বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি!

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি!

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৮:৪২ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৮

print
বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি!

মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জে ডিএনডির ভেতর ও বাহিরের বিভিন্ন সড়কে কখনো হাঁটু পানি আবার কখনো কোমর সমান পানিতে ডুবে থাকে। বৃষ্টিতে সোমবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতায় বিপাকে নারায়ণগঞ্জবাসী।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, যে কোনো দুর্ঘটনায় যারা সহযোগীতায় এগিয়ে আসে সে ফায়ার কর্মীদের ফতুল্লা ষ্টেশন এখন ৪ ফুট পানিতে ডুবে আছে। গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ফায়ার কর্মীরা ষ্টেশনের অদূরে খোলা আকাশের নিচে জরুরী ডাকের অপেক্ষায় বসে থাকে। অপরিকল্পিতই ভাবে তৈরী করা ওই ফায়ার ষ্টেশন অল্পবৃষ্টি হলেই হাঁটু পানিতে ডুবে যায়। কারণ ওই ষ্টেশনে পানি নিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।



এদিকে নারায়ণগঞ্জের এই জলাবদ্ধতা নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে ছবি আপলোড করেছেন। এতে অনেকের ছবিতে নানা কমেন্ট পড়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেকেই নানা দিক তুলে ধরেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ডিএনডির বাহিরে নারায়ণগঞ্জের শিল্পনগরী বিসিক এলাকায় ফতুল্লা ফায়ার ষ্টেশন গত বছরের শেষের দিকে উদ্বোধন করা হয়। এই ষ্টেশনের চার পাশে রয়েছে বিসিক শিল্পনগরীর শত শত কলকারখানা। এছাড়াও আশপাশে রয়েছে কয়েক হাজার বাসা বাড়ি। এসব বাড়িতে বিসিকে কর্মরত শ্রমিকরা বসবাস করেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বিসিকসহ আশপাশের এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো সময় আশপাশে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের ফতুল্লা ষ্টেশনের সহযোগীতা তাৎক্ষণিক পাওয়াও সম্ভব নয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

এছাড়া ফতুল্লায় ডিএনডির ভেতরে ও বাহিরে প্রতিটি এলাকাতেই বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাসা বাড়ি, কল কারখানা ও হাট বাজারে জমেছে হাঁটু পানি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে অনেক মসজিদ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সোমবার সকাল থেকেই জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ-পরিচালক মামুনুর রশিদ জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং আশপাশে ডোবা নালা বালি দিয়ে ভরে ফেলায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই ফতুল্লা ফায়ার ষ্টেশনের। ফলে অল্পবৃষ্টি হলেই ফায়ার ষ্টেশনে হাঁটু বা তার উপরে পানি জমে। এতে কাজ কর্মে যাতে বাধা সৃষ্টি না হয় এ জন্য ষ্টেশন থেকে গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বের করে কিছুটা দূরে উঁচু স্থানে নিয়ে রাখা হয়েছে। ফায়ারকর্মীরাও সেখানে বসে থাকে। সেখান থেকে অপারেশন পরিচালনা করা হয়। আর বিশ্রামের সময় পানি দিয়ে হেটে ষ্টেশনের দুতলায় গিয়ে বিশ্রাম করেন ফায়ারকর্মীরা।



তিনি আরো জানান, ষ্টেশনের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসককে লিখিত ভাবে জানিয়েছি এবং স্থানীয় এক শিল্পপতি বলেছে ষ্টেশনের ভবনটি মাটি ফেলে উঁচু করে দেবে।

এদিকে এমডি মুন্নার ফেসবুক প্রোফাইলে ফতুল্লার বিসিক, ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের শাসনগায়ে সড়কে বেহাল অবস্থার কয়েকটি ছবিসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ হাঁটু পানিতে ডুবে থাকার একটি ছবি আপলোড করেছে।

রফিকুল ইসলাম জীবন তার প্রোফাইল থেকে ইসদাইর, গাবতলি এলাকার জলাবদ্ধতার কয়েকটি ছবি আপলোড করেছে।

দিলিপ কুমার মণ্ডল তার প্রোফাইল থেকে এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদ হাঁটু পানিতে ডুবে আছে একটি ছবি ফেসবুকে আপলোড করেছে।

অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় কলকারখানার পানিতে ময়লা পানিতে শত শত মুসল্লিরা নামাজ পড়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শফিকুল ইসলাম জনির প্রোফাইল থেকে ইসদাইর বাইতুল মামুল জামে মসজিদ পানিতে ডুবে থাকার একটি ছবি আপলোড করে দুর্ভোগের কথা বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।

এছাড়া আরো অনেকেই ফেসবুকে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরে তা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।

এপি/এসএফ

 
.




আলোচিত সংবাদ