পেশাদারিত্বের প্রশ্নে ঘাম ছুটে গেল হাথুরুসিংহের!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

ত্রিদেশীয় সিরিজ

পেশাদারিত্বের প্রশ্নে ঘাম ছুটে গেল হাথুরুসিংহের!

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
পেশাদারিত্বের প্রশ্নে ঘাম ছুটে গেল হাথুরুসিংহের!

স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি শীত পড়েছে বাংলাদেশে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসও দেখা গেল। তবে শনিবার মিরপুরের তাপমাত্রা এতো কম ছিলো না। কিন্তু খুব বেশিও না। ১০-১২ ডিগ্রির আশে পাশেই ঘোরাফেরা করেছে। আর শ্রীলঙ্কার তাপমাত্রাও স্বাভাবিকভাবে খুব উত্তপ্ত গরম নয় যে বাংলাদেশে এসে তারা এই সময়ে ঘেমে নেয়ে উঠবেন। কিন্তু এমন শীতল পরিবেশেও এদিন সংবাদ সম্মেলন ঘেমে উঠেছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। আর সংবাদ সম্মেলন শেষে স্বস্তিতে মাথার ঘাম মুছেছেন বুঝি এই লঙ্কান।

বাংলাদেশ ছেড়ে শ্রীলঙ্কার কোচ হয়েছেন হাথুরুসিংহে। পেশাদার পৃথিবীতে ব্যাপারটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু ঠিক যে সময়ে এবং যেভাবে টাইগারদের ছেড়ে গিয়ে শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নিয়েছেন তা নিয়ে নানা গুঞ্জনই রয়েছে। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি অনেকেই। তবে অতিমাত্রায় পেশাদার হাথুরুসিংহের জন্যও কি স্বাভাবিক? বাংলাদেশে ফিরে যে প্রশ্নবাণে পড়বেন তা ভালো করেই জানতেন তিনি। আর সে প্রশ্ন খুব ভালো করেই সামলেছেন এ কোচ। আর তাইতো সংবাদ সম্মেলন শেষে স্বস্তিতে মাথার ঘাম মুছলেন এ লঙ্কান। 



গত বছরের শেষটায় দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ফলাফল করেছে বাংলাদেশ। সিরিজ শেষে টাইগাররা ফিরলেও দলের সঙ্গে ফেরেননি এ কোচ। যদিও এ কাজটা এর আগেও বেশ কয়েকবারই করেছেন। কিন্তু এবারের ব্যাপারটি ছিল আলাদা। কারণ বাজে হারের পর এমনিতেই কোণঠাসা ছিল টাইগাররা। ঠিক এ সময়েই তো গুরুর দায়িত্ব শিষ্যদের আগলে রাখা। তা করেননি তিনি। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন সমালোচনার বাণে জর্জরিত মুশফিল-সাকিব-মাশরাফিরা, উপস্থিত থেকেই পাশে দাঁড়াননি তিনি। মিডিয়ার সাথে কথা বলেননি। উল্টো সিরিজের মাঝপথে বোর্ডকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন পদত্যাগপত্র। যদিও সফর শেষ করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবেই।

তবে কি তিনি পেশাদার নন? ‘এখানে যে সাড়ে তিন বছর ছিলাম, সেখান থেকে নিশ্চই জানেন আমি আবেগী মানুষ নই। ইমোশন তাই খুব বেশি নেই।’ – রোববার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে কথাটি বলেন হাথুরুসিংহে। আবেগ তাকে ছুঁয়ে যায় না। নিজেই বললেন আবেগ নয়, পেশাদারিত্বই তার কাছে প্রধান।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কতোটুকু পেশাদার ছিলেন হাথুরুসিংহে? আদৌ নিজের দায়িত্ব পুরোপুরি কি পালন করেছেন? যে মুহূর্তে যেভাবে দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন সেটাই কতোটুকু পেশাদার, এ প্রশ্ন রাখা হয় হাথুরুকে। আর এমন প্রশ্নে বিব্রত হয়েই বললেন, ‘দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমার পেশাদারী দায়িত্ব নিয়ে বা বিসিবির সঙ্গে কিভাবে ডিল করেছি, সেটির নিয়ে বিস্তারিত গভীরে যেতে চাই না। আগেও করিনি, এখনও করব না। এই প্রশ্নের উত্তর তাই দিতে পারছি না।’

ফের প্রশ্ন, দলের এমন অবস্থায় দায়িত্ব কতোটা যৌক্তিক ছিল? ৪৯ বছর বয়সী বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম কোচের জবাব, ‘আমি তা মনে করি না। না হলে চলে যেতাম না।’ এমন আরও অনেক প্রশ্নই করা হয়। আর এমন একের পর এক যখন প্রশ্নবাণ চলে তখন সংবাদ সম্মেলন শেষ হলে তো স্বস্তি পাবেনই। এদিনও পেলেন। শেষ হতে না হতেই মাথার ঘাম মুছে স্পষ্ট ইঙ্গিতটাও দিলেন নিজের অজান্তে।

আরটি/ক্যাট

 
.



আলোচিত সংবাদ