টেস্ট স্ট্যাটাস পাচ্ছে আফগানিস্তান?

ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭ | ১২ আষাঢ় ১৪২৪

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭

টেস্ট স্ট্যাটাস পাচ্ছে আফগানিস্তান?

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৭

print
টেস্ট স্ট্যাটাস পাচ্ছে আফগানিস্তান?

কয়েক মাস আগের কথা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসির সভাটা ছিল উত্তপ্ত। সেখানে টাকা কড়ির বিষয় এতো বেশি ঝড় তুলল যে আফগানিস্তানের জন্য অপেক্ষমান বড় খবরটা অনেকে জানতেই পারলো না। তখনই জানা গিয়েছিল, সব ঠিক থাকলে জুনেই এগারোতম দেশ হিসেবে টেস্ট মর্যাদা পেয়ে যাবে আফগানিস্তান। ক্রিকেটে হালে সবচেয়ে উন্নতি করা আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশটি এখন অপেক্ষায়। এই সপ্তাহেই কি টেস্ট মর্যাদা পেয়ে যাবে তারা? লন্ডনে আইসিসির বৈঠকে আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

শুধু আফগানিস্তান নয়, আয়ারল্যান্ডের কথাও শোনা যাচ্ছিল। টেস্ট পরিবারের নতুন দুই সদস্য হিসেবে তাদের যোগ হওয়ার কথা। বাংলাদেশ সেই ২০০০ সালে শেষ সদস্য হিসেবে টেস্ট মর্যাদা পায়। আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ নিয়ে উন্নতির সোপান ধরে এগিয়ে চলে। এখন সেই পথে হাঁটার সময় আসতে পারে আফগান ও আইরিশদের জন্য।

বিশ্ব ক্রিকেটে আফগানরা তো রূপকথা লিখে চলেছে। ক্রিকেটের সবচেয়ে এলিট পর্যায়ে আলোচনায় আসতেও অন্যদের মতো বেশি সময় লাগেনি তাদের। যেমন লেগেছে আয়ারল্যান্ডের। আফগানিস্তান ওয়ানডেতে এখন বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়েকে হারায়। তাদের ঘরের মাঠে খেলার উপায় নেই। যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ। কিন্তু ক্যারিবিয়ান মাটিতে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, জিম্বাবুয়ে গিয়ে জিম্বাবুয়েকে, বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশকে হারিয়ে যাচ্ছে তারা। অদ্ভুত স্পিরিট দলটার।

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান আতেফ মাশাল বলেছেন, 'আশা করি আমাদের আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ ও টেস্ট মর্যাদা আমরা পেতে যাচ্ছি। ক্রিকেট বোর্ডের ভেতরে আমাদের একটি কমিটি এটা নিয়ে কাজ করছে। অবশ্য তা আইসিসির ওপর। আফগানিস্তানকে কবে টেস্ট মর্যাদা দেবে সেটা আইসিসির ব্যাপার। আমাদের হাতে নেই।'

তবে যা তাদের হাতে ছিল তা ঠিকই করেছে। মার্চে আসগার স্তানিকজাইয়ের দল আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে জিতল ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ। সেটি তাদের টেস্ট মর্যাদার দাবি আরো জোরালো করেছে। আফগানিস্তানে আসলে ক্রিকেটের নিজস্ব কোনো ঐতিহ্য বা সংস্কৃতি নেই। অনেক আগে থেকে যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে চলা দেশটিতে এই খেলা জনপ্রিয়তা পেয়েছে আধুনিক যুগে। যখন তারা তালিবানমুক্ত।

১৯৮০ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসণ চলছে তখন অনেক আফগান দেশান্তরী হয়েছেন। রিফিউজি হয়ে পাশের দেশ পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়ে ওখানেই শিখেছেন ক্রিকেট খেলাটা। তাদের হাত ধরে আফগান উদ্বাস্তু ক্যাম্পে ক্যাম্পে ক্রিকেটের চল বেড়েছে। আজকের মোহাম্মদ নবী কিংবা রশিদ খান অথবা আফগান দলের বাকী সবারই ইতিহাস প্রায় একই। তালিবান রাজ্য ছিল যখন তখন তো আফগানিস্তানে খেলাধুলার কোনো জো ছিল না। কতো মানুষ যে তখন উদ্ধাস্তু হয়েছেন। তাদের কারো কারো সন্তান রশিদের মতো প্রতিভাবান টিনএজাররা। পাইপ লাইনে এরকম আরো অনেক রশিদ আছেন।

এখন তো আফগানিস্তানেও ক্রিকেট খেলাটা চলছে বেশ। সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। এখন আর খেলার মাঠে প্রকাশ্যে ফাঁসির রীতি নেই। মানুষ খেলা নিয়ে মেতে থাকতে পারে। ক্রিকেট তাদের বাঁচার ফুয়েল দিচ্ছে নতুন করে। ২০০১ সাল থেকে যে পরিবর্তনটা একটু একটু করে আসছে তারই প্রভাব এসব। আফগানিস্তানে খেলতে যাওয়ার বুকের পাটা নেই কোনো ভিনদেশী দলের।

আফগানরাও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা থেকে ভারতের নইদায় নিজেদের হোম ভেবে অনুশীলন করে চলে। তৈরি হয়। তারাও স্বপ্নে দেখে। একদিন সাদা পোষাকে ক্রিকেটের অভিজাত খেলা টেস্ট খেলবে। সেই স্বপ্নপূরণ হয়তো খুব দূরে নয়। তবে নিজের দেশে টেস্ট খেলা? মর্যাদা পেলেও সেই স্বপ্নটা অবশ্য সহসা পূরণ হওয়ার নয়।

ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ