ওয়ালশের মন ভরাতে পারছেন না পেসাররা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

ওয়ালশের মন ভরাতে পারছেন না পেসাররা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৭

print
ওয়ালশের মন ভরাতে পারছেন না পেসাররা

বাংলাদেশের পেসারদের উত্থান এই সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। গত কয়েক বছরে দারুণ বদলে যাওয়া টাইগার দলের উন্নতিতে তাদের কথা আসতেই হবে। মোস্তাফিজুর-তাসকিনদের মতো তরুণ তুর্কিদের পেয়েই অনেকটা বদলে যায় দলটির চেহারা। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দারুণ করলেও টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের তেমনভাবে মেলে ধরতে পারছেন না এই জোরে বোলাররা। দেশের মরা উইকেটে প্রাণ দেওয়া হচ্ছে না তাদের। পেসারদের নিয়ে তাই উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশ। রোববার মিরপুরে ফিরতি পর্বের ক্যাম্পের প্রথম দিনেই পেসারদের আলাদা ক্লাস নিলেন তিনি।

.

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ছুটি শেষে একটু আগেভাগেই বাংলাদেশে চলে আসেন ওয়ালশ। আর ফিরেই পেসারদের নিয়ে আলাদা ক্লাস নিতে শুরু করেন। শুরুটা অবশ্য করেছিলেন নিজেকে হারিয়ে খোঁজা কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে। এরপর পাইপলাইনের সকল পেসারকে নিয়ে কাজ শুরু করেন টেস্ট ইতিহাসে ৫০০ উইকেট শিকারী প্রথম বোলার। সেই ক্লাস শেষ হওয়ার পর চট্টগ্রামে যায় টাইগাররা। খেলে প্রস্তুতি ম্যাচ। তবে সেখানে এক শফিউল ইসলাম ছাড়া আর কোন পেসার মন ভরাতে পারেননি ওয়ালশের। তাই ঢাকায় ফিরে আবার পেসারদের নিয়ে আলাদা করে কাজ শুরু করে দিলেন।

চট্টগ্রামে অন্য পেসারদের তুলনায় কিছুটা ব্যাতিক্রম ছিলেন শফিউল। দারুণ বল করেছেন।  সুইং, গতি আর আগ্রাসনে ভুগিয়েছেন ব্যাটসম্যানদের। একাই তুলে নিয়েছিলেন মুশফিকের দলের পাঁচটি উইকেট। মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন কিছু না বুঝেই। সেই শফিউলের কাছে জানতে চাওয়া হলো হঠাৎ শিডিউলের বাইরে কেন এই অনুশীলন? উত্তরে এই শফিউল জানালেন, ‘অনুশীলন ম্যাচে পেসাররা তাদের সর্বোচ্চটা দিতে পারেনি বলেই আজকে আবার আলাদাভাবে ক্লাস হয়েছে।’

তবে চট্টগ্রামে ভালো পারফর্ম করতে পারেনি পেসাররাসহ পুরো দলই। ব্যাটসম্যানরা সেই পুরনো পথেই হেঁটেছেন। সেট হয়ে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান। ক্রিকেটারদের এমন পারফরমান্সের জন্য বৃষ্টিকে দায়ী করলেন শফিউল, ‘বৃষ্টির কারণে প্রস্তুতি ম্যাচটিতে একটু এদিক ওদিক হয়েছে। দুই দলই এক ইনিংস করে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছি। শেষদিনে এক ওভারও খেলা হয়নি। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় ভালোই হয়েছে। শেষ দিনটা খেলতে পারলে আরও ভালো হতো।’

ওখানে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। প্রথম দিনের পুরোটা আলো কেড়ে নিয়েছিলেন। নিজের বোলিং সম্পর্কে এদিন শফিউল বললেন, ‘আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি। অনুশীলনে, নেটে, প্রস্তুতি ম্যাচে, সব জায়গাতেই আমি আমার কাজটা ঠিকমতো করে যাচ্ছি।’ বেশ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে যাচ্ছেন শফিউল। কিন্তু জাতীয় দলের মূল একাদশে নিশ্চিত নন। তবে এসব নাকি শফিউলকে ভাবাচ্ছে না, ‘জাতীয় দলে থাকবো কিনা সেই বিষয়গুলোতো আমার হাতে নেই। এটা ম্যানেজমেন্ট ভালো বলতে পারবে। তারা যাকে ভালো মনে করবে তাকে খেলাবে। আমি শুধু চেষ্টা করে যেতে পারি।’

ছন্দে থাকলেও শফিউলের প্রধান সমস্যা বরাবরই ইনজুরি। বড় বেশি ইনজুরিপ্রবণ এই পেসার। তবে বর্তমানে সম্পূর্ণ ফিট শফিউল ভালো পারফর্ম করেই এবার দলে নিয়মিত হতে চান, ‘সবসময়ই ভালো করার ইচ্ছে নিয়ে মাঠে নামি। এবার সুযোগ পেলে অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে দলে নিয়মিত হওয়া। দলে আমাকে যে জন্য নেবে সেই প্রত্যাশাটা পূরণ করতে চাই। সবচেয়ে বড় কথা শক্তভাবে দলে ফিরতে চাই।’

আরটি/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad