চট্টগ্রামের সে ইনিংস নিজেরই অবিশ্বাস্য লাগছিলো গিলেস্পির

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪

চট্টগ্রামের সে ইনিংস নিজেরই অবিশ্বাস্য লাগছিলো গিলেস্পির

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৭

print
চট্টগ্রামের সে ইনিংস নিজেরই অবিশ্বাস্য লাগছিলো গিলেস্পির

সেবার চট্টগ্রাম টেস্টে মাঠে নেমেছিলেন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে। পরে রিকি পন্টিং যখন ৫৮১ রানে ইনিংস ঘোষণা করছিলেন তখনো তিনি অপরাজিত। তাও ২০১ রানে! জেসন গিলেস্পির নিজেরই তা বিশ্বাস হচ্ছিলো না। আরও অবিশ্বাস্য ঘটনা, এরপর আর কোনোদিন টেস্টই খেলা হয়নি তার। অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি বাংলাদেশ সফরের আগে প্রায় এক যুগ আগের সেই ইনিংস ফের উঠে এলো আলোচনায়।

ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ চট্টগ্রাম টেস্টেও ভালো কিছু করবে এমন প্রত্যাশা ছিলো। কিন্তু হাবিবুল বাশারের দল আগে ব্যাট করতে নেমে ৬১ ওভারেই গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৭ রানে। ব্যাট করতে নেমে দিনের শেষদিকে আউট হয়ে যান ম্যাথু হেইডেন। শেষ ক’ওভারের জন্য পন্টিং নিজে না নেমে পাঠিয়ে দেন গিলেস্পিকে। ফতুল্লায় বাংলাদেশের মুঠো থেকে বের করা আনা ম্যাচে পন্টিং এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৩০ রানের জুটি করেছিলেন। ম্যাচ জয়ী বাউন্ডারিও এসেছিলো তার ব্যাট থেকে। সে ভরসায় নাইটওয়াচম্যান গিলেস্পি যখন ব্যাটিংয়ে নামলেন কে ভেবেছিলো এতোকিছু হবে! ভাবেননি তিনি নিজেও।

ওইদিন তো কাটিয়ে দিলেনই। বৃষ্টি বিঘ্নিত দ্বিতীয় দিন শেষেও ৪৫ রানে নট আউট। অধিনায়ক পন্টিং দিনশেষে তাকে বললেন, ‘উইকেট ফ্ল্যাট, বাংলাদেশের বোলিংও সাদামাটা, খেলা চালিয়ে যাও।’ চালিয় গেলেন বটে খেলা। তৃতীয় দিনে পেয়ে গেলেন প্রথম সেঞ্চুরি। সঙ্গী মাইক হাসির সঙ্গে জুটিও জমে উঠল বেশ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে দুজনের রেকর্ড ৩২০ রানের জুটি ভেঙেছিলো হাসির আউটে। চতুর্থ দিন লাঞ্চের পর গিলেস্পির ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গে সঙ্গেই ইনিংস ঘোষণা করেন পন্টিং। একজন স্পেশালিষ্ট বোলার প্রথম দিন থেকে চতুর্থ দিন পর্যন্ত ব্যাট হাতে মঠে ছিলো। ভাবা যায়! টেস্ট ক্রিকেট এমন কিছু দেখেনি কখনো।

সে ম্যাচে ১৮২ রানের ইনিংস খেলা মাইক হাসি জানাচ্ছেন গিলেস্পির অভিব্যক্তি, ‘অস্ট্রেলিয়ার নামকরা অনেক ব্যাটসম্যানের টেস্ট সর্বোচ্চ স্কোর ওর মুখস্থ ছিলো। সে একেকজনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিল আর উৎফুল্ল হচ্ছিলো।’

‘সে মার্ক ওয়াহর ১৫৩ ছাড়িয়ে যেতেই এসে আমাকে বলল, মাইকেল ক্লার্কের তখনকার বেস্ট ১৫১ ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও বলল। পরে তো স্টিভ ওয়াহ আর ডেভিড বুনকেও ছাড়িয়ে গেল।’ বলেন হাসি।

এমন ইনিংস খেলার পর গিলেস্পির নিজেরই অবিশ্বাস্য লাগছিলো। চিমটি কেটে দেখছিলেন, যা হলো সব বাস্তব নাকি স্বপ্ন! ওদিকে বাংলাদেশের বোলারদের তো রীতিমতো দুঃস্বপ্নের ম্যাচ। আজও হয়ত মাশরাফি-রফিক-শাহাদাতদের তাড়িয়ে বেড়ায় তা। গিলেস্পির ম্যারাথন ইনিংসে রান পাহাড়ে চড়া ক্যাঙ্গারুরা ইনিংস ব্যবধানেই হারালো টাইগারদের। তাতে বল হাতেও অবদান আছে গিলেস্পির। প্রথম ইনিংসে ১১ রানে তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে দুশো রানের মধ্যে আটকে দেন। তবে লম্বা ইনিংস খেলার ক্লান্তিতে দ্বিতীয় ইনিংসে চার ওভারের বেশি বল করা হয়নি তার। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ তো বটেই। ম্যান অব দ্যা সিরিজের ট্রফিও উঠে তাঁর হাতে।

ব্যাটিংয়ের মুন্সিয়ানার শেষ হয় বোলার গিলেস্পির টেস্ট অধ্যায়। তবে তখনো তিনি জানতেন না ওটাই হতে যাচ্ছে তার শেষ টেস্ট।

ইটি/ক্যাট 

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad