বাঁহাতি লেগ স্পিনারকে চায়নাম্যান বলে কেন?

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

বাঁহাতি লেগ স্পিনারকে চায়নাম্যান বলে কেন?

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৭

print
বাঁহাতি লেগ স্পিনারকে চায়নাম্যান বলে কেন?

বাঁয়ে সেই সত্যিকারের চায়নাম্যান আচং; ডানে পল অ্যাডামস। চায়নাম্যান। কথাটা শুনেই প্রথমে মনে হতে বাধ্য, এই বোলার চীন বা চায়না থেকে এসেছেন নাকি! তা চায়নাম্যান কথাটির সাথে চীনের একটি যোগ তো আছেই, তবে চায়নাম্যান বোলার হতে চাইনিজ হতে হবে তা নয়। কজন চাইনিজই বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন! হালে কুলদিপ যাদব, লক্ষন সান্দাকানদের জন্য আবার এই টার্মটা বেশ আলোচনায়। তার আগে সোজা কথায় চায়নাম্যান বোলার কি তা বুঝে নেওয়া ভালো। ডান হাতি লেগব্রেকের মতোই বাঁহাতি লেগব্রেক বা চায়নাম্যান বোলিং। অর্থোডক্স বাঁহাতি স্পিনের উল্টো। বলটা আসে কব্জির ওপর থেকে। অন্য কথায়, এই বল ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য ভেতরে ঢোকে, বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য ভেতর থেকে বাইরে যায়।

.

এখন প্রশ্ন হলো এই টার্মটা এলো কোথা থেকে? চার্লি 'বাক' লেয়েলিন দক্ষিণ আফ্রিকান অল রাউন্ডার ছিলেন। সেটি উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকের কথা। বলা হয় চায়নাম্যান বোলিং তার আবিষ্কার। কিন্তু এই টার্মটা তার কাছ থেকে নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার ইলিস 'পাস' আচংয়ের কাছ থেকে এসেছে বলে জানা যায়। আচং চীনা বংশোদ্ভুত ইতিহাসের প্রথম টেস্ট খেলোয়াড়। ছিলেন বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার। ১৯৩৩ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে তার হাত থেকে বেরিয়ে আসে অদ্ভুত এক ডেলিভারি। সেই রিস্ট স্পিন ডেলিভারি অফ থেকে লেগে ঢুকে পড়ে। ইংলিশ ব্যাটসম্যান ওয়াল্টার রবিনস কিছু বুঝে না ওঠে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। কিংবদন্তি বলে, এই রবিন কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে ফিরতে বিড়বিড় করে বলছিলেন, 'ব্যাটা চায়নাম্যান অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড করে ফেললো।'

চায়নাম্যান বোলার খুব বেশি দেখা যায় না। বিখ্যাতদের মধ্যে আছেন চাক ফ্লিটউড, গ্যারি সোর্বাস এবং কাছাকাছি সময়ে পল অ্যাডামস, মাইকেল বেভান, ব্র্যাড হগ ও ডেভ মোহাম্মদ। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় মোট ২৭ জন চায়নাম্যান বোলার এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলতে পেরেছেন। এর মধ্যে ওয়ানডেও খেলেছেন মাত্র ৩ জন।


পাল্লেকেলে টেস্টের দুই চায়নাম্যান। বাঁয়ে কুলদিপ। ডানে সান্দাকান।

চায়নাম্যানের ডানহাতি লেগস্পিনারের মতো একটা বড় অস্ত্র আছে। সেটি গুগলি। এটি ডানহাতির জন্য বাইরে দিয়ে যায় আর বাঁহাতির জন্য ভেতরে ঢোকে।

চায়নাম্যান বোলার এতো কম কেন দেখা যায় সেটা এক প্রশ্ন হতে পারে। ডানহাতি লেগ স্পিনের মতো বাঁহাতি লেগ স্পিনেও নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন। যেহেতু কব্জির ওপর দিক থেকে আসে এবং ডানহাতির জন্য ভেতরের দিকে যায় তাই এই শিল্পকে অপেক্ষাকৃত কম বিপজ্জনক মনে করা হয়। কারণ, ডানহাতি ব্যাটসম্যানের আধিক্য ক্রিকেটে।

টেস্টে প্রথম বারের মতো দুই দলে দুই চায়নাম্যান বোলার দেখা গিয়েছিল ১৯৩৫ সালের জানুয়ারিতে, পোর্ট অব স্পেন টেস্টে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড খেলছিল। ওই ম্যাচে বল করেছিলেন আচং ও মরিস লেল্যান্ড। শেষ বার এমনটা ঘটেছিল ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেপ টাউন টেস্টে। ক্যারিবিয়ানদের ছিলেন ডেভ মোহাম্মদ। আর পল অ্যাডামস ছিলেন প্রোটিয়া দলে।

২০০৪ সালের পর আবার কোনো টেস্ট ম্যাচের দুই দলের একাদশেই একজন করে চায়নাম্যান খেলছেন পাল্লেকেলে টেস্টে। সেখানে ভারত দলে আছেন কুলদিপ। আর লঙ্কান দলে সান্দাকান। এক ম্যাচে দুই চায়নাম্যানের খেলা দেখার ঘটনাটা তো সচরাচর ঘটে না। এর মধ্যে ভারতের প্রথম ৩ উইকেটের ১টি শিকার করেছেন সান্দাকান। দেখা যাক সামনে কি ঘটে।

ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad