‘এখনকার মতো ব্যাটসম্যান থাকলে ২০০৮ সালেই দ. আফ্রিকাকে হারাতাম’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

‘এখনকার মতো ব্যাটসম্যান থাকলে ২০০৮ সালেই দ. আফ্রিকাকে হারাতাম’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭

print
‘এখনকার মতো ব্যাটসম্যান থাকলে ২০০৮ সালেই দ. আফ্রিকাকে হারাতাম’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফতুল্লা টেস্ট কিংবা পাকিস্তানের বিপক্ষে মুলতান টেস্ট বাংলাদেশের আক্ষেপের বড় নাম। তেমনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের আক্ষেপটাও কম নয়। ব্যাটসম্যানরা একটু ভালো করলে ২০০৮ সালেই হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে জয় পেতে পারতো বাংলাদেশ। সেবার প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯২ রান করেই ২২ রানের লিড পেয়েছিল টাইগাররা। প্রোটিয়াদের মতো দলের বিপক্ষে অল্প রান করে প্রথম ইনিংসে ওই লিড নেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন শাহাদাত হোসেন। মাত্র ২৭ রানের প্রোটিয়াদের ৬ ব্যাটসম্যানকে আউট করেছিলেন তিনি। ৯ বছর পর পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করলেন এ পেসার। আক্ষেপটাও ঝড়ে পড়লো তার কণ্ঠে, ‘ইশ! যদি এখনকার ব্যাটিং লাইন আপটা তখন থাকতো!’

শুধু প্রথম ইনিংসেই নয়। দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন শাহাদাত। ৫ উইকেটের ৩টিই পেয়েছিলেন তিনি। লিডটা বড় দিতে পারলে হয়তো গড়তে পারতেন এক টেস্টে ১০ উইকেট পাওয়ার কীর্তি। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতাই যে ভেস্তে যায় সব। শাহাদাতের ভাষায়, ‘খুব মনে আছে সেই ম্যাচের স্মৃতি। আমাদের ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচটা হেরেছিলাম। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় স্কোর করতে পারিনি। মাত্র ১৮০ রান (আসলে ১৮২) করেছিলাম। এখনকার যে ব্যাটিং লাইন আপ আছে, এটা থাকলে নিশ্চিত ম্যাচটা জিতে জেতাম।’

অথচ প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে কেউ ভাবতে পারেনি এ ম্যাচটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে বাংলাদেশ। গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, মার্ক বাউচার ও জ্যাক ক্যালিসের মতো ব্যাটসম্যান দিয়ে তৈরি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইন আপ। আফতাব আহমেদের ৪৪ ও শেষ দিকে মাশরাফি বিন মুর্তজার ২৯ রানে ভর করে ১৯২ রান করে টাইগাররা। এরপর বোলিংয়ে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই প্রোটিয়া অধিনায়ক স্মিথকে বোল্ড করেন শাহাদাত। বাংলাদেশ যে তখন জেগে ওঠে। চেপে ধরে মাত্র ১৭০ রানেই অলআউট করে দেয় টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিধর দলটিকে।

‘আমার সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল আমি পুরনো বলেও সুইং করাতে পারতাম। তবে সেদিন আমি নতুন বলেই উইকেট পেয়েছিলাম। প্রথমেই আমি স্মিথকে আউট করেছিলাম। বোল্ড করে দিয়েছিলাম। ওই উইকেটটা পেয়ে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। এরপর যখন ম্যাকেঞ্জিকে আউট করি তখন বুঝতে পেরেছিলাম আজকে হয়তো কিছু হবে। পুরনো বলে কিছু করতে পারবো এই বিশ্বাস আমার সব সময়ই ছিল। হয়েও ছিল। কিন্তু ওই যে ব্যাটসম্যানরা যদি একটু ভালো করতো।’- ম্যাচের স্মৃতিচারণ করে এমনটাই বলেন শাহাদাত।

১৯২, ১৭০ ও ১৮২ রানের পর চতুর্থ ইনিংসে ২০৫ রানের লক্ষ্য আহামরি খারাপ কিছু নয়। ম্যাচের পরিস্থিতি বিচারে লিডটা লড়াকু স্কোরই ছিল। তারপরও কেন হেরে যায় বাংলাদেশ? শাহাদাতের উত্তর, ‘লড়াইতো আমরা করেছি। ওই সময় বাংলাদেশ দল টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে ছিল। বেশির ভাগ ম্যাচেই তো দুই ইনিংসে বলই করতে পারতাম না। আর ২০৫ রান দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে তেমন বড় কিছু নয়। ওদের দলে বিশ্ব সেরা ব্যাটসম্যানরা ছিল। তারপরও ৫টা উইকেট ফেলেছিলাম। আর কিছু রান থাকলে হয়তো কিছু হতো। আমাদের ব্যাটিংটাই খারাপ হয়েছিল। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যে লড়াই করেছি তাতে আমি গর্বিত।’

আবারও প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় আছে বাংলাদেশ দল। অথচ সে দলে নেই ৩১ বছর বয়সী শাহাদাত। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনজুরির কারণে বাদ পড়ার পর আর জায়গা হয়নি তার। এরপর গৃহ্যকর্মী অত্যাচারের কারণে মামলায় জড়িয়ে বেশ কিছুদিন ক্রিকেটের বাইরেও ছিলেন তিনি। তবে গত মৌসুমেই ফিরেছেন তিনি। আশা করছেন পারফরম্যন্স দিয়ে নজর কেড়েই আবার ফিরবেন জাতীয় দলে, ‘আমি পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়িনি। পড়েছিলাম ইনজুরির কারণে। আমার এখনও জাতীয় দলকে দেওয়া শেষ হয়নি। আশা করি আমি ভালো কিছু করেই জাতীয় দলে ফিরে আসবো।’

আরটি/টিএআর

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad