ক্রিকেটের নন্দন কানন ইডেনের ইতিহাস

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬

ক্রিকেটের নন্দন কানন ইডেনের ইতিহাস

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৪২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

ক্রিকেটের নন্দন কানন ইডেনের ইতিহাস

ক্রিকেটের নন্দন কানন বলা হয় ইডেন গার্ডেন্সকে। ক্রিকেটের অন্যতম তীর্থ কেন্দ্রও। এই মাঠেই শুক্রবার ঐতিহাসিক টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। উপমহাদেশের প্রথম গোলাপি বলের টেস্টের সাক্ষী হল ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়াম।

হুগলী নদীর পাড়ে কলকাতার বিখ্যাত এই স্টেডিয়াম গড়ে উঠল কিভাবে? কার নামে হল ইডেন গার্ডেন্স? আসুন জেনে নেওয়া যাক ইডেনের সেই ইতিহাস—

বর্তমানে যেখানে ইডেন গার্ডেন্স সেটা ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে হুগলী নদী। জলপথে ছিল দস্যুর হানা। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করত ব্যাপারির নৌকা, ঔপনিবেশিকদের জাহাজ। এমন এক জায়গায় গড়ে উঠল এক মনোরম বাগান। তার কৃতিত্ব অবশ্য দুই ব্রিটিশ বোনের। যাদের নামেই এর নাম ইডেন।

১৮৩৬ থেকে ১৮৪২ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড অকল্যান্ড। যদিও তার প্রকৃত নাম জর্জ ইডেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পেয়ে ভারতে আসেন তিনি। সঙ্গী ছিল তার দুই বোন। কিন্তু দুই বোন মানিয়ে নিতে পারছিলেন না পরিবেশের সঙ্গে। সান্ধ্যভ্রমণে যেতেন দুই বোন। শহরের সেই নির্দিষ্ট অংশে সকালে ও সন্ধ্যায় হাঁটতে যেতেন ইউরোপীয়রা। দুই বোন চাইলেন, সেই জায়গাটুকু মনোরম করে সাজাতে।

এই দুই বোন শহরে পরিচিত ছিলেন ‘মিস ইডেন’ বলে। তাদের ইচ্ছায় লন, ফুলের বাগান, পাম গাছের সারি, ফোয়ারা-য় সেজে উঠল কলকাতার বুকে এক বিস্তৃত অংশ। সেখানে জুড়িগাড়িতে বা পায়ে হেঁটে ঘুরতেন ইউরোপীয়রা।

এই জায়গাটি দুই বোনকে উপহার দিয়েছিলেন রানী রাসমণি। তার স্বামী জমিদার বাবু রাজচন্দ্র দাস ছিলেন এ জায়গার মালিক।সেই জমি পেয়ে তা মনের মতো করে সাজান ইডেন বোনেরা।

তখন অবশ্য ওই বাগানকে সবাই ‘লেডি বাগান’ বলত। পোশাকি নাম ছিল ‘অকল্যান্ড সার্কাস গার্ডেন’। ১৮৫৬ সালে নাম দেওয়া হয় ‘ইডেন গার্ডেন্স। ১৮৬৫ থেকে ১৮৭১ পর্যন্ত এই উদ্যানের সংস্কার কাজ করা হয়।

তবে ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে এখানে ক্রিকেট খেলত ‘ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাব’। ১৮৬৪ সালে হয় স্টেডিয়ামের গোড়াপত্তন। ক্রিকেট খেলার মাঠ ছাড়াও ধীরে ধীরে ইডেন উদ্যানের বড় অংশ নিয়ে পরবর্তী কালে তৈরি হয় নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম এবং আকাশবাণীর কার্যালয়। বাকি অংশ পড়ে থাকে লর্ড অকল্যান্ডের দুই বোনের স্মৃতি নিয়ে।

আগে লর্ড অকল্যান্ডের মূর্তি ছিল ইডেন উদ্যানে। পরে তা নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা হাইকোর্টের দিকে। কিন্তু যাদের জন্য এই উদ্যানের জন্ম, সেই দুই বোনের স্মৃতি বা স্মারক বিশেষ নেই। দুই বোনের মধ্যে বড় জন, এমিলি ইডেনকে বলা হত ‘বড়ি মেমসাহেব’। ইডেন উদ্যান তার তরফে কলকাতাকে দিয়ে যাওয়া উপহার। তবে দুই বোনের ইচ্ছে পূরণে লর্ড অকল্যান্ডের ভূমিকাও অনস্বীকার্য।

পিএ

 

ফিচার: আরও পড়ুন

আরও