পোলার্ড-জহুরুলে রোমাঞ্চকর জয় ঢাকার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

বিপিএল ২০১৭

পোলার্ড-জহুরুলে রোমাঞ্চকর জয় ঢাকার

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

print
পোলার্ড-জহুরুলে রোমাঞ্চকর জয় ঢাকার

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ মঞ্চস্থ হলো মঙ্গলবার। ঢাকা ডায়নামাইটস ও খুলনা টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচে করেকবার বদলালো ম্যাচের রং। বারবার রং বদলে শেষ পর্যন্ত হাসি ঢাকা ডায়নামাইটসের। সাকিব আল হাসানের দলের ৪ উইকেটের জয়টাকে রোমাঞ্চর বলা ছাড়া উপায় কি। বিপিএলের লিগ পর্বে দুই দলের মুখোমুখি দুইবারের দেখাতেই জয় ঢাকার। সিলেট পর্বে ৬৫ রানে খুলনাকে হারায় ঢাকা।

.

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৫৬ রান করে খুলনা। শুরুতে দ্রুত উইকেটে হারিয়ে যে দলটার ১০০ রান নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেই দলটাই লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের ব্যাটে। এই ক্যারিবিয়ান ২৯ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। জবাব দিতে নেমে ২৪ রানে ৪ উইকেটে নেই ঢাকার। ৪১ রানে নেই ৫ উইকেটে। সেখান থেকে ম্যাচটা ঘুরিয়ে দিলেন ঢাকার ক্যারিবিয়ান তারকা কাইরন পোলার্ড। ২৪ বলে ৫৫ রান করলেন তিনি। জহুরুল ইসলাম অপরাজিত থাকলেন ৪৫ রানে। এই দুইয়ের ব্যাটেই চাপ কাটিয়ে জয় ঢাকার।

১৫৭ রানের লক্ষ্য ঢাকার জন্য তেমন কঠিন কিছু হওয়ার কথা নয়। কিন্তু খুলনার সম্মিলিত বোলিং আক্রমণে পরাস্থ হয়ে সেটিই খুব কঠিন করে ফেললেন ঢাকার টপ অর্ডাররা। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই লুইসকে (৪) ফিরিয়ে দেন আবু জায়েদ। শফিউল ইসলামের পরের ওভারেই ফিরে যান শহীদ আফ্রিদি (১)। ডেলপোর্টকেও ২ রানের বেশি করতে দেননি জফরা আর্চার। নারিনকে (৭) ফিরিয়েছেন আলিকা ধনাঞ্জয়া। নারিন এম্যাচে ওপেনর করতে নেমেছিলেন ইভিন লুইসের সঙ্গে। এরপর ২০ রান করে সাকিব ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ বলে। তাতে ৪১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায় ঢাকা।

কিন্তু নাটক যে তখন কেবল শুরু বলতে হবে। জহুরুল ইসলামের সঙ্গে উইকেটে এসে জুটি বাঁধলেন পোলার্ড। ওই ধ্বংসস্তুপের মাঝেও খেলতে থাকলেন পোলার্ডিয় সব শট। ২৪ বলে ৬টি ছক্কা হাঁকালেন, সঙ্গে ৩টি চার। ৫৫ রান করে পোলার্ড যখন ফিরলেন ঢাকার রান তখন ১৪.৪ ওভারে ১১৪। কঠিন হয়ে যাওয়া ম্যাচটা তখন হাতের মুঠোতেই এসে গেছে বলতে হবে। বিশেষ করে সেট হয়ে যাওয়া জহুরুলের সঙ্গে যেখানে রয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। জহুরুল ৩৯ বলে ৫ চারে ৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কার তার হাতে উঠাটাই প্রমাণ করে সেই ইনিংসটার মূল্য কতখানি। খুলনার শফিউল ইসলাম সর্বোচ্চ ২ উইকেটে নেন। এছাড়া ১টি করে উইকেটে নেন আবু জায়েদ, জাফরা আর্চার, আলিকা ধনাঞ্জয়া ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২৯ রানেই ২ উইকেটে হারিয়ে বিপদে পড়ে খুলনা। ৪৬ রানে পড়ে তাদের তৃতীয় উইকেট। নাজমুল হোসেন শান্ত ও ক্লিঙ্গারের ওপেনিং জুটিকে ২২ রানের বেশি করতে দেননি ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ক্লিঙ্গারকে ব্যাক্তিগত ১০ রানে আবু হায়দার রনির হাতে ক্যাচে পারিণত করেন সাকিব। এরপর আবু হায়দার রনির বলে সাকিবের হাতে ক্যাচ হয়েছেন ধীমান ঘোষ। এবারের বিপিএলে প্রথমবারের মতো একাদশে সুযোগ পেয়ে ২ রান করেই ফিরেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই উইকেট কিপার। ভাল খেলতে থাকা শান্ত ২৪ রান করে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। এরপর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও রাইলি রুশো ২৫ রানের জুটি গড়েন। ১৪ রান করা মাহমুদউল্লাহকে এবার ফিরিয়ে দেন শহীদ আফ্রিদি।

এরপরই রুশো এবং ব্রাথওয়েটের ব্যাটে প্রতিরোধ খুলনার। বিপর্যয়ের মাঝে দুজনের জুটি ৫৪ রানের। রুশো ৩০ বলে ৩ চারে ৩৪ রান করেছেন। ব্র্যাথওয়েটের ২৯ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ৬টি ছক্কা ও ৪টি চার হাঁকিয়েছেন এই ক্যারিবিয়ান। পরে অবশ্য সেটি পোলার্ড আর জহুরুলের ব্যাটে ম্লান হয়ে গেছে। ঢাকার বোলারদের মধ্যে আবু হায়দার রনি সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন। এছাড়া ১টি করে উইকেটে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, শহীদ আফ্রিদি, সুনিল নারিন।

টিএআর

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad