মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহদের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী সেই উইকেটই!

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

বিপিএল ২০১৭

মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহদের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী সেই উইকেটই!

রামিন তালুকদার ৫:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭

print
মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহদের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী সেই উইকেটই!

টুর্নামেন্টে শুরুর পর থেকেই ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলছে তারা। অনেকটা সময় শীর্ষেই ছিল দলটি। কিন্তু শেষ দিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও রংপুর রাইডার্সের কাছে টানা দুটি ম্যাচ হেরে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট হতে হয় খুলনা টাইটান্সকে। ফলে এলিমিনেটর রাউন্ডই খেলতে হচ্ছে দলটিকে। প্রতিপক্ষ মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্স। শুরুতে টানা তিনটি ম্যাচ হেরে শেষ চারই অনেকটা অনিশ্চিত ছিল রংপুরের। তবে পরে ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামদের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পায় দলটি। কোয়ালিফায়ারে খেলার টার্গেটে শুক্রবার দিনের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে দলদুটি। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হবে দুপুর ২টায়।

.

এবারের আসরে বেশ শক্তিশালী দলই গড়েছে রংপুর। তবে সে অনুযায়ী মাঠে পারফর্ম করতে ব্যর্থ। ধারাবাহিকতার অভাব খুব চোখে পড়েছে। গেইল দুটি ম্যাচে জয় এনে দিলেও এখনও বলার মতো রান করতে পারেননি ম্যাককালাম। তবে দারুণ খেলছেন দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়া এই তারকাই বেশ কয়েকটি ম্যাচে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন। তবে দলের মূল ভরসা অধিনায়ক মাশরাফিই। সেটা ব্যাট হাতে কি বল হাতে! তিনটি ম্যাচ জয়ে তার রয়েছে প্রত্যক্ষ অবদান। দুটিতে আবার ব্যাট হাতে। এলমিনেটর রাউন্ডেও দলটি তাকিয়ে থাকবে মাশরাফি ও তার নেতৃত্বের দিকে। আগের চার আসরের তিনবারের চ্যাম্পিয়নের নামই যে 'মাশরাফি'।



রংপুর যেমন তাকিয়ে নেতার দিকে তেমন খুলনাও তাকিয়ে থাকবে অধিনায়কের দিকে। মাঝারী সারির এ দলটি গত আসরের মতো এবারও মাহমুদউল্লাহ নির্ভর। তবে এবার বেশ দারুণ খেলছেন আরিফুল হকও। ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান দারুণ ফিনিশিং দিচ্ছেন। দলটির মূল দুশ্চিন্তা টপ অর্ডার। শুরুর দিকের ব্যাটসম্যানরা ভালো করলে বড় সংগ্রহই পাচ্ছে দলটি। তা না হলে লড়ার স্কোর পেতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। দলের জয়ের মূল কারিগরই বোলাররা। দারুণ ছন্দে রয়েছেন আবু জায়েদ রাহী, শফিউল ইসলাম, জফরা আর্চাররা।

তবে দুই দলের কাঠগড়ায় উইকেট। এমন অসমান বাউন্সের উইকেটে ব্যাটসম্যানদের রান করাই কঠিন। খুলনার বোলিং কোচ আলফানসো থমাসও বললেন একই কথা, ‘এই উইকেটে ব্যাটিং করা সত্যিই ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। কারণ মিরপুরের উইকেট স্লো এবং এখানে বল হুটহাট ওঠানামা করে।’ তবে তারপরও এ উইকেটে মানিয়ে নিয়েই ভালো কিছু করতে চায় দলটি, ‘ব্যাটসম্যাদের মানিয়েই নিয়েই খেলতে হবে। আমাদের জন্য কাল কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তারপরও দলের মধ্যে ভারসাম্য আছে। দলটি তরুণদের নিয়ে গঠিত। এখানে সবাই কমবেশি পারফর্ম করার চেষ্টা করছে। উইকেট বিবেচনা করেই আমাদের সেরা একাদশ তৈরি করতে হবে।’

উইকেট নিয়ে দুশ্চিন্তাটা বেশি রংপুরের জন্যই। কারণ দলটি বেশি নির্ভর বিদেশি ব্যাটসম্যানদের উপর। ম্যাককালাম-গেইলরা এমন উইকেটে বেশ সংগ্রাম করছেন। আগের দিন তো উইকেটকে বাজেই বলেছেন ম্যাককালাম, ‘আমার মনে হয় এটা খুব বাজে উইকেট। আমি অন্যরকম উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত। এখানে তো আমি টার্ন আর বাউন্সের ব্যাপারে নিশ্চিতও হতে পারছি না। বল কখনো কখনো ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। কখনো নিচে। একজন স্ট্রোকমেকার হিসেবে এখানে খেলা অনেক কঠিন। আরেকটু ভালো উইকেট পেলে ভালো হতো।’ মাশরাফি তো আগেই বলেছেন, এমন উইকেটে ক্রিকেট খেলা যায় না।

গ্রুপপর্বে দুইবার দেখা হয়েছিল দল দুটির মধ্যে। তাতে একটি করে জয় দুই দলেরই। প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৫৮ রান করেও বোলারদের নৈপুণ্যে ৯ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছিল খুলনা। ফিরতি ম্যাচে দারুণ প্রতিশোধ নিয়েছিল রংপুর। ম্যাচের চিত্রও ছিলো প্রায় একই রকম। সে ম্যাচে মিঠুনের হাফসেঞ্চুরিতে ১৪৭ রানের সাদামাটা স্কোর করে বোলারদের নৈপুণ্যে ১৯ রানের জয় পায় রংপুর। তাই আপাত দৃষ্টিতে এলিমিনেটরে রাউন্ডে সম্ভাবনা দুই দলেরই সমান। রোমাঞ্চকর একটি ম্যাচই আশা করছে দুই দল, সেই সাথে ক্রিকেট ভক্তরাও।

আরটি/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad