বাংলাদেশের একনিষ্ঠ ভক্ত পাইলট-ক্রিকেটার 'রাজা'

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

বাংলাদেশের একনিষ্ঠ ভক্ত পাইলট-ক্রিকেটার 'রাজা'

পরিবর্তন প্রতিবেদক, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম থেকে ৪:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০১৭

print
বাংলাদেশের একনিষ্ঠ ভক্ত পাইলট-ক্রিকেটার 'রাজা'

ঠিক কতবার বাংলাদেশে এসেছেন তা বলতে পারলেন না জিম্বাবুয়ের তারকা ক্রিকেটার সিকান্দার রাজা। একটু ভেবে জানালেন, পাঁচ কি ছয়। কিন্তু প্রতিবারই বাংলাদেশ তাকে মুগ্ধ করেছে। এই দেশের পরিবেশ, বিশেষ করে ক্রিকেটের জন্য দর্শকদের ভালোবাসায় মন জুড়িয়ে যায় তার। আর বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলতে নামলে তার খুব ভেতরে কাজ করে ভিন্ন রকম অনুভূতি। আগের দিনই তার প্রমাণ রেখেছেন। এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সেরা ইনিংসটি খেলেছেন। মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়েছেন। এমন ইনিংস খেলার পর আরও একবার বাংলাদেশের প্রশংসায় মাতলেন চিটাগং ভাইকিংসের এই অল রাউন্ডার।

.

‘এটা আমার পঞ্চম কি ষষ্ঠ বাংলাদেশ সফর। এখানকার পরিবেশ খুবই সুন্দর। বিশেষ করে এখানকার দর্শকরা। যারা অনেক হৈ-হুল্লোড় করে। ঠিক যেমনটা আপনি চান। একজন ক্রিকেটারের উপভোগ করার মতো যা দরকার তার সবই এখানে আছে। এখানে আপনার পেছনে অনেক সমর্থন থাকে। এখানকার ফ্র্যাঞ্চাইজিরা আপনাকে অনেকটা পরিবারের মতোই দেখাশুনা করে। আমি সবসময়ই উপভোগ করি।’ – বললেন রাজা।

টানার হারের বৃত্তে থাকা চিটাগং শুক্রবার রাজার ব্যাটেই দুর্দান্ত দাপটে জয় পায়। মাত্র ৪৫ বলে তিনি খেলেন ৯৫ রানের চোখকাড়া এক ইনিংস। ৯টি চারের সঙ্গে ছিল ৬টি বিশাল ছক্কার মারও। যার মধ্যে একটি আসরের সবচেয়ে লম্বা। ১১৩ মিটার ছক্কায় স্টেডিয়ামের বাইরে বল ফেলেছেন। এ আসরের প্রথম সেঞ্চুরিটি পেয়েই যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ ওভারে দলের রান আরো বাড়াতে গিয়ে আর পাওয়া হয়নি। তবে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টুয়েন্টির খুব কাছে গিয়েও তা মিস করার কষ্ট নাকি নেই রাজার, ‘কোন আফসোস নেই। আমার মনে হয় পরিস্থিতি তাই চেয়েছিল। আমার মনও বলেছিল দলের পক্ষে যত বেশি রান করতে পারি সেই চেষ্টা করি।’

সেই চেষ্টায় এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ ২১১ রানের দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে চিটাগং। ঘরের মাঠে ফিরে পায় আসরের মাত্র দ্বিতীয় জয়। সিলেট সিক্সার্স হারে ৪০ রানে। এই জয়টা আসলে ম্যান অব দ্য ম্যাচ রাজারা প্রায় একা হাতেই গড়ে দেওয়া।

হালের জিম্বাবুয়ে দলের অন্যতম সেরা তারকাই রাজা। তবে তার জন্ম হয়েছে পাকিস্তানের শিয়ালকোটে। শিক্ষা জীবনটা শুরু হয় পাকিস্তান এয়ারফোর্সে। একজন পাইলট হওয়ার কথাই ছিল তার। বিমান চালানোকে ক্যারিয়ারের লক্ষ্য করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০০২ সালে হঠাৎ করেই তার পরিবার জিম্বাবুয়ে স্থানান্তরিত হয়। এরপর গ্লাসগো কালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি করেন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। তবে এ সব ছেড়ে হয়ে যান একজন ক্রিকেটার। ভাগ্যের কারণেই ক্রিকেটার হয়েছেন বলে মনে করেন রাজা, ‘আমার মনে হয় এটাই ভাগ্য। প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য থাকে। আমার সবসময়ই লক্ষ্য ছিল ক্রিকেটার হওয়া।’

বিমান প্রস্তুত ছিল, চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিলেন রাজাও। কিন্তু ক্রিকেটকে বেছে নেন তিনি, ‘আমি বাণিজ্যিক বিমান চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিলাম কিন্তু আমি না বলে দিয়েছি।’ আর সিদ্ধান্তটা যে তার সঠিক ছিল তার প্রমাণ বারবারই রেখে চলেছেন মাঠে।

আরটি/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad