ভারত সিরিজে বদলে যাচ্ছে ‘নো-বল’র যে নিয়ম

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

ভারত সিরিজে বদলে যাচ্ছে ‘নো-বল’র যে নিয়ম

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

ভারত সিরিজে বদলে যাচ্ছে ‘নো-বল’র যে নিয়ম

সম্প্রতি নতুন নতুন নিয়ম চালু করায় বেশ সরব আইসিসি। ক্রিকেটকে বিতর্কমুক্ত করতে পুরোনো নিয়ম বাতিল করে প্রতিনিয়তই চালু করছে নতুন নতুন নিয়ম। আজ শুক্রবার থেকে যেমন পরীক্ষামূলকভাবে বদলে যাচ্ছে ‘নো-বলের’ একটি নিয়ম!

আজ হায়দ্রাবাদে শুরু হচ্ছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর মাঠে গড়াবে দুই দলের ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই দুটি সিরিজে বোলারদের সামনের পায়ের ‘নো-বল’ অর্থাৎ ‘ওভারস্টেপ নো-বল’ মাঠের আম্পায়াররা ডাকতে পারবেন না। বোলারদের ‘ওভারস্টেপ নো-বল’ ডাকবেন টিভি আম্পায়ার তথা তৃতীয় আম্পায়ার। অবশ্য সিরিজ দুটিতে নো-বলের এই নিয়মটা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে। এরপর আইপিএলেও এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে। যদি নিয়মটা ফলপ্রদ মনে হয়, মানে বিতর্কমুক্ত মনে হয়, তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘ওভারস্টেপ নো-বল’ মূলত মাঠের আম্পায়াররাই ডাকতেন। তবে কখনো দ্বিধায় পড়লে সাহার্য নিতে তৃতীয় আম্পায়ারের। তৃতীয় আম্পায়ার রিপ্লে দেখে পরামর্শ দিতেন নো-বল হয়েছে কি হয়নি। কিন্তু ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ দুটিতে মাঠের আম্পায়ারদের আর কোনো রকম দ্বিধায় পড়তে হবে না। তারা ‘ওভারস্টেপ নো-বল’ ডাকতেই পারবেন না।

তৃতীয় আম্পায়ার রিপ্লে দেখে আসল সিদ্ধান্ত মাঠের আম্পায়ারদের জানাবেন। তারপর মাঠের আম্পায়াররা নো-বল ডাকবেন। আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাঠের আম্পায়াররা অন্যান্য সব সিদ্ধান্ত আগের মতোই নেবেন। কিন্তু বোলার ‘ওভারস্টেপ’ করেছেন কিনা, তা ধরতে প্রতিটি ডেলিভারি সূচারুভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন তৃতীয় আম্পায়ার, ‘(বোলারের) সামনের পা সীমা অতিক্রম করেছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করে তৃতীয় আম্পায়ার মাঠের আম্পায়ারদের জানাবেন। তারপার মাঠের আম্পায়ার নো-বল ডাকবেন। মানে তৃতীয় আম্পায়ারের পরামর্শ ছাড়া মাঠের আম্পায়াররা ওভারস্টেপ নো-বল ডাকতে পারবেন না।’

কিন্তু অনেক সময় তো রিপ্লে দেখেও বল ডেলিভারির সময় বোলারের সামনের পায়ের অবস্থান নির্ণয় করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। পায়ের গোড়ালি সীমা অতিক্রম করেছে কিনা বোঝা যায় না। তখন? সেক্ষেত্রে ‘বেনিফিট অব ডাউট’-এর সুবিধা বোলারই পাবেন বলে জানিয়েছে আইসিসি। অর্থাৎ রিপ্লে দেখে নো-বল হয়েছে কিনা, বোঝা না গেলে সিদ্ধান্ত বোলারের পক্ষে যাবে না। মানে সেক্ষেত্রে ‘নো-বল’ হবে না।

আবার দেখা গেল, ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর আম্পায়াররা ধরতে পারলেন ডেলিভারিটি আসলে নো-বল ছিল। মানে বোলার ‘ওভারস্টেপ’ করেছেন। তখন? সেক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান আউট হবেন না। ধরা মাত্রই আম্পায়াররা ডেলিভারিটিকে নো-বল ঘোষণা করবেন এবং আউট হওয়া ব্যাটসম্যান নটআউট হিসেবে বিবেচিত হবেন।

আইসিসির বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ‘যে কোনো ধরনের বেনিফিট অব ডাউট বোলারের পক্ষেই যাবে। তবে নো-বলটা পরে ধরা পড়লে মাঠের আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত বাতিল করে নো-বল ডাকবেন।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলারদের ‘ওভারস্টেপিং’ ধরার এই প্রযুক্তির মহড়া আইসিসি এর আগেও করেছে। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার সিরিজে যেমন বোলারদের সামনের পায়ের নো-বল ডেকেছেন টিভি আম্পায়ার। এরপর আইপিএলেও এই নিয়মের পরীক্ষামূলক ব্যবহার হয়। আইপিএলের আগামী সংস্করণেও পরীক্ষামূলকভাবে এই নিয়গের প্রয়োগ হবে। আইসিসির ক্রিকেট কমিটিই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে যত বেশি সম্ভব নতুন এই নিয়মটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগের সুপারিশ করেছে।

সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজে নিয়মটা আবার প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। নিয়মটা বিতর্কমুক্ত মনে হলেই কেবল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

কেআর

 

ক্রিকেট: আরও পড়ুন

আরও