যেখানে ব্যতিক্রম মুরালিধরনের বাবা

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪

যেখানে ব্যতিক্রম মুরালিধরনের বাবা

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৭

print
যেখানে ব্যতিক্রম মুরালিধরনের বাবা

ছেলে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। তর্কাতীতভাবেই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার। মুত্তিয়া মুরালিধরনের বাবা চাইলেই বিখ্যাত ছেলের নাম ব্যবহার করে বিখ্যাত বনে যেতে পারেন। ছেলের তারকাখ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রসার ঘটাতে পারেন ব্যবসায়। অন্যসব ক্রীড়া তারকাদের বাবারা যেমনটা করেন। কিন্তু মুরালিধরনের বাবা চিন্বাসামী মুত্তিয়া এখানেই অন্য ক্রীড়া তারকাদের বাবাদের চেয়ে ব্যতিক্রম। তিনি কিছুতেই বিখ্যাত ছেলের নাম ভাঙিয়ে রাতারাতি বিখ্যাত হতে রাজি নন। এমনকি নিজের ব্যবসায়ও ছেলের তারকাখ্যাতিকে ব্যবহার করেন না চিন্বাসামী মুত্তিয়া। নিজ শহর ক্যান্ডিতে নিজ কর্ম গুণেই বিখ্যাত মুরালিধরনের বাবা। তার বিস্কুট ফ্যাক্টরি শ্রীলঙ্কার তৃতীয় বৃহত্তম বিস্কুট ফ্যাক্টরি।

হ্যাঁ, সত্যিই ক্যান্ডিতে মুরালিধরনের বাবার একটা বিস্কুট ফ্যাক্টরি আছে। ৫০০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে তার প্রতিষ্ঠিত লাকিল্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে ২০০ জন শ্রমিক কাজ করে। তার কারখানায় তৈরি বিস্কুট শ্রীলঙ্কানদের কাছে বিশেষ সমাদৃত। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বিস্কুট ফ্যাক্টরির তকমটা তারই প্রমাণ। চাইলে চিন্বাসামী ছেলে মুরালির খ্যাতি-যশ ব্যবহার করে দেশজুড়ে নিজ ফ্যাক্টরির বিস্কুটের চাহিদা আরও বৃদ্ধি করতে পারেন। বিজ্ঞাপন হিসেবে বিস্কুটের প্যাকেটের গায়ে অনায়াসেই ছেপে দিতে পারেন মুরালিধরনের ছবি।

কিন্তু চিন্বাসামী তা করেন না। এমনকি নিজের ব্যবসায় সহায়তা করতে ছেলেকে কখনো ডাকেনও না, ‘আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি সানরাইজ বিস্কুট ফ্যাক্টরির সঙ্গে আমার ছেলের বিজ্ঞাপনী চুক্তি আছে। কাজেই আমাদের বিস্কুটের প্রচারণার কাজে তার নাম ব্যবহার করি না।’  মুরালিধরনও বাবার ব্যবসায় নাক গলান না। তার মানে এই নয় যে, ব্যবসার প্রতি মুরালিধরনের কোনো ঝোঁক নেই। তার বাবা বরং জানিয়েছেন, কলম্বোতে একটা বেভারেজ কোম্পানি করার পরিকল্পনা আছে মুরালিধরনের।

ছেলে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। নিজেও ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আর্থিক দিক থেকে বেশ সচ্চল চিন্বাসামী চাইলে শ্যূট-টাই পরে কেতাদূরন্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন। কিন্তু সদা বিনয়ী, মৃদুভাষী চিন্বাসামী দেশের ঐতিহ্যবাহী পোষাক ‘লুঙ্গি’ পরতেই ভালোবাসেন।

ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিন্বাসামী শুনিয়েছেন ছোট্ট বেলায় ছেলে মুরালিধরনের ক্রিকেটের হাতেখড়ির গল্পও। বলেছেন তার বিস্কুট ফ্যাক্টরির নিচেই বন্ধু-বান্ধব এবং ভাইদের সঙ্গে সারাদিন ক্রিকেট খেলত ছোট্ট মুরালি। তবে ছেলের সঙ্গে কখনোই ক্রিকেট খেলা নিয়ে কথা-বার্তা বলেননি চিন্বাসামী।

 এমনকি ১৯৯৫ সালে যখন অস্ট্রেলিয়ানরা ‘চাকিং’এর অভিযোগ এনে ছেলে মুরালির ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে বিতর্কের কালো মেঘে ঢেকে দিয়েছিল, তখনও ব্যাপারটা নিয়ে ছেলের সঙ্গে কথা বলেননি চিন্বাসামী। তবে ওই দুঃসময়ে শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মুরালির পাশে। সেজন্য রানাতুঙ্গার প্রতি চিন্বাসামীর কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সুযোগ পেয়ে আরও একবার বিশেষ ধন্যবাদ জানালেন রানাতুঙ্গাকে, ‘ওই দুঃসময়ে মুরালিকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়ে যাওয়ায় অর্জুনা রানাতুঙ্গার (তৎকালীন অধিনায়ক) কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তবে আমি এ ব্যাপারে তার সঙ্গে কোনো কথা বলিনি।’

টেস্টে ৮০০ ও ওয়ানডেতে ৫৩৪ উইকেটের মালিক মুরালি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন ২০১১ সালে। এরপরই কোচিং পেশায় নাম লিখিয়েছেন সেই অস্ট্রেলিয়ায়, যারা এক সময় চাকিংয়ের অভিযোগে তার ক্যারিয়ারটাই অন্ধকারে ঢেকে দিতে চেয়েছিল!

অস্ট্রেলিয়ানরা মুরালির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগালেও শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড একবারের জন্যও তাকে ডাকেনি! চিন্বাসামী জানালেন, স্রেফ মোবাইলে একটা কল করলেই তার ছেলে দেশের ক্রিকেটকে সহায়তা করতে দৌড়ে আসবে, ‘সে নিশ্চিতভাবেই আমাদের দলকে সাহায্য করতে পারবে। ক্রিকেট এবং কোচিং সম্পর্কে তার যথেষ্ট জ্ঞান আছে। সে তাদেরই একজন, যারা কোচিং করাতে এবং তরুণ ক্রিকেটারদের সাহায্য করতে ভালোবাসে। এমনকি এখনো স্রেফ একটা ফোন কল পেলেই সে দেশের ক্রিকেটকে সাহায্য করতে চলে আসবে।’

ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারের সহায়তা পেতে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড কি মুরালিকে ফোনটা করবে?

কেআর

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad