বাজারে নতুন পেঁয়াজের দাম না পেয়ে ফিরিয়ে নিল কৃষক
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

বাজারে নতুন পেঁয়াজের দাম না পেয়ে ফিরিয়ে নিল কৃষক

তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর ৭:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

বাজারে নতুন পেঁয়াজের দাম না পেয়ে ফিরিয়ে নিল কৃষক

ফরিদপুর জেলার উৎপাদিত পেঁয়াজের সুখ্যাতি সারা দেশে। এর মধ্যে নগরকান্দা, সালথা, ভাঙ্গা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলায় পেঁয়াজ আবাদ হয় সবচেয়ে বেশি।

এই অঞ্চলে কৃষকের আবাদ করা আগাম জাতের (মুড়িকাটা) পেঁয়াজ পুরোপুরি উঠতে আরো ২ সপ্তাহ সময় লাগলেও বাজারের দাম বেশি থাকায় কৃষক আগেই পেঁয়াজ তোলা শুরু করে।

জেলার নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার হাটগুলোতে গত সপ্তাহে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায়। গতকাল মঙ্গলবারও হাটগুলোতে এই দাম ছিল ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। কিন্তু বুধবার হাটে এই দাম হঠাৎ করেই কমে দাঁড়ায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। হাটে পেঁয়াজ নিয়ে এসে দাম শুনে অনেক কৃষকেরই মাথায় হাত। অনেকেই পেঁয়াজ বিক্রি না করেই বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন।

সালথা উপজেলার ঠ্যানঠেনিয়া হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক সাজ্জাদ মাতুব্বর জানালেন, ‘গত হাটগুলো পাইকাররা বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে গেছে। সেই পেঁয়াজ তারা বিক্রি করতে পারেনি, অনেক পাইকার লোকসান দিয়ে বিক্রি করেছে। যার কারণে আজকে হাটে পাইকাররা আসেনি। যারা আসছে তারা ২ হাজারের উপরে পেঁয়াজ কিনছে না।’

অপর কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর দুইবার বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়নি এই এলাকায়, যেখানে কাঠা প্রতি বছর ৫ মণ ফলন হয় সেখানে এ বছর হয়েছে দেড় থেকে ২ মণ। আর বীজ পেঁয়াজ প্রতিবছর কৃষক কিনে ১৫শ টাকা মণ, এ বছর কিনতে হইছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা মণ। সব মিলিয়ে কৃষকের যে পরিমাণ খরচ এবার হয়েছে তাতে যদি ৩ হাজার টাকার নিচে পেঁয়াজের দাম আসে তাহলে কৃষকের মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।’

আশরাফ নামে আরেক কৃষক জানালেন, ‘অনেকেই হাট থেকে পেঁয়াজ বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গেছে, তিনিও ২ বস্তা পেঁয়াজ এনেছিলেন, দাম কম থাকায় বিক্রি না করে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’

এই হাটের আড়তদার আসলাম জানান, ‘গত হাটে তারা পেঁয়াজ কিনেছেন ৫২শ পর্যন্ত। গতকালও কিনেছেন ৪ হাজার টাকা। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই দাম কমে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকায় নেমে এসেছে।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘কৃষকের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ উঠছে, একই সাথে বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। যার কারণে আমদানি বেশি হওয়াতে ঢাকাসহ অন্যান্য বড় বাজারগুলোতে দাম কমে গেছে। পাইকাররা তো আর পেঁয়াজ কিনে লস করবে না। তাই তারা বেশি দামে পেঁয়াজ কিনছে না।’

তিনি জানান, কৃষকের পেঁয়াজ এখনো পুরোপুরি উঠে নি। পুরো উঠলে এই দাম আরো কমবে। তিনি স্বীকার করেন, এই দামে কৃষকের বেশ লোকসান গুনতে হবে।

প্রদীপ কুমার সরকার নামে আরেক কৃষক জানালেন, ‘সরকার তো কৃষকের কোনো মূল্যায়ন করে না। কৃষকের পেঁয়াজ যখন বাজারে উঠছে, তখন আমদানি করার দরকারটা কি। পেঁয়াজ আমদানি না করলে বাজার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকবে, তাতে কৃষকেরও যেমন লস হবে না, সাধরাণ মানুষের কাছেও দাম খুব বেশি হবে না।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৩ জাতের পেঁয়াজ- হালি পেঁয়াজ, আগাম পেঁয়াজ (মুড়ি কাটা) ও দানা পেঁয়াজ বা বীজ পেঁয়াজ মিলে আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর শুধুমাত্র মুড়ি কাটা পেঁয়াজই আবাদ হয়েছিল সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এ বছর সব মিলে আবাদ ও উৎপাদন দুই ক্ষেত্রেই লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষি বিভাগের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ‘আগাম জাতের পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। পুরোপুরি উঠলে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামে যে অস্থিতিশীল অবস্থা রয়েছে তা কেটে যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কৃষকের যাতে লোকসান না হয় সেজন্য এ বছর পেঁয়াজ মৌসুমে বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে না। কৃষি অধিদপ্তর ও কৃষিমন্ত্রী সেই উদ্যোগেই কাজ করছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ফলন কম হলেও কৃষকদের এ বছর লোকসান হবে না।’

এদিকে পেঁয়াজের এই মূল্যহ্রাস ও এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়তে আরো দু-একদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ব্যাবসায়ীরা।

টিআইএইচ/এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও