সেই দুঃস্মৃতি মুছতে পারবেন তামিম-মাহমুদউল্লাহ?

ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

সেই দুঃস্মৃতি মুছতে পারবেন তামিম-মাহমুদউল্লাহ?

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

সেই দুঃস্মৃতি মুছতে পারবেন তামিম-মাহমুদউল্লাহ?

বাংলাদেশ সর্বশেষ পাকিস্তান সফর করেছিল ২০০৮ সালে। পূর্ণাঙ্গ সফরে সেবার পাকিস্তানে একটিই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বে ২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল করাচিতে খেলা সেই ম্যাচটি বড়সড় একটা দুঃস্মৃতি হয়ে আছে বাংলাদেশের জন্য।

রানের হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে এখনো সেটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হার। পাকিস্তানের ৫ উইকেটে করা ২০৩ রানের জবাবে ১০১ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ ম্যাচটা হেরেছিল ১০২ রানে! যন্ত্রণার সেই দুঃস্মৃতি হয়তো এখনো পোড়ায় তামিম-মাহমুদউল্লাহকে।

বাকিদের বাদ দিয়ে শুধু তামিম ও মাহমুদউল্লাহর নাম বলার কারণ, পাক্কা এক যুগ পর আবার সেই পাকিস্তান সফরে গেছে বাংলাদেশ। আর এবারের বাংলাদেশ দলে আছেন শুধু সেই ম্যাচে খেলা বাংলাদেশের দলের এই দুজন-তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যে ম্যাচটিতে তামিম করেছিলেন ২৩ রান, মাহমুদউল্লাহ ২।

১২ বছর পর আজ আবার যখন সেই পাকিস্তানের মাটিতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামবেন, নিশ্চিতভাবেই তামিম-মাহমুদউল্লাহর স্মৃতিতে হানা দেবে করাচির সেই অসহায় আত্মসমর্পনের করুণ স্মৃতি।

শুধু সেই ম্যাচে খেলার কারণে নয়, এবারের পাকিস্তান সফরকারী বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও তারা দুজন। দলের সবচেয়ে বড় ভরসাও। নিষেধাজ্ঞার কারণে সাকিব আল হাসান নেই। দলে নেই মুশফিকুর রহিমও। মাশরাফি বিন মুর্তজা তো টি-টোয়েন্টিটা ছেড়েই দিয়েছেন।

ফলে তারুণ্য নির্ভর দলটিকে পথ দেখাতে হবে তামিম এবং মাহমুদউল্লাহকেই। পালন করতে হবে বড় ভাইয়ের ভূমিকা। কাঁধে তুলে নিতে হবে নেতার দায়িত্ব। তামিম-মাহমুদউল্লাহ ব্যাপারটি অনুধাবনও করতে পারছেন। ফলে দলের সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য হিসেবে তামিম-মাহমুদউল্লাহ দায়িত্ব নিতে তৈরি।

পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ স্পষ্ট করেই বলেছেন, দলের দায়িত্ব ভার বহনের জন্য তৈরি তারা। মাহমুদউল্লাহ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। তবে অধিনায়কগিরির বাইরে বড় ভাই হয়েও দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত তিনি।

তামিম-মাহমুদউল্লাহ পারবেন, সঠিক দিক-নির্দেশনার মাধ্যমে তরুণ দলটিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে? পারবেন করাচির সেই দুঃস্মৃতি মুছে ফেলে পাকিস্তানের মাটিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়ের ইতিহাস গড়তে?

তামিম-মাহমুদউল্লাহরা আজ জয়ের পরিকল্পনা নিয়েই নামবেন মাঠে। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি মোটেই বাংলাদেশের অনুকূলে নয়। নিরাপত্তার সংশয় বুকে নিয়েই গতকাল পাকিস্তানে গিয়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। সেখানে অবশ্য কড়া নিরাপত্তাই দেওয়া হচ্ছে তাদের। যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাটাও বাংলাদেশ দলের জন্য বড় একটা জুজু।

পেছনে পুলিশ, সামনে পুলিশ। হোটেলে পুলিশ, রাস্তায় পুলিশ, স্টেডিয়ামের গেটে, ভেতরে বাহিরে স্বসস্ত্র সেনাবাহিনী-নিরাপত্তার কড়াকাড়িতে তামিম-মাহমুদউল্লাহদের মনে  হতে বাধ্য, ক্রিকেট খেলতে নয়, যেন যুদ্ধ করতে এসেছেন তারা! এই যুদ্ধ যুদ্ধ পরিবেশে তামিমরা খেলায় কতটা মনো সংযোগ ধরে রাখতে পারবেন, নিজেদের কতটা উজাড় করে দিতে পারবেন, সংশয় থাকছেই।

আজ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে তামিম-মাহমুদউল্লাহদের প্রতিপক্ষ থাকতে ক্লান্তিও। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিপিএলে খেলায় ব্যস্ত ছিল। সেই ব্যস্ততা শেষ হয়েছে ১৭ জানুয়ারি। এরপর তিন দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প সেরে, গতকালই পাকিস্তানে পা রেখেছে। বিমান ভ্রমণের ক্লান্তিটা এখনো তাদের শরীর থেকে পুরোপুরি দূর হওয়ার কথা নয়। এরই মধ্যে আজ নেমে পড়তে হচ্ছে মাঠে।

তবে চ্যালেঞ্জ যত বেশি, তার রোমাঞ্চটাও বেশি। তামিমরা যদি চ্যালেঞ্জগুলোকে রোমাঞ্চ হিসেবে নিতে পারে, তাহলে ইতিবাচক ফলের আশা করাই যায়।

উল্লেখ্য, এবারের প্রথম যাত্রায় বাংলাদেশ দল ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে পাকিস্তানে। আজ সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায়। সিরিজের ৩টি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। সেখান থেকে আজকের ম্যাচটা সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি ইএসপিএন।

কেআর

 

খেলাধুলা: আরও পড়ুন

আরও