যাদের আলোয় আলোকিত ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫

যাদের আলোয় আলোকিত ২০১৭

তোফায়েল আহমেদ ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭

print
যাদের আলোয় আলোকিত ২০১৭

আর কিছু ঘণ্টা পরই পূব আকাশে উঠবে নতুন বছরের সূর্য। নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার আর থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের প্রস্তুতি সব সারা। ফেলে যাওয়া বছরটির দিকে ফিরে তাকালে অনেক স্মৃতিই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মনের কোণে। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন যেমন ২০১৭ সালে দেখেছে উদীয়মান কিছু তারার মুখ। যাদের নিয়ে নতুন বছরে আবর্তিত হবে স্বপ্ন। পুরোনোদের মধ্যেও আলো কেড়েছেন কয়েকজন। চলুন দেখে নেওয়া যাক ২০১৭ সালে ক্রিকেটের বাইরের খেলার জগতের উল্লেখযোগ্য এমন কিছু মুখ।


জাফর ইকবাল : ফুটবলার

ফুটবলের জাফর ইকবাল আলো ছড়াচ্ছেন অনেকদিনই। বলতে গেলে একটু একটু করে আভা ছড়িয়ে জাফর নামের নতুন সূর্যের উদয়ন সেই ২০১৬ সালেই। যেবার তৃতীয় বিভাগ ফুটবলে দিলকুশা ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করে সরাসরি সুযোগ করে নেন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘে। একই বছর জাতীয় দলের হয়েও একটি করে ম্যাচ খেলেন মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে। এবছর আরামবাগ থেকে নাম লেখান শীর্ষ ক্লাব চট্টগ্রাম আবাহনীতে। জাফর ইকবাল নাম নিয়ে ফুটবলে আলোচনা তাই চলছিলই। তবে ফুটবল অনুরাগী সবার মুখে মুখে জাফর নামটা আরো বেশি করে উঠে আসে সেপ্টেম্বরে ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল টুর্নামেন্ট থেকে। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৪-৩ গোলের জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। জোড়া গোল করেন জাফর। আসরে ৫ গোল করে গোল্ডেন বুট পান বান্দরবানের এই ছেলে। টুর্নামেন্টে রানার্স আপ হয় বাংলাদেশ।

অর্ণব শাহরার লাদিফ : শ্যুটার

ডিসেম্বরের শুরুতে জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের যুব বিভাগে রূপার পদক জিতেছেন অর্ণব শাহরার। যার মধ্য দিয়ে নতুন বছরে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠেয় যুব অলিম্পিকে সরাসরি খেলার টিকেট ছিনিয়ে এনেছেন। বাংলাদেশের প্রথম শ্যুটার হিসেবে এই আসরে সরাসরি খেলবেন অর্ণব। নিঃসন্দেহে যা শ্যুটিং তথা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য আশার খবর। একই সঙ্গে শ্যুটিংয়ে আলোর ঝলকানি হয়ে এসেছেন অর্ণব। ২০১৭ সালের বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি তো অবশ্যই এই অর্ণব।

আরশাদ হোসেন : হকি খেলোয়াড়

বছরের শুরুর দিকে ঢাকায় হওয়া ওয়ার্ল্ড হকি লিগে জাতীয় দলে অভিষেক আরশাদ হোসেনের। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) দ্বাদশ শ্রেণীর এই ছাত্র সেই আসরে সেরা প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। আট দলের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ পঞ্চম হয়। বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খুব বেশি আশার সঞ্চার না করলেও আরশাদ ছিলেন বড় প্রাপ্তি। যিনি সুবাস ছড়িয়েছেন ৩২ বছর পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ হকিতেও। বাংলাদেশের ষষ্ঠ স্থান পাওয়া টুর্নামেন্টে এবারও সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন ১৬ বছরের আরশাদ।

আবদুল্লাহ হেল বাকী ও সৈয়দা আতকিয়া হাসান দিশা : শ্যুটার

ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে দেশকে প্রথম স্বর্ণপদক জয়ের আনন্দে ভাসান আবদুল্লাহ হেল বাকী ও সৈয়দা আতকিয়া হাসান দিশা। মে’তে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে মিশ্র দলগত ইভেন্টে ইরানকে হারিয়ে সেই পদক জেতে বাংলাদেশ। এই স্বর্ণপদক জেতার আগে এই আসরে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ছিল ২০১৩ সালে আর্চারিতে রৌপ্য জয়।

রাব্বী হাসান মুন্না : শ্যুটার

ইসলামিক সলিডারিটি গেমসেই ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্যপদক জেতেন রাব্বী হাসান মুন্না। বাকী ও দিশা জুটির স্বর্ণপদক জয়ের আগে মুন্নার হাত ধরেই আসরে এবারের আসরে প্রথম সাফল্য। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে আবদুল্লাহ হেল বাকীকে নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও তিনি হতাশ করেন। তবে আলোর মশাল হয়ে আসেন মুন্নাই।

শিরিন সুলতানা : কুস্তিগীর

সলিডারিটি গেমসে কুস্তিতে ব্রোঞ্জ জেতেন শিরিন সুলতানা। তবে তার পদক জয়টি আবার অবাক করা। কোন ম্যাচ না খেলেই ব্রোঞ্জ পান শিরিন। ৬৯ কেজি ওজন শ্রেণীতে বাই পেয়েই পদক নিশ্চিত হয়ে যায় শিরিনের। বাই পেয়ে হলেও একটা আন্তর্জাতিক আসরে কোনো ইভেন্টের পদক জয়ের পাল্লা তো ভারি হয়েছে!

আঁখি খাতুন : ফুটবলার

বছরের শেষে এসে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা ফুটবল অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়। যেখানে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। মেয়েদের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। আসরে নজর কেড়েছেন তহুরা, ছামসুন্নাহার, মারিয়া মান্ডারা। তবে আঁখির হাত ধরে সাফের সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফি আসে বাংলাদেশের ঘরে। সিরাজগঞ্জের এই মেয়ে জেতেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

দ্বীন ইসলাম হৃদয় : রোল বল খেলোয়াড়

বছরের শুরুর দিকে ঢাকায় বসেছিল রোল বলের বিশ্বকাপ আসর। যেখানে দারুণ খেলেও বাংলাদেশের ছেলেদের দল চতুর্থ হয়। তবে বাদাম বিক্রেতা থেকে রোল বল খেলোয়াড় হওয়া কিশোর হৃদয় ছুঁয়ে যান সবার হৃদয়। ৭ ম্যাচে ৩১ গোল করেন ১৪ বছরের এই কিশোর।

পুরো বছরের দিকে তাকালে আরো কিছু মুখের দেখা মিলবে, যারাও আলো ছড়িয়েছেন। বছরের শুরুতে যেমন ঢাকায় বসে আরচারির ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আসর। সেখানে মেয়েদের দলগত ইভেন্টে সাফল্য ছিল শ্যামলী রায়, বিউটি রায় ও রাদিয়া আক্তার শাপলার। বিকার্ভ ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতে আলোয় এসেছিলেন হীরামণি। তবে হীরামণি বছরের শেষ দিকে হওয়া এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় দলেই সুযোগ পাননি। সুযোগ মেলেনি শ্যামলী রায়েরও। অর্থাৎ আলো জ্বলে নিভেছেও কিছু দুত্যি। ২০১৮ সালে নতুন বছরে নতুন আলোর দেখা মিলবে আরো। একই সঙ্গে ২০১৭ সালে জ্বলা প্রদীপগুলো আলোর মশালে পরিণত হবে, বছরের শেষান্তে এমনই চাওয়া সবার।

টিএআর/ক্যাট

 
.



আলোচিত সংবাদ