গার্মেন্টসে তিন বেলা নামাজ বাধ্যতামূলক
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

গার্মেন্টসে তিন বেলা নামাজ বাধ্যতামূলক

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

গার্মেন্টসে তিন বেলা নামাজ বাধ্যতামূলক

ফাইল ছবি

গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য অফিস চলাকালীন প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে যোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক করেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখে জারি করা একটি নোটিশে লেখা রয়েছে, এই তিন ওয়াক্ত নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পাঞ্চ মেশিনে ফিঙ্গার পাঞ্চ করতে হবে।

গাজীপুরের মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড নামের ওই কারখানায় এমন নোটিশ জারি করা হয়েছে। খবর: বিবিসি বাংলা

নোটিশে আরো লেখা রয়েছে, যদি কোনো স্টাফ মাসে সাত ওয়াক্ত ফিঙ্গার পাঞ্চ করে নামাজ না পড়েন তবে সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির বেতন হতে একদিনের সমপরিমাণ হাজিরা কাটা হবে।

এ বিষয়ে ওই কারখানার অপারেশন্স বিষয়ক পরিচালক মেসবাহ ফারুকী জানিয়েছেন, এটি শুধু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য যদিও এই নোটিশের যে কপিতে লেখা, ‘সকল স্টাফ’।

এক প্রশ্নে মেসবাহ ফারুকী জানান, সবাই আমরা নামাজ পড়ি। আমরা ইসলাম ধর্মের অনুসারী, আমাদের নামাজ পড়া ফরজ। এখানে মুসলমান যারা আছে তারা সবাই নামাজ পড়ে। কর্মীদের মধ্যে মতভেদ-দূরত্ব কমানোর একটি উপায় হিসাবে কারখানায় নামাজ বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন।

ফারুকী তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাস্থ্যগত একটি ব্যাখ্যা দিয়ে বলন, সারাদিন বসে বসে কাজ করায় কোলেস্টেরল বাড়ছে, ডায়াবেটিস বাড়ছে। মসজিদ চারতলায় হওয়াতে কিছুটা ব্যায়ামও হচ্ছে।

নোটিশে যেভাবে একদিনের বেতন কাটার কথা বলা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলন, এ পর্যন্ত কারোর বেতন কাটা হয়নি।

মেসবাহ ফারুকী বলন, বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, তারা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীকে নামাজ পড়তে বাধ্য করছেন না।

এ বিষয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলছেন, ‘কর্মীদের বাধ্যতামূলক নামাজ পড়ানোর ঘটনা বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করতে পারে।’

মোশরেফা মিশু আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে পোশাকশিল্পে অনেক সমস্যা থাকার পরেও ক্রেতারা এখনো মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। তাজরিন ও রানা প্লাজায় ভয়াবহ ঘটনার আগে বিদেশি ক্রেতাদেরও এতকিছু জানা ছিল না। কিন্তু কারখানার ভেতরে এরকম আইন যদি তারা করেন, তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হবে।’

এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও