নরসিংদীতে পাঁচ বছরে প্রাণ হারিয়েছে ১৪০ জন

ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

নরসিংদীতে পাঁচ বছরে প্রাণ হারিয়েছে ১৪০ জন

লক্ষন বর্মন, নরসিংদী ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

print
নরসিংদীতে পাঁচ বছরে প্রাণ হারিয়েছে ১৪০ জন

মরনফাঁদ হয়ে উঠেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। নরসিংদী জেলার ৪০ কিলোমিটার সড়কে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা নামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়েও কাজে আসছেনা। দুর্ঘটনায় নরসিংদী সড়কে প্রায়ই রক্তাত হয়। এই মহাসড়কের মাধবদীর কান্দাইল থেকে রায়পুরা মাহমুদাবাদ পর্যন্ত চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।

অসংখ্য অন্ধ বাঁক, একলেনে চলাচল, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। মাঝে মাঝে কিছু এলাকায় তিনচাকার যানবাহন চলাচল এবং রাস্তার মাঝে কোন ডিভাইডার না থাকায় ঘটছে এসব দুর্ঘটনা।

হাইওয়ে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী অংশে সরকারি হিসেবে নিহত হয়েছেন ৪২ জন। দুর্ঘটনার কারনে মামলা হয়েছে ২৬টি। আর গত পাঁচবছরে এই সড়কে দুঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৪০ জন।

নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং গাড়ির চালক রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭০ ভাগই পথচারী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আর ৩০ ভাগ চালক, যাত্রী অথবা অন্যান্য।

এছাড়া অনেক দুর্ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। স্বজনদের লাশ যাতে কোনো কাটা ছেঁড়া না করতে হয় সেজন্য পরিবার পক্ষ থেকে মামলা হয়নি।

দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাগুলোর লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিহতের সংখ্যা প্রকৃত হিসেবে আরো অনেক বেশি। অনেক সময় দুর্ঘটনার পরপরই স্বজদের লাশ নিয়ে চলে যায় পরিবারগুলো।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার সাথে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীর সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া এই পথ দিয়ে ভারতের ত্রিপুরার সড়ক যোগাযোগ রয়েছে।

অসংখ্য বাস প্রতিনিয়ত ওইপথে চলাচল করে থাকে। সেই সঙ্গে ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, বেপরোয়া মোটর সাইকেল ইত্যাদি যানবাহন। আর আছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ লেগুনা। যার বেশিভাগ কমবয়সি ও লাইসেন্সবিহীন চালক। মাঝে মাঝে হেলপার দিয়েও এসব লেগুনা সার্ভিস চলাচল করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৫টি অন্ধ বাঁক রয়েছে।

দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে প্রথমে মাধবদীর কান্দাইল বাজার, চৈতাব এলাকার ড্রিম হলিডে পার্ক, পাঁচদোনা পুলিশ ফাড়ি, শীলমান্দি পালবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, ভেলানগর জেলখানা মোড়, জেলা পরিষদ মোড়, শিবপুরের কারারচর, সৈয়দনগর ও শহীদ মিনার, সোনাইমুড়ি, শ্রীফুলিয়া, সৃষ্টিগড়ের হাজীবাগান মরজাল বাসস্ট্যান্ড এবং নীলকুটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রায় প্রতিটি স্থানে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা নামের নির্দেশিকা রয়েছে।

সড়কের দু’স্থানে ব্যতিক্রম বাদে আর কোথাও কোনো ডিভাইডার নাই। সড়কের দুপাশে কোথাও পড়ে রয়েছে সারিসারি পল্লীবিদ্যুতের খাম্বা অথবা কোথাও বিভিন্ন রকমের নির্মাণ সামগ্রী।

মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় ওভারটেকিং করায় দুর্ঘটনার হার বেশি। শুধু তাই নয় চালকেরা আগে যাবার আশায় প্রতিনিয়ত ওভারটেকিং করেন। চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে বলে অভিযোগ পথচারীদের।

কান্দাইল এলাকার পথচারী আলমগীর হোসেন বলেন, ড্রাইভার সবাই শুধু আগে যাইতে চায়। আগে গেলে যাত্রী বেশি পাইব। এই বেশি পাইবার আশায় চিকন রাস্তায় ওভারটেক করতে গিয়া এক্সিডেন্ট হয়।

মহাসড়কের কারারচর এলাকার ব্যাপারে দোকানদার তাজুল ইসলাম তার নিজ চোখে দেখা দুর্ঘটনার কথা বলেন, এই রাস্তাটা অনেক বাঁকাত্যাড়া (বাঁক বেশি)। গতবছর আমার দোকানের সামনে হানিফ পরিবহন ও মেঘালয় পরিবহন মুখমুখি সংঘর্ষে গাড়িতে আগুন লেগে যায়। এই ঘটনার হানিফ পরিবহনের চালক স্টিয়ারিংয়ে হাত আটকে যায়। অনেক যাত্রীকে বের করা গেলেও আগুন লাগার কারনে চালককে আর বের করা যায়নি। চোখের সামনে একটা জীবন্ত মানুষ পুড়ে মারা গেল। চালকসহ সেইদিন ৬ জন মারা গেছে।


নরসিংদী সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তাফা মিয়া বলেন, এই মহাসড়কে পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। জেলখানার মোড়ে একটি ওভারব্রিজ ছাড়া আর কোথাও নেই। খুব ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। বিভিন্ন যানবাহনের চালকরাও খুব দ্রুতগতিতে গাড়ি চালান। চালকদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া খুব জরুরি।

ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কোনো ডিভাইডার না থাকায় চালকরা ওভারটেকিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। কিছু কিছু স্থানে ব্লাইন্ড টার্নিং (অন্ধ বাঁক) থাকায় চালকরা সামনের যানবাহন দেখতে পান না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারনে কখনো কখনো চালকদের আটক করা গেলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের তদবিরের কারনে তাদের শাস্তি দেওয়া যায়না। এতে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।

এফবি/

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad