দৌলতদিয়ায় তৃতীয় যৌনকর্মীর জানাজা ও দাফন
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

দৌলতদিয়ায় তৃতীয় যৌনকর্মীর জানাজা ও দাফন

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী ৩:২৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

দৌলতদিয়ায় তৃতীয় যৌনকর্মীর জানাজা ও দাফন

দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার তৃতীয়বারের মতো দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর যৌনকর্মী পারভীন বেগমের (৬৫) জানাজা সম্পন্ন করলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান।

শনিবার বেলা ২টায় জানাজা শেষে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী সংলগ্ন কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

বার্ধক্যজনিত কারণের তিনি শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পল্লীর মধ্যে মারা যান। এবারও দ্বিতীয় যৌনকর্মী রিনা বেগমের জানাজা পড়ানো গোয়ালন্দ থানা মসজিদের সেই ইমাম আবু বক্কর সিদ্দিকিই পারভীনের জানাজা পড়ান।

এর আগে প্রথম যৌনকর্মী হামিদা বেগমের জানাজা পড়ানো দৌলতদিয়া রেলস্টেশন মসজিদের ইমাম গোলাম মোস্তফা দেশ-বিদেশ আলোচনা-সমালোচনা এবং স্থানীয়দের সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আর কোনো যৌনকর্মীর জানাজা না পড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসির অনুরোধে

থানা মসজিদের ইমাম আবু বক্কর সিদ্দিকি পরপর দুজন যৌনকর্মীর জানাজা পড়ান।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন এএসপি (সার্কেল) সদর মো. শরিফ উজ-জামান, গোয়ালন্দ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল তায়াবির, দৌলতদিয়া ইউপি সদস্য জলিল ফকিরসহ স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে যৌনকর্মীরা মারা গেলে তাদের নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো অথবা মাটির নিচে পুঁতে রাখা হতো। বিষষটি গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমানের নজরে আসলে তিনি সব বাধা পেরিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি যৌনকর্মী হামিদা বেগমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন করান।

এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জানাজা যৌনকর্মী রিনা বেগম ও সর্বশেষ আজ শনিবার যৌনকর্মী পারভীনের জানাজা পড়ানোর সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

একজন পুলিশ কর্মকর্তার সমাজ পরিবর্তনের মহতি এই উদ্যেগ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ফলাও করে প্রচার করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব জায়গায় প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও