বেকার ওয়ার্নাররা বাংলাদেশে আসবেন কিভাবে?

ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭ | ১২ আষাঢ় ১৪২৪

বেকার ওয়ার্নাররা বাংলাদেশে আসবেন কিভাবে?

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:২২ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৭

print
বেকার ওয়ার্নাররা বাংলাদেশে আসবেন কিভাবে?

অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরকে যেন শনির দশায় পেয়ে বসেছে! কয়েক দফা পিছিয়ে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে আসার কথা অস্ট্রেলিয়া দলের। কিন্তু একটা উটকো ঝামেলা তো পুরো অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সিস্টেমকেই অস্বস্তিতে ফেলে রেখেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) দ্বন্দ্বে চাকরী হারাতে যাচ্ছেন স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নাররা। আর তাই যদি হয় অনিশ্চিত হয়ে পড়বে অসিদের বাংলাদেশ সফর।

একটু খুলে বলা যাক। সিএ’র সঙ্গে ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্বটা শুরু হয় লভ্যাংশের সুষ্ঠু বণ্টন নিয়ে। আগে সিএ’র লভ্যাংশের একটা অংশ পেতেন দেশের সকল ক্রিকেটার। ২০ বছর ধরে বণ্টনের এই নিয়ম। তবে নতুন নিয়মে এ অংশ শুধু চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদেরই দিতে চাইছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। সেই প্রস্তাব বোর্ড দিয়েছে খেলোয়াড়দের। আর তাতেই আপত্তি তোলেন ওয়ার্নার-স্মিথরা। এতে করে ঘরোয়া ক্রিকেটার ও নারী ক্রিকেটাররা বঞ্চিত হবেন। তাদের স্বার্থেই নতুন এ চুক্তিতে সাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চুক্তির তালিকায় থাকা ক্রিকেটাররা। অথচ নতুন এ চুক্তিতে তাদের বেতন আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।



এদিকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের নতুন চুক্তিতে সাক্ষর করতে বলে দিয়েছে সিএ। তা না হলে ১ জুলাই তারা চাকরি হারাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জেমস সান্ডারল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম চ্যানেল নাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথাই জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া দলের সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার, ‘ভালো, আমার ১ জুলাই থেকে বেকার হয়ে যাচ্ছি। আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ অপ্রীতিকর অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে একটা চুক্তি হবে বলে আমরা আশা করছি।’

আগামী আগস্টে বাংলাদেশ সফরের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৮ তারিখ ওই দলের ঢাকায় পা রাখার কথা। তবে চলমান ঝামেলার কারণে বাংলাদেশে খেলতে নাও আসতে পারেন ওয়ার্নাররা। ওয়ার্নার নিজেই বলেছেন সেই কথা, ‘আমাদের দিক থেকে এটা বলতে পারি, দলের অন্যান্য সদস্যের মতো আমিও বাংলাদেশ সফরে যেতে চাই। তবে যদি এ সমস্যা থেকে যদি আমরা কিছুই অর্জন না করতে পারি, তাহলে দুই দিকের পক্ষ থেকেই বলা যায়, আমরা বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছি না। এমনকি কোনো সমঝোতা চুক্তি না হলে আমরা অ্যাশেজ খেলতেও যাচ্ছি না।’

সর্বশেষ ২০১১ সালে বাংলাদেশ সফর করে অস্ট্রেলিয়া। সেবার এফটিপিতে পুর্ণাঙ্গ সিরিজ থাকলেও শুধু ৩টি ওয়ানডে খেলেই ফেরত যায় দলটি। কথা ছিল পরবর্তীতে টেস্ট ম্যাচ দুটি খেলতে আসবে তারা। এরপর আসি আসি করতে করতে ২০১৫ সালে নির্ধারিত হয় সূচি। তখন আবার নতুন টালবাহানা। নিরাপত্তার অজুহাতে সফর স্থগিত। এরপর চলতি বছরের আগস্টে সফর চূড়ান্ত হয়। তবে তার আগেই আবার নতুন এ ঝামেলা। বেকার ওয়ার্নাররা বাংলাদেশে আসবেন কিভাবে?

আরটি/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ