স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভপাত, স্বামী কারাগারে

ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভপাত, স্বামী কারাগারে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৯:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভপাত, স্বামী কারাগারে

টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর তলপেটে লাথি মেরে গর্ভপাত করার অভিযোগে স্বামী ইসমাইল হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার দিনগত রাতে উপজেলার শৌখিন মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ইসমাইল হোসেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার তেজপুর গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে। ২০০৮ সালে সখীপুর উপজেলার বেরিখোলা গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে নাজমুন্নাহারকে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন ইসমাইল।

সোমবার বিকেলে স্ত্রী নাজমুন্নাহার বাদী হয়ে গর্ভের সন্তানের ভ্রুণ নষ্ট করা ও যৌতুক আইনে সখীপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই ইসমাইল যৌতুকের দাবি করে আসছে। ইতিমধ্যে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে দুটি মোটরসাইকেল যৌতুক হিসেবে দেয়া হয়েছে। এরপর বিদেশ যাওয়ার জন্য যৌতুক চেয়ে বায়না ধরলে ৮ লাখ টাকা খরচ করে তাকে বিদেশে পাঠানো হয়। ৬ মাস বিদেশে অবস্থান করে দেশে চলে এসেই আবার ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।

নাজমুন্নাহারের মা কোহিনুর বেগম বলেন, যৌতুক না পেয়ে আমার মেয়েকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত। গত ১৫ আগস্ট বিকেলে ইসমাইল হোসেন আমার মেয়েকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তলপেটে লাথি মারলে মেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে পরিবারের লোকজন প্রথমে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে দুইদিন চিকিৎসা নেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে নাজমুন্নাহারকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা আল্ট্রাসনোগ্রাম করে গর্ভপাতের বিষয়টি নিশ্চিত করলে নাজমুন্নাহার সখীপুর থানায় মামলা করেন।

সখীপুর থানার এসআই আজিজুল ইসলাম বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদনে গর্ভপাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে থানায় মামলা করলে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। 

এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও