মানিকগঞ্জে ফুলে ফুলে মধু, ব্যস্ত মৌয়ালরা (ভিডিও)

ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

মানিকগঞ্জে ফুলে ফুলে মধু, ব্যস্ত মৌয়ালরা (ভিডিও)

আসাদুজ্জামান লিমন, মানিকগঞ্জ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০২, ২০২০

মানিকগঞ্জের সর্বত্রই এখন হলুদের সমারোহ। বেশিরভাগ ফসলি জমি এখন সরিষা ফুলে ভরে উঠেছে। শীতের আগমনে প্রকৃতি সেজেছে হলুদে আর মৌচাষীরা ব্যস্ত সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে।

বর্তমানে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ আমাদের দেশের একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে মৌ চাষকে পেশা হিসেবে নিয়ে অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে এবং উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জাতীয় উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন শতাধিক খামারি এসেছেন মানিকগঞ্জে।

তারা মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর, সাটুরিয়া, দৌলতপুর, হরিরামপুর, শিবালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মধু সংগ্রহের কাজ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জে বর্তমানে সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌ চাষীরা। এবছর সরিষা ফুল থেকে প্রায় ৮০ টন মধু সংগ্রহ করার লক্ষ্যে সাড়ে তিন শতাধিক মৌ খামারী সরিষা ক্ষেতের আশে পাশে প্রায় ছয় হাজার বাক্স বসিয়েছেন। মধুর বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা।

বাবুল নামের মৌ চাষী জানান, আমরা সাতক্ষীরা থেকে অস্ট্রেলিয়ান ম্যালেফ্রিয়া জাতের মৌমাছির বাক্স নিয়ে সদর উপজেলার মুলজান এলাকার বিভিন্ন সরিষা ক্ষেতের পাশে বসিয়েছি। আমরা এখানে ২ মাস মধু সংগ্রহ করবো। এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার টাকার খুচরা মধু বিক্রি করেছি। আশা করছি আরো এক দেড় লাখ টাকার মধু বিক্রি করতে পারবো।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মৌ চাষী মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় তিন থেকে সাড়ে তিন শতাধিক খামারির প্রায় ১ হাজার লোক এসেছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য। এবার আমরা ঘিওর উপজেলার ঘিওর গ্রামে দেড় শতাধিক মৌমাছির বাক্স বসিয়েছি। সপ্তাহে একবার করে বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকি। প্রতি বাক্স থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজি মধু পাওয়া যায়।

ঘন কুয়াশার প্রকোপ বেশী থাকায় মৌমাছিরা তাদের বাক্স থেকে বের হয়না। এতে মধুও সংগ্রহ কম হচ্ছে।

মৌচাষী বাবু বলেন, আমরা বছরের প্রায় ৬/৭ মাস মধু সংগ্রহ করে থাকি। এবার আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে প্রায় দেড় থেকে দুই টন মধু সংগ্রহ করতে পারবো যার আনুমানিক বাজার মূল্য হবে প্রায় ২ লক্ষ টাকা। মানিকগঞ্জ থেকে ২ মাস সরিষার মধু সংগ্রহের পর ২ মাসের জন্য গোপালগঞ্জে যাব কালজিরার মধু সংগ্রহ করতে, সেখান থেকে পাবনা বা গাজিপুরের লিচু বাগানে সংগ্রহ করবো ১ মাস তারপর ১ মাসের জন্য মধু সংগ্রহে যাব সুন্দরবনে। বাকি ৬ মাস মৌমাছিদের চিনি খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়।

বাগেরহাটের মৌ চাষী মো: ফয়সাল হোসেন জানান, আবহাওয়া ঠিক থাকলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মধু বিক্রি করতে পারব। আমরা খুচরা ও পাইকারী মধু বিক্রি করে থাকি।

ঘিওর উপজেলার মাইলাগী গ্রামে সাতক্ষীরার মৌয়াল মান্নান জানান, এবছর শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশা থাকার কারনে মৌমাছিরা স্বাভাবিকভাবে মধু আহরণ করতে পারছে না। এতে মধুও সংগ্রহ হচ্ছে কম। যদি শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকে তাহলে আমরা গতবছরের চেয়ে অধিক পরিমাণ মধু সংগ্রহ করতে পারবো না।

তিনি আরো জানান, আমরা খুচরা মধু প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে আর কোম্পানির কাছে বিক্রি করি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে যা আমাদের পোষায় না। সরকার যদি মধুর পাইকারি দর ঠিক করে দিত তাহলে আমরা মৌয়ালরা লাভবান হতাম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, এবছর জেলায় সরিষার চাষ বেড়েছে। বেড়েছে মৌচাষীর সংখ্যাও। চলতি মৌসুমে ৮০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা প্রায় চার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মৌচাষীরা আসায় ফলন প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। মৌমাছি শুধু মধুই সংগ্রহ করে না, ফসলের জন্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ মেরে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের সহয়তা করে থাকে।

এএসটি/

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও