দৌলতদিয়ায় আরেক যৌনকর্মীর জানাজা
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

দৌলতদিয়ায় আরেক যৌনকর্মীর জানাজা

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

দৌলতদিয়ায় আরেক যৌনকর্মীর জানাজা

দৌলতদিয়ায় ইসলামি রীতিতে দ্বিতীয় যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানো হয়েছে স্থানীয় পুলিশের উদ্যোগে।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মারা যাওয়া যৌনকর্মী রীনা বেগমের জানাজা পড়ানো হয় রাত ৯টার দিকে। খবর: বিবিসি বাংলা

দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লী সংলগ্ন কবরস্থানে স্থানীয় পুলিশের উদ্যোগে আয়োজন করা জানাজায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন।

গোয়ালন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান, ‘প্রথা ভেঙে যৌনকর্মীদের জানাজা পড়ানোর যেই চল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সেটি আরো স্বীকৃত হলো।’

গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো হামিদা বেগম নামের এক যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানো হয়েছিল। ওই জানাজার আয়োজনও করা হয়েছিল স্থানীয় পুলিশ প্রধান আশিকুর রহমানের উদ্যোগে।

তবে সেই জানাজার নামাজ পরিচালনা করা দৌলতদিয়া রেলস্টেশনের ইমাম গোলাম মোস্তফা জানিয়েছিলেন যে তিনি ভবিষ্যতে আর কোনো যৌনকর্মীর জানাজা পড়াবেন না।

হামিদা বেগমের জানাজা পড়ানোর পর স্থানীয়ভাবে সমালোচনার মুখে পড়ার কারণেই তিনি আর কোনো যৌনকর্মীর জানাজা না পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

জেলার ইমামদের সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে তারা আর কোনো যৌনকর্মীর জানাজা পড়াবেন না

ওই ঘটনার পর রাজবাড়ি জেলার ইমামদের সমিতির পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়, যেখানে গোয়ালন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তিনি ইমামকে বাধ্য করেছিলেন যৌনকর্মীর জানাজা পড়াতে।

তবে আশিকুর রহমান বলেন, তিনি কোনো জোর করেননি। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতেই ইমাম জানাজা পড়াতে রাজি হয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার রীনা বেগমের জানাজা পড়ান গোয়ালন্দ থানা মসজিদের ইমাম আবু বকর সিদ্দিক।

দৌলতদিয়ার যৌনকর্মীরা আশাবাদি ছিলেন যে, হামিদা বেগমের জানাজার পর সেটা হয়তো যৌনকর্মীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে কাজে দেবে। কিন্তু পল্লীর বাইরে সাধারণ মানুষের অধিকাংশই এ বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন।

তারা মনে করেন, যৌনকর্মীদের পেশাই যখন ইসলাম ধর্ম সমর্থিত নয়, তখন তাদের মৃত্যুর পর ধর্মীয় রীতিতে সৎকারের চেষ্টা করার কোনো কারণ নেই।

আশিকুর রহমান মনে করেন, কখনো ইসলামিক রীতিতে যৌনকর্মীদের জানাজা না পড়ানো হওয়ার কারণে এনিয়ে কিছুটা অস্বস্তি কাজ করছে স্থানীয় মানুষের মধ্যে।

সময়ের সাথে সাথে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও