তিন স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ৩ জনকে আদালতে

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

তিন স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ৩ জনকে আদালতে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৪:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২০

তিন স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ৩ জনকে আদালতে

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৯ম শ্রেণির তিন স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের আদালতে সোপর্দ করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো ইউসুফ, বাবুল ও সুজন। অপরদিকে ধর্ষণের শিকার ৩ ছাত্রীর গতকাল সোমবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। যদি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি না হয় তাহলে রিমান্ড চাওয়া হবে। এ ঘটনায় আমাদের ৩টি টিম কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে অনেক কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এখনো আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলার সন্ধ্যানপুর ইউনিয়নের সাতকুয়াবাঈদ বন এলাকায় গত রোববার রাতে ৩ স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং তাদের অপর এক বান্ধবী লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে এক স্কুলছাত্রীর বাবা ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই  স্কুলছাত্রীরা ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। মামলার পরে ওই স্কুলছাত্রীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করে।

মামলা ও পারিবারিক সূত্রে যায়, রোববার ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান ছিলো। ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির চার ছাত্রী সকলেই সকালে স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু তারা বিদ্যালয়ে না গিয়ে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মোতাবেক তারা স্কুলে না গিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাদের দুই ছেলে বন্ধু হৃদয় ও শাহীনকে নিয়ে উপজেলার সাতকুয়াবাঈদ গ্রামে ঘাটাইল সেনানিবাসের ফায়ারিং রেঞ্জে এলকায় বেড়াতে যায়। এ সময় ওই এলাকার ৫/৬ জন যুবক তাদের পিছু নেয়। এক পর্যায়ে ওই যুবকরা চার ছাত্রীর বন্ধুদের এবং অটোচালকে মারধর করে। তারা ওই নির্জন বন এলাকায় ছাত্রীদের, তাদের দুই বন্ধু ও অটোচালকে জিম্মি করে রাখে।

একপর্যায়ে তিন ছাত্রীকে ওই যুবকরা ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের হাতে অপর এক ছাত্রী লাঞ্ছিত হয়। সন্ধ্যার পর ধর্ষকরা তাদের ছেড়ে দেয়। তারা অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ওই এলাকায় এক ছাত্রীর এক আত্মীয় বাড়িতে যায় এবং ঘটনা খুলে বলে। ওই আত্মীয়রা ছাত্রীদের অভিভাবকদের খবর দেয়। পরে গভীর রাতে অভিভাবকরা পুলিশকে জানায়। পুলিশ ও অভিভাবকরা গিয়ে তাদের রাতেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ধর্ষিতা তিন ছাত্রী ও লাঞ্ছলার শিকার তাদের বান্ধবীকে সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও