বেড়াতে গিয়ে ৩ স্কুলছাত্রীকে আটকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ 

ঢাকা, শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৭ ফাল্গুন ১৪২৬

বেড়াতে গিয়ে ৩ স্কুলছাত্রীকে আটকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ 

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

বেড়াতে গিয়ে ৩ স্কুলছাত্রীকে আটকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বেড়াতে গিয়ে ৩ স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং তাদের অপর এক বান্ধবী লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সন্ধ্যানপুর ইউনিয়নের সাতকুয়াবাঈদ বন এলাকায় রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে এক স্কুলছাত্রীর বাবা ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ওই ৩ স্কুলছাত্রী ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। মামলার পরে ওই স্কুলছাত্রীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলা ও পারিবারিক সূত্রে যায়, রোববার ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান ছিলো। ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির চার ছাত্রী সকালে স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু তারা বিদ্যালয়ে না গিয়ে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মোতাবেক তারা স্কুলে না গিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাদের দুই ছেলে বন্ধু হৃদয় ও শাহীনকে নিয়ে উপজেলার সাতকুয়াবাঈদ গ্রামে ঘাটাইল সেনানিবাসের ফায়ারিং রেঞ্জে এলকায় বেড়াতে যায়। এ সময় ওই এলাকার ৫/৬ জন যুবক তাদের পিছু নেয়।

একপর্যায়ে ওই যুবকরা চার ছাত্রীর বন্ধুদের এবং অটোচালকে মারধর করে। তারা ওই নির্জন বন এলাকায় ছাত্রীদের, তাদের দুই বন্ধু ও অটোচালককে জিম্মি করে রাখে। একপর্যায়ে তিন ছাত্রীকে ওই যুবকরা ধর্ষণ করে। এসময় তাদের হাতে অপর এক ছাত্রী লাঞ্ছিত হয়। সন্ধ্যার পর ধর্ষকরা তাদের ছেড়ে দেয়। তারা অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ওই এলাকায় এক ছাত্রীর আত্মীয় বাড়িতে যায় এবং ঘটনা খুলে বলে।

পরে ওই আত্মীয়রা ছাত্রীদের অভিভাবকদের খবর দেয়। পরে গভীর রাতে অভিভাবকরা পুলিশকে জানায়। পুলিশ ও অভিভাবকরা গিয়ে তাদের রাতেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘাটাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।

ধর্ষিতা তিন ছাত্রী ও লাঞ্ছলার শিকার তাদের বান্ধবীকে সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার তানভীর আহমেদ বলেন, ‘তাদেরকে হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তারা মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যন্ত।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবাবার জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছেন।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ধর্ষকদের চিহিৃত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও