এড্রিক বেকারের মাটির হাসপাতালে আমেরিকান ডাক্তার দম্পতি (ভিডিও)

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

এড্রিক বেকারের মাটির হাসপাতালে আমেরিকান ডাক্তার দম্পতি (ভিডিও)

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

মানুষ যেখানে দেশ ছেড়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত, ঠিক তখনই বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে বাংলাদেশের এক পাহাড়ি বনাঞ্চলে মানুষের সেবা করতে এসেছেন আমেরিকান এক ডাক্তার দম্পতি। তাদের মতো আরো একজন গরিবের চিকিসৎক ডাক্তার এড্রিক বেকার।

নিউজিল্যান্ডের এই মানবদরদি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা কালিয়াকুড়ি গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন গরিবের জন্য ‘কাইলাকুড়ী স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র’ নামে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।

প্রায় ৩৬ বছর গ্রামের হতদরিদ্র মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেন এড্রিক। এদেশে মানুষের ভালোবাসায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এলাকায় সবাই তাকে ভালোবেসে ডাকতো ‘ডাক্তার ভাই’ নামে।

ডা. এড্রিক বেকার দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে চাইলে তিনি যাননি। তিনি যে ঘরে বসবাস করতেন সেই ঘরের বারান্দায় তার লাশ দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুর পর অনেকটা অসুবিধায় পড়তে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তিনি মৃত্যুর আগে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশি কোনো চিকিৎসক গ্রামে এসে তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের হাল ধরুক। কিন্তু দেশের একজন চিকিৎসকও তাতে সাড়া দেননি। সাড়া দিয়েছেন আমেরিকান চিকিৎসক জেসন ও মারিন্ডি।

পরে ডা. বেকার মারা যাওয়ার পর তার হাসপাতালের পরিচালনায় আছে আমেরিকা থেকে ছুটে আসা আরেক ডাক্তার দম্পতি জেসন এবং মেরিন্ডি। বেকার জীবিত থাকা অবস্থায় জেসন এই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছিলেন। কিন্তু যখন ডা. বেকারের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি অস্থির হয়ে ওঠেন, কিন্তু তার বিভিন্ন ব্যস্ততায় তখন আসতে পারেননি। অবশেষে নিজের দেশ আমেরিকা এবং সম্পদ ও সকল সুখ ত্যাগ করে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে চলে আসেন। শুধু নিজেরা যে এসেছেন তা না। নিজেদের সন্তানদেরও সাথে করে নিয়ে এসেছেন। ভর্তি করে দিয়েছেন গ্রামেরই স্কুলে। গ্রামের শিশুদের সঙ্গে খেলছে শিশুরা।

দম্পতি  জেসন এবং মেরিন্ডির চারটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। ডাক্তার জেসিন কী সুন্দর করে লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর গ্রামে জেসন হয়ে উঠেন নতুন ‘ডাক্তার ভাই’ এবং মেরিন্ডি হয়ে উঠেন নতুন ‘ডাক্তার দিদি’। তারা দুজন নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আর এতে হাসপাতালে চলে আসে প্রাণচাঞ্চল্য। এ হাসপাতালে টাঙ্গাইল ছাড়াও ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলার রোগীরা আসেন চিকিৎসাসেবা নিতে।

এলাকাবাসী জানায়, তাদের নতুন ডাক্তার ভাই (জেনস) অবসর সময়ে লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়ান। তিনি একটি মাটির ঘরে বসবাস করেন এবং সবার সঙ্গেই সহজে মেশেন। তারা বাংলাদেশের ফল অনেক ভালোবাসেন, বাংলায় কথা বলতে পারেন। তাদের সন্তানদের বাংলা ভাষা শেখাচ্ছেন। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন। সেই সাথে মানুষের চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি ডা. জেসন গ্রামের রাস্তায় লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়ান, সহজেই মিশে যান গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের সঙ্গে। গ্রামে থাকার কারণে তারা তাদের খাদ্যাভাসও পাল্টে নিয়েছেন। এখন তাদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশি ফলমূল ও সবজি জাতীয় খাবার। গ্রামের মানুষদের সঙ্গে মিশতে মিশতে শিখে ফেলেছেন বাংলা ভাষা। এখন তারা সুন্দরভাবে বাংলায় কথা বলতে পারেন। শুধু তারা নয়, সন্তানদেরও বাংলা ভাষা শেখাচ্ছেন এই ডাক্তার দম্পতি। তাদের ইচ্ছা যতদিন সম্ভব এই হাসপাতালে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন।

কাইলাকুড়ী স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক পিজন নংমিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ডাক্তার ভাই ১৯৮৩ সালে মধুপুরে কাজ শুরু করেন। প্রথম দিকে এ এলাকার মানুষ বিভিন্ন রোগে মানুষ মারা যেতো। কিন্তু এখন আমরা এ রোগগুলো মনে করি খুব সাধারণ, কিন্তু ওই সময়ে মরণব্যাধী ছিল। তিনি এ এলাকায় স্বাস্থ্য আন্দোলন শুরু করার চেষ্টা করেন। তিনি মনে করতেন এসব রোগে থেকে মানুষ কেন মারা যাবে। তারপর দেখা যায়, দিন দিন এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বড় হতে থাকে।’

তিনি জানান, ‘কাইলাকুড়ী এ হেলথ কেয়ার প্রজেক্টে ১৯৯৬ সালে তিনি সাব সেন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে এটি বড় হতে থাকে। বর্তমানে এ এলাকার মানুষ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। আমরা এখানে শুধুমাত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা করি, মেজর কোনো কিছু করি না। মেজর কোনো কিছু থাকলে তাদেরকে আমরা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পাঠায়। এখানে ৯০ জন স্টাফ, দুজন দেশি, দুজন বিদেশি ডাক্তার রয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডা. এড্রিক বেকার যিনি এই এলাকার মানুষের কাছে ডাক্তার ভাই নামে পরিচিত তিনি মারা যাওয়ার পর আমরা অনেক সমস্যার মধ্যে পড়ে যাই। হাসপাতালে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে ডাক্তার দম্পতি এসে হাসাপাতালের চিকিৎসা দিতে শুরু করে। বর্তমানে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন হাসপাতালটি কীভাবে আরো সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়। গরিব মানুষ কীভাবে আরো স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে তারা এই বিষয়টির ওপর বেশি নজর দিচ্ছেন। এখানে শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয় অনেক বিষয় দেখতে হয়। সবাই মিলে আমরা চেষ্টা করছি এ প্রতিষ্ঠারনকে কীভাবে আরো কার্যকরী ভালো সেবা দিতে পারি এলাকার মানুষের জন্য। গরিব রোগীরা বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় তার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’

ওই হাসপাতালের ডা. নুরুন নাহার সুমি বলেন, ‘আমি গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের একজন ডাক্তার। আমাদের হাসপাতাল থেকে ২ মাস পর পর এখানে ডাক্তার পাঠায়। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমি ৪ মাস যাবত কাজ করছি। নতুন ডাক্তার দম্পতির সাথে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। তাদের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের অভিজ্ঞতা অনেকটাই আলাদা। তাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আর আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আমরা একে অপরের সাথে আলোচনা করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকি। এতে রোগীরা অনেক ভালো চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন।’

ওই হাসপাতালের বুদ্ধি ইনচার্জ বলেন, ‘আমি এখানে ১৯ বছর কাজ করছি। আমাদের যে ডাক্তার ভাই ছিলেন তার মৃত্যুর পরে আমাদের ওপর দায়িত্ব চলে আসে। পরে আমেরিকা থেকে দম্পতি এসে এ হাসপাতালের কাজ শুরু করে। ডাক্তার এড্রিক বেকার ভাই যেভাবে মানবসেবা করতেন, তারাও সেভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’ 

হাসপাতালের স্টাফ ও নতুন ডাক্তাররা বলেন, ‘বিদেশি ডাক্তারদের সাথে কাজ করতে অনেক ভালো লাগছে। সাধারণ মানুষদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সবকিছু ত্যাগ করে আমাদের দেশে এসেছেন। তাদেরকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমারা তাদেরকে সব সময়ই সহযোগিতা করছি।’ 

জামালপুর থেকে আসা এক রোগী বলেন, ‘আমার পায়ের সমস্যা নিয়ে এখানে আসি।  প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারি কাইলাকুড়ী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা অনেক ভালো। আসার পর ডাক্তাররা আমাকে চিকিৎসা দেয়। তাদের সেবা নিয়ে আমি ভালো আছি।’

ঢাকা থেকে আসা এক রোগী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পেরে আমি এ হাসাতালের এসেছি। এখানকার চিকিৎসা অনেক ভালো। আমি একটি সমস্যা নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছি।’ 

এক নারী বলেন, ‘আমার মেয়ের কিডনিতে সমস্যা। কাইলাকুড়ী এ হাসাতালে ১ বছর ধরে আমার মেয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এখান হাসতালের চিকিৎসার মানও যেমন ভালো, ডাক্তারও খুবই ভালো। খাওয়া-দাওয়া এবং থাকার কোনো কষ্ট নেই।’ 

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী ও স্বজনরা বলেন, ‘এ হাসপাতালে যে ডাক্তার আছেন তারা অনেক ভালো। তাদের চিকিৎসার কারণে আমরা এখন অনেক সুস্থ।’

মধুপুরের কালিয়াকুড়ি গ্রামের গরিবের হাসপাতালের ডা. জেসন বলেন, “ডা. এড্রিক বেকার বেঁচে থাকার সময় কালিয়াকুড়ির হাসপাতালটিতে আমি পরিদর্শনে এসেছিলাম। পরে ডাক্তার ভাইয়ের (এড্রিক) মৃত্যুর খবর শুনি। কিন্তু তখন নিজের প্রশিক্ষণ ও ছেলে-মেয়েরা ছোট থাকার কারণে আসতে পারিনি। অবশেষে সবকিছু গুছিয়ে সম্পদ আর সুখের মোহ ত্যাগ করে ২০১৮ সালে পুরো পরিবার নিয়ে আমেরিকা ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে আসি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। আর আমরা ‘নতুন ডাক্তার ভাই’ ও ‘মারিন্ডি দিদি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠি।” 

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রামের স্কুলে আমাদের সন্তানদের ভর্তি করে দিয়েছি। তারা গ্রামের শিশুদের সঙ্গে পড়ালেখা ও খেলাধুলা করে।’

এখানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। গরিব মানুষদের জন্য কাজ করছি। এখানে অনেক কর্মী এবং রোগী রয়েছে। ডাক্তার ভাইয়ের মতো আমরাই গরিব মানুষদের জন্য কাজ করতে চাই।’ 

তিনি আরো বলেন, “প্রথমে ভাষা শিখতে শুরু করি। ভাত আর পাঙ্গাশ মাছ খাওয়া রপ্ত করেছি। বাঙালি পোশাক পরতে আমরা দুজনেই ভালোবাসি। ডাক্তার ভাই যে পদ্ধতিতে হাসপাতাল চালাতেন, আমরা সে পদ্ধতিই অনুসরণ করছি। এখানে সবাই আন্তরিক। তবে নিউজিল্যান্ড থেকে টাকা আসা কমে গেছে। ডাক্তার ভাই বলে গেছেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব গড়তে হবে। তবেই মানুষ কাছে আসবে। বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে ‘ডাক্তার ভাই’, ‘গরিবের ডাক্তার’ ‘হিসেবেই চিনতো।” 

জানা যায়, ১৯৪১ সালের ১২ আগস্ট নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে এড্রিক বেকারের জন্ম। তিনি ওটাগো মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করে চিকিৎসা দিতে চলে যান যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনামে। পরে বিভিন্ন দেশ ঘুরে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে চলে আসেন।

টাঙ্গাইলের মধুপুরের প্রত্যন্ত পাহাড়িয়া এলাকায় চিকিৎসা বঞ্চিত দরিদ্র লোকদের দেখে তার মন কেঁদে ওঠে। পরে সেখানে দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘কাইলাকড়ী স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র’। হাসপাতালের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।

তিনি মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করে সারাজীবন থেকে যান চীরকুমার। গরিবের ডাক্তার হিসেবে খ্যাত এই মহান ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালে নাগরিকত্ব প্রদান করে।

হাসপাতালটি যেমন

চার একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠত ছোট ছোট ২৩টি ঘর আছে হাসপাতালের। সবই মাটির ঘর। এখানে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থাও আছে। সেবার মান ভালো, তাই রোগীর ভিড় সব সময় থাকে। প্রতিষ্ঠাতা এড্রিক বেকার ছিলেন নিউজিল্যান্ডের মানুষ। মারা যাওয়ার পর বেকারকে হাসপাতালে তাঁর থাকার ঘরেই সমাহিত করা হয়। তাঁর দুই বোন হিলারি ও হিল্ডা মাঝে মধ্যে এসে হাসপাতালটি দেখে যান। অর্থ সাহায্যও দিয়ে যান তারা। হাসপাতালটিতে ডায়াবেটিস বিভাগ, যক্ষ্মা বিভাগ, মা ও শিশু বিভাগ এবং ডায়রিয়াসহ ৭টি বিভাগ রয়েছে। ৪০ জন রোগী এখানে ভর্তি থাকতে পারে। এখানে বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১০০ রোগী দেখা হয়। বহির্বিভাগে নতুন রোগী এলে টিকিট কাটতে হয়। নতুন রোগীর জন্য টিকিটের মূল্য ২০ টাকা, পুরাতনদের জন্য ১০ টাকা করে ফি নেয়া হয়। রোগ নির্ণয় শেষে নামমাত্র মূল্যে ওষুধ দেয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ভর্তি করে নেয়া হয়। আছে জরুরি বিভাগও।

এড্রিক বেকারের মন কাঁদতো যে জন্য

১৯৭১ সালে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানিদের অত্যাচারের নানা ছবি দেখে বেকারের মন কাঁদত। বেকার বাংলাদেশে আসার সংকল্প করেন। তখন তিনি ভিয়েতনামে ছিলেন একটি চিকিৎসক দলের সদস্য হিসেবে। ডিসেম্বরে বিজয়ের খবরের শুনে তিনি খুশি হন। বেকারের জন্ম ১৯৪১ সালে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে। তাঁর বাবা ছিলেন পরিসংখ্যানবিদ। মা শিক্ষক। চার ভাই, দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় এড্রিক। ডানেডিন শহরের ওটাগো মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে এমবিবিএস পাস করেন। পরে ওয়েলিংটনে ইন্টার্নি শেষে চলে যান যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনামে।

বেকার ট্রপিক্যাল মেডিসিন, গাইনি ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে পড়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট হন। ১৯৭৬ সালে পাপুয়া নিউগিনি ও জাম্বিয়ায় যান। কিন্তু কোথাও মন টেকেনি। বাংলাদেশে এসে বেকার প্রথমে মেহেরপুর মিশন হাসপাতালে প্রায় দুই বছর কাটান। তারপর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ৮ মাস কাজ করেন। বেকারের বড় কোনো হাসপাতালে কাজ করার ইচ্ছা কখনো ছিল না। ইচ্ছা ছিল প্রত্যন্ত গ্রামে কাজ করার। সে চিন্তা থেকেই চলে আসেন টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় এলাকায়। জলছত্র খ্রিস্টান মিশনে এক বছর থেকে বাংলা ভাষা শিখেছেন। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে এক পাহাড়ি এলাকায় কালিয়াকুড়ি গ্রাম। এখন সেখানেই চলছে বেকারের মাটির হাসপাতাল।

যেভাবে যাবেন

এ হাসপাতালটি দেখতে চাইলে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেলা সদরে আসতে হবে। টাঙ্গাইল সদর থেকে মধুপুর ৫০ কিলোমিটার এবং মধুপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হাসপাতালটি। মধুপুর উপজেলায় এসে অটো বা সিএনজি ভাড়া নিয়ে সহজেই এ হাসপাতালে যেতে পারবেন।

ঢাকা থেকে হাসপাতালে যাওয়ার উপায়

গাবতলী, মিরপুর, মহাখালী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বাসে করে মধুপুর পর্যন্ত যাওয়া যায়। মধুপুর থেকে সিএনজি ও অটোরিকশা করে এ হাসপাতালে যেতে হবে।

এইচআর

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও