গাজীপুরে বাক প্রতিবন্ধি যুগলের অন্যরকম বিয়ে

ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

গাজীপুরে বাক প্রতিবন্ধি যুগলের অন্যরকম বিয়ে

গাজীপুর প্রতিনিধি ৬:৪২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২০

গাজীপুরে বাক প্রতিবন্ধি যুগলের অন্যরকম বিয়ে

জন্মের পঞ্চম বছরের আগেই টাইফয়েট জ্বরে আক্রান্ত হয় জান্নাতুল ফেরদৌস কিং। ছোটকাল থেকেই ফুটফুটে সুন্দর চেহারার অধিকারী জান্নাতুল ফেরদৌস কিং তোতা পাখির মত কথা বলতো অনর্গল। টাইফয়েট জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ছয় মাসের মধ্যে মুখের জবান চিরদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় জান্নাতুল ফেরদৌস কিং এর।

আর জহিরুল ইসলাম জন্মের আগেই বাকপ্রতিবন্ধি হয়েই জন্ম গ্রহণ করে। তবে নিজের মেধা ও যোগ্যতায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে চাঁদপুর থেকে কোনাবাড়ীর কেয়া কসমেটিক্স কারখানায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসাবে যোগ দেয় জহিরুল ইসলাম।

সেই দুই বাক প্রতিবন্ধি জহিরুল ইসলাম ও জান্নাতুল ফেরদৌস কিং বুধবার কোনাবাড়ী জরুন এলাকার মহা-ধুমধামে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তাদের এ বৌভাতে সাড়ে আটশত বাক প্রতিবন্ধি যুগল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও কথা বলতে না পাড়া বাক প্রতিবন্ধিরা আমন্ত্রিত হয়ে এই বৌভাত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জহিরুল ইসলাম ও জান্নাতুল ফেরদৌস কিং এর বৌভাতে শুধু বাকপ্রতিবন্ধিরাও নয় কেয়া কসমেটিক্স এর পরিচালক, কাউন্সিলরসহ আরো তিন শতাধিক মেহেমান আমন্ত্রিত হয়ে ভুরিভোজ করেন।

তবে দুপুরের পর থেকে এই আয়োজনের পুরো দায়িত্বে ছিল বাক প্রতিবন্ধিরা। খাবার টেবিলে খাবার পরিবেশ, খাবার রান্নাসহ সব ধরনের কাজ তারাই করেছে বলে বরের বড় ভাই কামরুল ইসলাম জানান।

বর-কনে মঞ্চের উপর সোফায় বসে সামনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। বাক প্রতিবন্ধিরা মঞ্চে উঠে পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলছে। কিন্তু কোন শব্দ নেই। হাতের ইশারায় ইঙ্গিতে বাকপ্রতিবন্ধিরা তাদের কথাবার্তা সেরে নিচ্ছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস কিং এর মা রেহেনা আক্তার পুতুল জানান, তার মেয়ে পাঁচ বছরে বয়সে  টাইফয়েট জ্বর হয়।  সেই জ্বর ভাল হলেও মুখের জবান বন্ধ হয়ে যায়। আর কথা বলতে পারে না। তবে বাক প্রতিবন্ধিদের সংগঠনের মাধ্যমে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা পৌরসভার আর্দশ গ্রামে গিয়ে বর পক্ষের লোকজন আমার মেয়েকে পছন্দ করে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আমাদের গ্রামের বাড়ীতে বিয়ে হয়েছে। বরের বাড়ী চাঁদপুরে হওয়াতে। বরপক্ষ এখানে  বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

বর জহিরুল ইসলামের বড় ভাই কামরুল ইসলাম জানান, আমার ছোট ভাই জন্মের আগেই বাকপ্রতিবন্ধি হয়ে জন্মগ্রহণ করে। আমরা তাকে বোঝা মনে করি নাই। মানুষ করেছি। আজ কেয়া কসমেটিক্স কারখানায় মোটা বেতনে প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদে  চাকরি করছেন।

কোনাবাড়ী থানার ওসি তদন্ত কলিন্দ নাথ জানান, সহস্রাধিক মানুষের আয়োজন। কোন শব্দ নেই। হৈচৈ বিহীন এ এক অন্যরকম  বৌভাত। দোয়া করি  নতুন এই দম্পতি চির সুখি হবে।

৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. কাওসার আহম্মদ জানান, বাক প্রতিবন্ধিরা সমাজের বোঝা নয়। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অন্য সুস্থ সবল মানুষেরা নতুন কিছু শিখতে পেল।

বর জহিরুল ও কনে জান্নাতুল ফেরদৌস কিং হাতের ইশারায় বুঝাতে চেষ্টা করেন, তাদের সংসার জবান ওয়ালাদের চেয়ে অনেক সুখি হবে। তারা সকলের কাছে  হাতের ইশারায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

এমএইচ

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও