কলাগাছের শহীদ মিনারে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬

কলাগাছের শহীদ মিনারে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৫:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

কলাগাছের শহীদ মিনারে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা

অজপাড়াগাঁয়ের বিদ্যালয়ে ইট-পাথরের শহীদ মিনার নেই তো কি হয়েছে? নিজ হাতে গড়া কলাগাছের প্রতীকী শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলার ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তাদের হাতে তৈরি শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে শিশুরা কাদামাটি, কলাগাছ, বাঁশের কঞ্চি ও রঙিন কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করেছে। শহীদ মিনার করতে সময় লেগেছে ২-৩ দিন। শুক্রবার সকালে সেই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে তারা। এই শিশুদের বয়স মাত্র ৫-১২ বছরের মধ্যে। প্রথম থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তারা।

শিশুরা জানায়, গত মঙ্গলবার ওরা পরিকল্পনা করে। বুধবার ভোর থেকেই শহীদ মিনার গড়ার কাজে লেগে পড়ে। স্কুলে যাওয়ার কারণে সকাল থেকে দুপুরে বিরতি দিতে হয়েছে তাদের। বৃহস্পতিবার বিকেলেই গড়ে ওঠে তাদের শহীদ মিনার। শুক্রবার ভোর হওয়ার সঙ্গে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় তারা। পরে যুবক ও প্রবীণরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় তাদের ছোট্ট হাতে গড়া শহীদ মিনারে।

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কাগমারা, এনায়েতপুর, বেড়াডোমা, দাইন্যা ইউনিয়নের বাইমাইল, বাসারচর, চিলাবাড়ি, বাঘিল ইউনিয়নের ধরেরবাড়ী, দুরিয়াবাড়ি, বানিয়াবাড়ি, কৃষ্ণপুর ও গালা ইউনিয়নের ভাটচান্দা, সদুল্লাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে শিশুদের উদ্যোগেই শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে।

কলাগাছের তিনটি খুটি মাটিতে পুঁতে তৈরি করা শহীদ মিনার চোখে পড়ে। প্রতিটি মিনারের ওপর অপেক্ষাকৃত ছোট কলাগাছের আরও তিনটি টুকরা তীর্যকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে। রঙিন কাগজ ও নানা রঙের ফুল দিয়ে প্রতিটি মিনার মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চারপাশে সুতা টানিয়ে তাতে রঙিন কাগজ ও বেলুন দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। শহীদ বেদীতে বুনোফুল ছাড়াও কিছু গাঁদা ও গোলাপফুলও চোখে পড়েছে। পাশেই সাউন্ড সিস্টেম বাজছে। সাউন্ড সিস্টেমে দেশাত্মবোধক গান বাজানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও বড়দের কাছ থেকে শহীদ দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে জেনেছে তারা। তাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার বানিয়েছে শিশুরা।

কাগমারা এলাকার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ মিয়া বলে, ‘তাদের গ্রামে শহীদ মিনার নেই। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হলে যেতে হয় তিন কিলোমিটার। তাই শহীদ মিনার তৈরি করেছে তারা। তাদের কাজ দেখে প্রথমে কেউ উৎসাহ না দিলেও পরে বাড়ির দাদি, নানি, মা, চাচি ও বড় ভাইবোনেরা সাহায্য করেছেন।’

ধরেরবাড়ী গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মানিক বলে, ‘আমরা শিক্ষকদের কাছে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস জেনেছি। তাই শহীদ মিনারের আঙিনায় জুতা খুলে খালি পায়ে প্রবেশ করেছি।’

ধরেরবাড়ী গ্রামের নার্গিস নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘গ্রামে স্থায়ীভাবে কোন শহীদ মিনার নেই। শহীদ মিনার থাকলে সবাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারতাম। এতে শিশুরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতো।’

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া বলেন, ‘তাদের বাড়িতে ছিল হলুদ গাঁদাফুল ও লাল গোলাপ ফুল। তার বাড়ি থেকে এনে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।’

কাগমারা গ্রামের বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, ‘এই শিশুদের দেশপ্রেম দেখে অভিভূত হয়েছি। মিনারটিতে প্রত্যেকের দেওয়া একেকটি ফুলে মিশে রয়েছে তাদের শ্রদ্ধা আর অগাধ ভালোবাসা।’

অপরদিকে নাগরপুর উপজেলাতেও ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা কলাগাছের তৈরি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

পিএসএস

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও