরেরা ঢাকা থাকে। তারা এসে ব্যবস্থা নিবে।’

এ ব্যাপারে নির্যাতিতা কলেজছাত্রী বলেন ‘আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত হাজী দারোগ আলীকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, ‘এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ 

এএএন/এইচকে

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও