দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথে কোচের মিশন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথে কোচের মিশন

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৭

print
দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথে কোচের মিশন

নিষেধাজ্ঞার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে প্রথম খেলার সুযোগ পায় ১৯৯২ সালে। এখন পর্যন্ত তারা বিশ্বকাপ খেলেছে সাতবার। একবারও জেতার সৌভাগ্য হয়নি তাদের। চারবার সেমি ফাইনালে হেরে এসেছে তারা। চাপ নিতে না পেরে প্রতিবার ব্যর্থ হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার নামই হয়ে গেছে 'চোকার'। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন ওটিস গিবসন। তিনি কি পারবেন অধরা এই ট্রফি প্রোটিয়াদের হাতের মুঠোয় এনে দিতে?

 প্রোটিয়া কোচ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অল রাউন্ডার ওটিসের শুভ সূচনাই হয়েছে বলা যায়। তার অধীনে প্রথম টেস্ট সিরিজেই বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। হোয়াইটওয়াশ করেছে প্রতিপক্ষকে। তবে তার নিয়োগের সবচেয়ে বড় শর্ত চোকার দুর্নাম কাটিয়ে প্রোটিয়াদের নিয়ে বিশ্বকাপ জেতা।

২০১৯ এ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পথে দলকে নিয়ে ওটিসের ওয়ানডে যাত্রা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। ১৫ অক্টোবর শুরু তিন ম্যাচের সিরিজটা। প্রোটিয়া কোচ হিসেবে ওয়ানডেতে এটা তার অভিষেকও বটে। যদি দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সূচিতে কোন পরিবর্তন না আসে তাহলে বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত তারা ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে ৩২টি। আর এই ম্যাচগুলিতে তাদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে। যদিও ২২টি ম্যাচ তারা ঘরের মাঠেই খেলবে, পাঁচটি করে মোট দশটি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলংকার মাটিতেও। আর যেখানে বিশ্বকাপ সেই ইংল্যান্ডের কন্ডিশন নিয়েও খুব বেশি চিন্তা নেই প্রোটিয়াদের। দুই কিস্তিতে যে ইংল্যান্ড দলকে বোলিং শিক্ষা দিয়ে এসেছেন তাদের কোচ!

কিন্তু ওটিসের তূণের চার অব্যর্থ তীর ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডার, মরনে মরকেল, ক্রিস মরিস যে ইনজুরিতে খেলার সুযোগ হারিয়েছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই সিরিজেই। অনেকে বলছেন, এটা শাপেবরই হয়েছে তার জন্য। চার সেরা পেসারকে ছাড়াই শেষ দুটি টেস্টে বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। পেস ডিপার্টমেন্টের নবীনেরা দারুণ খেলেছেন। ওয়ানডেতেও ওটিস এখন ড্যান প্যাটারসন, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও আন্ডিলে ফেহলুকওয়ায়োদের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। এতগুলো প্রতিভাবান পেসার দলে থাকলে ইংল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে তার চিন্তা কোথায়?

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় আবিষ্কার টেন্ডা বাভুমা। দারুণ ব্যাটিং এর পাশাপাশি তার চোখ ধাঁধানো ফিল্ডিং মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রোটিয়াদেরই কিংবদন্তি জন্টি রোডসকে। একমাত্র ওয়ানডেতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন বাভুমা। হাশিম আমলা দলে ফিরে আসায় হয়ত কুইন্টন ডি ককের সাথে দলের ইনিংস শুরু করার সুযোগ পাবেন না বাভুমা। তিনি কি পারবেন মিডল অর্ডারে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নতুন জন্টি রোডস হতে?

অনেক রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নিয়ে ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার ৩২ ওয়ানডে ম্যাচের প্রাক-বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পর্ব। দলদুটি সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৫ সালে বাংলাদেশে। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরে যাওয়া প্রোটিয়াদের জন্য সেটা সুখস্মৃতি নয় অবশ্যই। দেশের মাটিতে এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে কি শোধটা নিতে পারবে ওটিস গিবসনের শিষ্যরা ?

এসএম/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad