দলকে বিপদে রেখে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহও
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

দলকে বিপদে রেখে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহও

পরিবর্তন ডেস্ক ১:১১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

দলকে বিপদে রেখে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহও

দলীয় ৪৪ রানের টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটসম্যান হারানোর পর সর্বশেষ ভরসা ছিল মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ জুটি। ভারতীয় পেসারদের আগুনঝরা বোলিংয়ের সামনে তাঁরা যদি কিছু প্রতিরোধ গড়তে পারেন।

লাঞ্চ পর্যন্ত ভালোই প্রতিরোধ গড়েছিলেন মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু লাঞ্চের পর মাহমুদউল্লাহকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করে সেই জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ শামি।

দলীয় শতরানের আগেই বাংলাদেশ হারাল তার পঞ্চম উইকেট। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৮৫ রান। ব্যাট করছেন মুশফিকুর (১৮*) ও লিটন দাস (৪*)।

লাঞ্চের আগেই পঞ্চম উইকেট হারাতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু শামির বলে স্লিপে মুশফিকের ক্যাচ মিস করেন রোহিত শর্মা।
তবে মাহমুদউল্লাহর বেলায় আর সে বুল করলেন না রোহিত। ফলে ব্যক্তিগত ১৫ রানে সাজঘরে ফিরতে হল মাহমুদউল্লাহকে।

শামির জোড়া আঘাত, পতনের শুরু বাংলাদেশের?

ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামের উইকেটে সকালের দিকটায় সুবিধা পান পেসাররা। সেই চিন্তা থেকেই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে নামিয়ে দেন বিরাট কোহলি।

অধিনায়কের সেই পরিকল্পনা মাঠে দারুণভাবেই অনুবাদ করে যাচ্ছেন ভারতীয় পেসাররা। উমেশ যাদব, ইশান্ত শর্মা ও মোহাম্মদ শামিরা সাফল্য এনে দিয়েছেন কোহলি।

শুরুটা করেন উমেশ, ইমরুল কায়েসকে (৬) বোল্ড করে। তারপর উইকেটের খাতা খোলেন ইশান্ত। তিনি বোল্ড করেন সাদমান ইসলামকে (৬)।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর উমেশ-ইশান্তকে ভালোই ঠেকিয়ে রাখছিলেন মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুন। তাই হয়তো শামিকে আক্রমণে আনেন কোহলি।

সেই শামিতে বধ বাংলাদেশের অধিনায়ক। মুমিনুলকে (৭) এলবিডাব্লুর ফাঁদে ফেলে উইকেটের খাতা খোলেন তিনিও। তবে মুমিনুলকে আউট করেই ক্ষান্ত হননি শামি। ফেরালেন মিঠুনকেও (১৮)। এর মধ্য দিয়ে দলীয় ৪৪ রানে বাংলাদেশে হারাল ৪ উইকেট।

শুরুতেই সাজঘরে দুই ওপেনার

এ যেন প্রথম ইনিংসেরই পুনরাবৃত্তি চলছে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে উমেশ যাদবের বলে আউট হয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। তারপরই ইশান্ত শর্মার বলে সাজঘরে ফেরেন সাদমান ইসলাম।

দ্বিতীয় ইনিংসেও দুইজনই শিকার হয়েছেন আগের ইনিংসের শিকারির। মানে এই ইনিংসেও ইমরুল আউট হলেন উমেশের বলে। আর সাদমান আউট হলেন ইশান্তের বলে। মিল আছে আরো। আগের ইনিংসের মতো দুইজনই ব্যক্তিগত ৬ রানের মাথায় আউট হয়েছেন।

প্রথম ইনিংসে আজিঙ্কা রাহানেকে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন ইমরুল। এবার আর কারো সাহায্য নেননি উমেশ, ইমরুলকে বোল্ড করে এই ইনিংসে উইকেটের খাতা খোলেন তিনি। ইশান্তও এবার একাই আউট করলেন সাদমানকে। মানে সরাসরি স্টাম্প উড়িয়ে দিয়েছেন।

ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামের উইকেট সকালের দিকটায় সুবিধা পান পেসাররা। সেই চিন্তা থেকেই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে দেন কোহলি।

তার সেই পরিকল্পনা এরই মধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন পেসাররা। যার প্রথম সাফল্যটি আনেন উমেশ। ফিরিয়ে দেন ইমরুলকে। দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন ইশান্ত।

কোহলির ইনিংস ঘোষণা, ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

গতকাল ৩৪৩ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করেছিল ভারত। মাঠে অপরাজিত ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা ও উমেশ যাদব। তখন ভাবা হয়েছিল আজ (তৃতীয় দিন) সকালটা হয় তো আরো কিছু রান তুলে লিডটা বাড়িয়ে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাবেন বিরাট কোহলি।

কিন্তু লিড আর বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করলেন না ভারত অধিনায়ক। গতকালের ৩৪৩ রানই যথেষ্ট মনে করলেন। তাই তৃতীয় দিন সকালে নিজেরা না নেমে ইনিংস ঘোষণা করেন কোহলি। মানে বাংলাদেশ নেমে গেল নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে।

বাংলাদেশের সানে এখন সত্যিকার অর্থেই কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রথম ইনিংসে ১৫০ রান তোলা বাংলাদেশ এখন ৩৪৩ রান তুলে এগিয়ে যেতে হবে আরো বহু দূর। তবেই টেস্ট বাঁচানোর দুঃসাহস করতে পারবে।

গতকাল মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান করে ভারত। মায়াঙ্ক ২৪৩, পুজারা ৫৪, রাহানে ৮৬ ও জাদেজা অপরাজিত ৬০* রান করেন।

পিএ

 

: আরও পড়ুন

আরও