ডোপপাপে আবারও নিষিদ্ধ হবেন গ্যাটলিন?

ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ বৈশাখ ১৪২৫

ডোপপাপে আবারও নিষিদ্ধ হবেন গ্যাটলিন?

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৩০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৭

print
ডোপপাপে আবারও নিষিদ্ধ হবেন গ্যাটলিন?

জাস্টিন গ্যাটলিন। ৩৬ বছর বয়সী এই মার্কিন স্প্রিন্টার যতটা না আলোচিত ট্র্যাকের রেকর্ডের জন্য, তার চেয়ে বেশি আলোচনায় থেকেছেন ডোপ কেলেঙ্কারিতে। সতের বছরের ক্যারিয়ারে ডোপ পাপের জন্য দুই ধাপে নিষিদ্ধ হয়েছেন প্রায় ১০ বছরের জন্য। যদিও মাত্র পাঁচ বছর সাজা ভোগ করতে হয়েছে তাকে। শুধু যে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে তা নয়, মূল্য দিতে হয়েছে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজের সেই সময়ের বিশ্ব রেকর্ড ৯.৭৭ সেকেন্ড বিসর্জন দিয়ে।

২০১৭ সাল সুখেই কাটছিলো ২০০৪ অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের। এই বছরের আগস্টে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের সোনা জিতেছিলেন। ২০০৫ সালের পর আবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন! ওটা ছিল সর্বকালের সেরা স্প্রিন্টার জ্যামাইকান বিদ্যুৎ উসাইন বোল্টের ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়। শেষের দিকে ইনজুরিতে পড়লেন বোল্ট। দৌড় শেষ করতে পারেননি। আর সোনা জিতে ৩৫ বছর বয়সী অ্যাথলিট শেষটাকে রাঙিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু বিধি যে বাম! বছরের শেষ সূর্য যখন অস্তাচলের কাছাকাছি, তখই আবার সেই নিষিদ্ধ ড্রাগ নেয়ার অভিযোগ উঠলো। আর পুরোনো পাপীর দিকে এই ‘গুরুতর অভিযোগের’ প্রেক্ষিতে তদন্তও শুরু করে দিয়েছে অ্যাথলেটিক্সের বিশ্ব সংস্থা ও মার্কিন অ্যান্টি ডোপিং সংস্থার সমন্বয়ে গড়া দ্য অ্যাথলেটিক্স ইন্টেগ্রিটি ইউনিট বা এআইইউ। গ্যাটলিন অবশ্য হতবাক হয়ে সব অস্বীকার করেছেন।

এবার ৫বারের অলিম্পিক পদকজয়ী গ্যাটলিনের ডোপ কেলেঙ্কারির অভিযোগটা ফাঁস করেছে ব্রিটিশ অভিজাত দৈনিক ডেইলি টেলিগ্রাফ। অভিযোগ অবশ্য সরাসরি তার দিকে নয়। পত্রিকাটি তাদের এক ছন্দবেশী রিপোর্টারকে বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছিল। রিপোর্টার গ্যাটলিনের কোচ ডেনিস মিচেল ও ম্যানেজার রবার্ট ওয়াগনারের কাছে গেলেন ফিল্মের লোক হয়ে। বললেন, তারা স্পোর্টস ফিল্ম বানাবেন। এমন কোচ দরকার যে কিনা তাদের ফিল্মের চরিত্রগুলোকে বাস্তবের অ্যাথলিটের মতো ট্রেনিং করাতে পারবেন। যাতে সব সত্যি মনে হয়। ওই ফাঁদেই নাকি পা রেখে সব ফাঁস করেছেন মিচেল ও ওয়াগনার।

ছদ্মবেশী রিপোর্টারের বরাত দিয়ে টেলগ্রাফ বলছে, ওয়াগনার পারফর্মেন্স বর্ধক ‘ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পারফর্মেন্স-ইনহ্যান্সিং ড্রাগ’ নিতে এক এজেন্টের সাথে গ্যাটলিনের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন। দৈনিকটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখা যায় ওয়াগনার এই ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে গ্যাটলিন ‘অন্যান্য আমেরিকানদের’ মতোই নিষিদ্ধ ড্রাগ নেন।

পত্রিকাটি আরও দাবী করে, গ্যাটলিনের কোচ ডেনিস মিচেল, যিনি নিজেও অলিম্পিকের সোনাজয়ী, রিপোর্টারকে বলেছেন, গ্যাটলিনকে এমন ড্রাগ দেওয়া হয় যা পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।

যদিও দুইজনই পত্রিকাটির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে গ্যাটলিন বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন, যখনই বিষয়টি জেনেছেন, তখনই তিনি কোচ মিচেলকে বরখাস্ত করেছেন।

ইনস্টাগ্রামে তিনি আরও লিখেছেন, তিনি পারফার্মেন্স বর্ধক ড্রাগ ‘নেন না’ এবং তাকে এটা ‘নিতে হয় না’। তিনি কাউকে তার সম্পর্কে এরকম মিথ্যাচার করার সুযোগ দেবেন না। আইনি ব্যবস্থায় যাবেন।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন (আইএএএফ)--এর প্রেসিডেন্ট লর্ড কিউ এসবের প্রেক্ষিতে বলেছেন, 'এই অভিযোগ খুবই গুরুতর। অ্যাথলেটিকস ইন্টিগ্রিট ইউনিট স্বাধীনভাবে এ বিষয়ে তদন্ত করবে।'

প্রসঙ্গত, ডোপপাপে প্রথম সাজাটা গ্যাটলিনের হয় সেই ২০০১ সালে। তখন দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেও পরে আবেদনের ভিত্তিতে সাজা এক বছর কমাতে পেরেছিলেন। এরপর ২০০৬ সালে আবার ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হলেন। এবারের সাজা ৮ বছরের। পরে যা কমে ৪ বছরে নেমে আসে। কিন্তু এবার আবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বিতর্কে, মুখোমুখি তদন্তের।

তদন্তের ফল কী আসে এখন সেটাই দেখার বিষয়। স্প্রিন্টের বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন গ্যাটলিন কি পারবেন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে? নাকি তৃতীয়বারের শাস্তির খড়গ নেমে আসবে তার ওপর? শিগগিরই মিলবে এর জবাব।

পিএ/ক্যাট

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad