সব অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা রাজবাড়ীর ৫ উপজেলা চেয়ারম্যানের!

ঢাকা, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

সব অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা রাজবাড়ীর ৫ উপজেলা চেয়ারম্যানের!

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: ২:৪৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

সব অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা রাজবাড়ীর ৫ উপজেলা চেয়ারম্যানের!

রাজবাড়ী জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সকল ধরনের অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন রাজবাড়ীর ৫ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা। রোববার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন।

তবে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারা। আগামীতে তাদের দাবি না মানা হলে পরবর্তীতে প্রশাসনের কোন অনুষ্ঠানে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চেয়ারম্যানরা। নিজ নিজ দায়িত্বে আলাদাভাবে সেসব অনুষ্ঠান পালন করারও ঘোষণা দেন তারা।

রোববার সকাল ১১ টার দিকে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের নিচ তলায় রাজবাড়ী কন্ঠ পত্রিকা অফিসে এ সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা চেয়ারম্যানরা।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ৫ উপজেলা চেয়ারম্যান সভাপতি এ্যাডঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস।

বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, পাংশার ফরিদ হাসান ওদুদ, কালুখালীর আলিউজ্জামান টিটো চৌধুরী ও গোয়ালন্দের উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আসাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে চেয়ারম্যানরা উল্লেখ করেন, উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত হওয়ার কথা জনগণের প্রতিনিধি উপজেলা চেয়ারম্যানদের দ্বারা। অথচ উপজেলার সকল কাজ পরিচালিত করা হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের আমলাদের দ্বারা। এ অনিয়ম থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। না হলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কোন কাজে চেয়ারম্যানরা যাবেন না।

তাদের অভিযোগ, আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের উপজেলা প্রশাসনের ছাপানো চিঠিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের নাম দেওয়া হয়নি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানের বিষয়ে চেয়ারম্যানদের সাথে কোন আলোচনা করেননি। এখানে উপজেলা প্রশাসন নিজেদের মত করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সকল কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন।

চেয়ারম্যানরা আরো অভিযোগ করেন, বিজয় দিবসে উপজেলা চেয়ারম্যানরা রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণ করবে, যা কেবিনেটে সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমন্ত্রণ পত্রে চেয়ারম্যানদের নামই দেওয়া হয়নি। ১৭টি হস্তান্তরিত বিভাগের ফাইল উপজেলা চেয়ারম্যানদের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের পর্যন্ত এসে ফাইল ফেরত চলে যায়। এ বিষয়েও কোন অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনই মনে করেন না উপজেলা প্রশাসন।

আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা, উন্নয়ন সমন্বয় সভাসহ বিভিন্ন সভায় তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না এবং সেখানে থাকে না কোন বসার ব্যবস্থা। নিজেদের মত করে তারা পরিচালনা করেন। এসব বিষয়ের কোন সঠিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সকল ধরনের অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন তারা। তবে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শুধু মাত্র শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠানে যাবেন বলেও চেয়ারম্যানরা জানান। 

এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের অধীনে জমি মিউটেশনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও করেন বক্তারা। এতে করে সাধারণ জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মিউটেশন ও জমি জমা বিষয়ে এসিল্যান্ডদের অপারগতার কথাও বলেন বক্তারা।

উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ইটের ভাটা, চালের ডিলার, উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, হাট বাজারসহ নানা স্থান থেকে অনুষ্ঠানের নামে চাঁদা নেন, কোন অনুষ্ঠান করতে কেন চাঁদাবাজি করতে হবে এসব বিষয়েও তারা কথা বলেন।

এমএইচএম/পিএসএস

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও