অসময়ে নদীভাঙন, সবজি-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

অসময়ে নদীভাঙন, সবজি-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী ২:০৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৯

অসময়ে নদীভাঙন, সবজি-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

রাজবাড়ীতে হঠাৎ দেখা দিয়েছে পদ্মা নদীর ভাঙন। ফলে গোয়ালন্দ উপজেলার নদী তীরবর্তী দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়ার কৃষি ও কৃষি জমির ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিনই ভাঙছে এ অঞ্চলের নানা ধরনের ফসলি জমির ক্ষেত।

ভাঙনের ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে টমেটো, বেগুন, পেয়াজ, সরিষা, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে কৃষি জমি হারাচ্ছে কৃষকরা। অন্যদিকে ফসল নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ছেন এ অঞ্চলে কৃষকরা। নদী ভাঙন রোধে সরকারের হস্তক্ষেপ চাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা মানুষ।

রাজবাড়ীর প্রধান সমস্যাই নদী ভাঙন সমস্যা। নদী ভাঙনের কারণে আস্তে আস্তে ছোট হয়ে আসছে জেলার মানচিত্র। এ বছর নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলার পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া-শাহ মীরপুর, সদরের মিজানপুর, বরাট, গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা, দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হলেও বর্তমানেও অসময়ের নদী ভাঙনে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ৬ থেকে ৭টি গ্রামের মধ্যে কাওয়ালজানি, হোসেন মোল্লার পাড়া, আজাহার মাতব্বার পাড়া, আজিজ সরদার পাড়া, নতুন পাড়া, ব্যাপারী পাড়া ও ধল্লাপাড়ার ফসলি জমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। যদিও ভাঙনের কারণে নতুন পাড়া ও ধল্লা গ্রাম দুটি নদী গর্ভে সম্পন্ন বিলীন হয়ে গেছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।

দৌলতদিয়া দেবগ্রাম নদীকূল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙনে সবজি ফসলের ক্ষতি। এসময় কৃষক জব্বার আলী, সলেমান মোল্লাসহ ভাঙন কবলিত এলাকাবাসিরা বলেন,  হঠাৎ করে পনের দিন ধরে নদী ভাঙনের ফলে কৃষি জমি ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। টমেটো, বেগুন, পেয়াজ, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ব্যাপক ভাবে আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পরেছেন তারা।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলার পাংশার হাবাসপুর থেকে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে পদ্মার ভাঙন রয়েছে। এর মধ্যে পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া-শাহ মীরপুর, সদরের মিজানপুর ও গোয়ালন্দের ছোটভাকলা ও দেবগ্রামের বিভিন্নস্থান ভাঙন কবলিত। এই ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরোধের জন্য রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ডিপিপি প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। যা অনুমোদন হলে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করতে পারবেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াৎ শিপলু বলেন, দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম এ ইউনিয়ন দুটি নদী ভাঙন এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর এ ভাঙন রোধে বিআইডব্লিউটিএ’র মাধ্যমে দৌলতদিয়া ঘাট  থেকে দেবগ্রাম পর্যন্ত নদী ভাঙন রোধে সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বড় ধরনের একটি প্রজেক্টের ডিপিপি জমা দিয়েছেন। আশা করছের আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই এ অঞ্চলে নদী ভাঙন রক্ষায় বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করতে সক্ষম হবেন। ইতমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করে তাদের সাহায্য করেছেন এবং কৃষি খাস জমি বন্দেবস্তের মাধ্যমে তাদের চাষাবাদ ও মাথাগোজার ঠাঁই করার ব্যবস্থা করবেন বলে জানা।

এমএইচএম/জেডএস

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও