প্রয়োজনে নেট বোলারও হতে চান রফিক

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪

প্রয়োজনে নেট বোলারও হতে চান রফিক

রামিন তালুকদার ৫:১০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৭

print
প্রয়োজনে নেট বোলারও হতে চান রফিক

বর্তমান সময়ে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। বাঘা বাঘা দলকে এখন বলে কয়েই হারাতে পারে টাইগাররা। শুধু মাঠের ক্রিকেটই এগিয়ে যায়নি, বেড়েছে নানা সুযোগ সুবিধা। বিশ্বক্রিকেটের সঙ্গে তাল রেখেই সর্বোচ্চ সুবিধা পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। চড়া বেতন ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে ক্রিকেটারদের আয়ও ঈর্ষনীয়। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার অনেক সৈনিকই পড়ে আছেন অবহেলায়। তাদের মধ্যেই একজন মোহাম্মদ রফিক। বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা স্পিনারই ভাবা হয় যাকে। এ প্রাকৃতিক প্রতিভাধর রাখতে পারতেন দেশের স্পিনার তৈরিতে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে সাড়া না পাওয়ায় অলস সময়ই কাটাচ্ছেন রফিক।

চলতি মাসেই ঢাকায় আসছে অস্ট্রেলিয়া। এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে জয়ের অনেক কাছে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। আর তা সম্ভব হয়েছিল মোহাম্মদ রফিকের দুর্দান্ত বোলিংয়ে। একাই তুলে নিয়েছিলেন অসিদের ৯ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবারও টেস্ট পরীক্ষা টাইগারদের। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সাকিব-তাইজুলদের দিতে পারতেন কার্যকরী উপদেশ। সে ইচ্ছাটা আছে তারও। কিন্তু অদৃশ্য বাঁধায় আটকে আছেন রফিক, ‘আমিতো কাজ করতে চাই। বোর্ড চাইলে আমি যে কোন সময় যেতে আগ্রহী। কিন্তু আমাকেতো ডাকা হচ্ছে না। আমি নিজে আগ্রহ দেখিয়েও বলেছিলাম। কিন্তু একজন মানুষকে কতো আর বলা যায়।’

২০০৮ সালের মার্চে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেন রফিক। সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেরও শেষ ছিল। বর্তমানে সেই জহুর আহেমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছে মুশফিক-তামিমরা। সে প্রসঙ্গ আসতেই পরিবর্তন ডট কমকে আবেগি রফিক বললেন, ‘আমাদের দল এখন চিটাগাং আছে। আমার ইচ্ছা হয় ওদের সাথে যাই। ভাই, বিশ্বাস করেন আমার মনটায় চায় ওদের সাথে নেটে গিয়ে বোলিং করি। কিন্তু কেউ যদি কিছু বলে এই জন্য যাই না। অনেকে বিরক্তও হতে পারে।’

রফিকের সঙ্গে যারা খেলেছেন তাদের অনেকেই আছেন ক্রিকেট বোর্ডে। আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, হাবিবুল বাশার সুমন, হাসিবুল হোসেন শান্ত, হান্নান সরকার, সাজ্জাদ আহমেদ শিপন, সাব্বির খান, এহসানুল হক সেজানরা আছেন নানা দায়িত্বে। তবে টেস্ট ও ওয়ানডেতে দেশের প্রথম শততম উইকেট শিকারি আছেন একরকম ব্রাত্য হয়েই। অথচ ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চান রাফিক। ক্রিকেটের প্রতি আবেগটা প্রকাশ করেন এভাবেই, ‘কারও কাছে শিখে নয় খেলতে খেলতে ক্রিকেটার হয়েছি। ক্রিকেটটা আমার রক্তে মিশে আছে। আজাইরা বসে আছি, আমার দিন কাটেনা, রাত কাটেনা। মনে হয় মাঠে গিয়ে খেলা শুরু করেই দেই।’

১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্থান শুরু। দেশকে এমন আনন্দের উৎস উপহার দেওয়ায় ক্রিকেটারদের তখন নানা উপহার দিয়েছিল সরকার এবং দেশের নামি দামী কোম্পানিগুলো।  সেখানে এক খণ্ড জমি পেয়েছিলেন রফিক। সে জমিতে তৈরি করেছিলেন একটি স্কুল। নিজে পড়তে না পারার আক্ষেপটা মিটিয়েছিলেন। এবার বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার আক্ষেপটা মেটাতে চান একটি একাডেমী তৈরি করে। তার এলাকায় ইতোমধ্যেই স্টেডিয়ামে তৈরির কাজ চলছে। আর তা শেষ হলেই একাডেমীর কাজে নেমে পড়বেন রফিক।

আরটি/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad