কুয়াশায় কাজে আসছে না কোটি টাকার সেই ফগলাইট

ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

কুয়াশায় কাজে আসছে না কোটি টাকার সেই ফগলাইট

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী ৮:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯

কুয়াশায় কাজে আসছে না কোটি টাকার সেই ফগলাইট

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরিতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ফগ অ্যান্ড সার্চলাইট সংযোজন করা হলেও কুয়াশায় তা কোনো কাজেই আসছে না।

ঘন কুয়াশা তো দূরের কথা হালকা কুয়াশায় ফেরি চালাতে এর কোনো ভূমিকা নেই বলে জানান ফেরি চালকরা। 

শীতের মৌসুমে প্রায় প্রতিদিইন ঘন কুয়াশায় বন্ধ থাকছে ফেরি চলাচল, ফলে ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না এ রুটে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন চালকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে প্রতিবছরই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ফেরি খানজাহান আলী, শাহ আলী, কেরামত আলী, ভাষা শহীদ বরকত ও কে-টাইপ ফেরি কপোতি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, শাহ আমানত ও শাহ পরান ফেরিতে ফগ অ্যান্ড সার্চলাইট সংযোজন করা হয়। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে পরীক্ষামূলক এ লাইটগুলো সংযোজন করা হলেও ওই বছরের শীত মৌসুমেও কোনো কাজ করেনি লাইটগুলো। এরপর চার বছর পার হলেও লাইটগুলো মেরামতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

চলতি সপ্তাহের সোমবার রাত সাড়ে ৩টার পর থেকে মঙ্গলবার সাড়ে ৯টা পর্যন্ত, মঙ্গলবার রাত ১১টার পর থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত, বুধবার দিনগত রাত ৩টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৫টা পর্যন্ত দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। ফলে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের তীব্র ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে।

গোলাম মাওলা ফেরির শফি মাস্টারসহ একাধিক ফেরি (ক্যাপ্টেন) চালক পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ‘ফেরিতে যেসব লাইট আছে সেগুলো কুয়াশায় কোনো কাজ করে না। এই লাইট দিয়ে কুয়াশা ভেদ করে কিছুই দেখা যায় না। ফেরি চালাতে হলে নূন্যতম ১ হাজার ফুট সামনে স্পষ্ট দেখতে হয়। কিন্তু এই লাইটে তার কিছুই দেখা যায় না। যে কারণে যখন কুয়াশা পড়ে তখনই ফেরি বন্ধ করে অলস বসে থাকতে হয়। এ বিষয়ে এর আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করে গেছেন কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’

এর একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও জানান তারা ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) পাটুরিয়া ঘাট শাখার ডিজিএম জিল্লুর রহমানের কাছে ফগলাইট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হেড অফিসে কথা বলুন। এ সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও