'ভেবেছিলাম জাতীয় দলের জন্য নয় পরিবারের জন্য খেলবো'

ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭ | ১২ আষাঢ় ১৪২৪

'ভেবেছিলাম জাতীয় দলের জন্য নয় পরিবারের জন্য খেলবো'

রামিন তালুকদার ৯:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ০৪, ২০১৭

print
'ভেবেছিলাম জাতীয় দলের জন্য নয় পরিবারের জন্য খেলবো'

তিনি 'মিস্টার ফিনিশার'। রান ৪৭৭। ৬ ম্যাচে নট আউট! গড় ৪৭৭! ২ সেঞ্চুরি, ৩ ফিফটি। ঢাকা লিগে নাসির হোসেনের এই পরিসংখ্যান চোখ কপালে তোলার মতোই ব্যাপার! এমন খেলোয়াড়ই কি না জাতীয় দলে জায়গা পান না! কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে একটা রহস্য আছে। এবারের লিগে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে চার নম্বরে ব্যাট করার জন্য আরো বড় অফারও ছেড়েছেন এই অল-রাউন্ডার। মাঝে জাতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডে না থাকলে আরো কি যে হতো! জাতীয় দলের কথা মাথা থেকে বাদ দিয়ে, 'ফিনিশার' নাম ভুলে কেবল 'রান মেশিন' হওয়ার কথা মাথায় রেখেই এই সাফল্য নাসিরের। অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলকে নিয়েছেন শিরোপার কাছাকাছি। পরিবর্তন ডট কমের প্রতিবেদক রামিন তালুকদারের কাছে রোববার দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাসির হোসেন জানালেন তার রূপান্তর ছাড়াও আরো অনেক কিছুই।

পরিবর্তন : প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি, সে ম্যাচের শুরুতেই মোহামেডানের সেরা বোলার তাইজুলকে এক ওভারে দুটো ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন, আপনার কি মনে হয় সেখান থেকেই আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে?

নাসির : প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছিলাম। আসলে এ বছর উইকেটগুলো খুব ভালো ছিল। সত্যি বলতে কি প্রথম ম্যাচে কোনো চাপ ছিল না। আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি তখন দল ভালো অবস্থানে ছিল। আর আপনি রান পেলে আত্মবিশ্বাস বাড়বেই। প্রথম ম্যাচেই রান করার সুযোগ পেয়েছি। আস্তে আস্তে করেছি। আসলে খুব ভালো লেগেছে ব্যাটিং করে। আর টুর্নামেন্টের শুরুতেই একটা বড় স্কোর করলে তা আপনার মনে গেঁথে যায় যে কিভাবে এ রানটা করেছেন। ব্যাটিং নেমে প্রথম ১০ রান ২০ কিভাবে করেছেন, শুরু কিভাবে করেছেন, কখন মেরেছেন, কিভাবে ইনিংস বড় করেছেন। আল্লাহর রহমতে প্রথম ম্যাচেই আমি বুঝে গেছি প্রিমিয়ার লিগে রান কিভাবে করতে হবে। আর এটাই এখন আমি ব্যবহার করছি। ভালো হচ্ছে।

পরিবর্তন : নিয়মিত চার নম্বরে ব্যাট করছেন। অনেক সময় দেখা যায় দলের কম্বিনেশনের কারণেও পজিশন বদলাতে হয়। আপনার কি মনে হয় এ কারণে আপনার পারফরম্যান্স এতো ভালো হচ্ছে?

নাসির : আমি দলে আসার আগেই স্যারের (গাজীর কোচ সালাহউদ্দিন) সঙ্গে কথা হয়েছে যে আমি চারে খেলবো। আমি যদি ১০টা ম্যাচ খারাপও খেলি আমাকে চারে খেলাবেন। আর যদি চারে না খেলাতে চান তাহলে আমাকে খেলাবেন না। এই শর্তেই আমি গাজীতে এসেছি। এর চেয়ে ভালো অফার ছিল কিন্তু আমি তা সেক্রিফাইস করেছি।

পরিবর্তন : আপনার কি মনে হয় চার নম্বরই আপনার ব্যাটিংয়ের আসল জায়গা? তা যেখানে যে কোন দলের হয়ে।

নাসির : নম্বর ৪। আমি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। আমার জন্য আদর্শ জায়গা হলো চার, পাঁচ, ছয়। সত্যি কথা বলতে কি সাতে এমন একজন খেলোয়াড় দরকার যে ২০ বলে ৫০ করতে পারে। যেমন ওয়েস্ট ইন্ডিজে দেখেন রাসেল-টাসেল যারা আছে সবাই পাওয়ার হিটার। আমার জন্য এটা খুব কঠিন। আমার জন্য যেটা দরকার তা হলো আমি যাবো, উইকেটে সেট হবো। হয়তোবা ৫/১০ বল খেলবো। সাতে নামলে দেখা যায় প্রতি ওভারে ৭, ৮, ৯, ১০ করে লাগে। তখন উইকেটে গিয়েই মারতে হয় কিংবা উইকেট সেট হওয়ার সময় পান না। দেখা গেল ৩ ওভার আছে, মারতেই হবে। কোনোদিন এভাবে সফল হবেন কোনোদিন না। শুধু আমার জন্যই না, পরিবর্তন : আমার মনে হয় সবার জন্যই এটা অনেক কঠিন। কিছু সময় পেলে ওভার একটু বেশি থাকলে মানে সেট হবার সময় থাকলে ভালো করা যায়।

পরিবর্তন : আগে থেকে নিজের ব্যাটিং অর্ডার বা দলের ব্যাটিং অর্ডার জানা আসলে কতোটা স্বস্তিদায়ক?

নাসির : এটা অবশ্যই আপনাকে মানসিকভাবে খুব সাহায্য করবে যদি আপনি জানেন আপনি কোথায় ব্যাটিং করবেন। ধরেন আপনি জানেন আপনি ওপেন করবেন তাহলে আপনার প্রস্তুতি ওইভাবেই থাকে যে ওদের নতুন বলে কে বল করবে, কিভাবে ফিল্ড সেট করে। কিন্তু তাকে হঠাৎ করে পাঁচ নম্বরে নামিয়ে দেন তাহলে তার কাছে সম্পূর্ণ পরিবেশটাই অচেনা লাগবে। সব খেলোয়াড় বাইরে থাকবে, বল পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি আপনার জায়গা সম্পর্কে জানলে ব্যাটসম্যান হিসেবে আপনার অনেক আত্মবিশ্বাস থাকবে।

পরিবর্তন : এখন সবাই বলছে, আপনি বল নির্বাচন খুব ভালো করছেন কিংবা কখন কোন বোলারকে মেরে খেলতে হবে এটা খুব ভালো বুঝতে পারছেন।  আপনার কি মনে হয় এতে আপনার মধ্যে একটা বড় পরিবর্তন এসেছে?

নাসির : সত্যি বলতে কি এই প্রিমিয়ার লিগে আমার সূচনাটা খুব ভালো হচ্ছে। আপনি জানেন যে এভাবেই খেলতে হয় কিন্তু অনেক সময় হয়না। হঠাৎ খেলতে খেলতে একটা বাজে শট মেরে আউট হয়ে যেতে পারেন। যখন মারার দরকার না তখন হঠাৎ করে মেরে আউট হয়ে গেলেন। এগুলো হঠাৎই চলে আসে। এ বছরটায় আল্লাহর রহমতে আমি বুঝছি যে কখন মারার দরকার কখন আমার সিঙ্গেলসের ওপর খেলা দরকার, কখন ধরে রাখা দরকার। ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনা যাকে বলে সেটা ভালো হচ্ছে। যখন সেট হয়ে যাচ্ছি তখন একটাই চেষ্টা থাকে যে উইকেট দেবনা। সবচেয়ে বড় কথা জোরাজুরি করছিনা। আগে যেটা করতাম একটা ফিল্ডার সামনে থাকলে কিছুক্ষণ খেলার পর ওই ফিল্ডারের মাথার উপর দিয়ে মারতে যেতাম। জোর করে মারতাম আরকি। দেখা যেত কোনো সময় সফল হতাম কোনো সময় আউট হয়ে জেতাম। ধরেন সুইপ শটের দরকার নেই  তবু হঠাৎ মেরে আউট হয়ে যেতাম। এই জিনিসটা বুঝছি যে এখন মারা যাবে না বা কখন ঝুঁকি নিতে হবে। এ ধরণের ছোট ছোট জিনিসই অনেক সাহায্য করে।

পরিবর্তন : অনেকেই বলে থাকে এমন কি আপনার কোচরাও, আপনি পুল শটে কিছুটা দুর্বল। এটা নিয়ে কাজ করছেন। 

নাসির : আপনি যদি আমার পুরো ক্যারিয়ার দেখেন... আমার মনে পড়ে না যে পুল শটে খুব বেশি আউট হয়েছি। প্রত্যেকের খেলার ধরণ একেক রকম। হয়তো আপনি কাভার ড্রাইভ ভালো খেলেন বা পুল ভালো মারেন। হয়তো আমি কাভার ড্রাইভ মারতে পারি না। সবারই কিছু আলাদা ফেভারিট শট থাকে আবার কিছু জায়গায় সার্ভাইভ করে। যেমন স্টিভ ওয়াহ তার ক্যারিয়ারের একটা বড় অংশ রান করেছেন সুইপ আর কাট শটে। পুল নিয়ে আমার তেমন কিছু বোলার নেই।

পরিবর্তন : শুরু থেকেই এবার দারুণ ছন্দে আছেন, ভালো ব্যাটিং করছেন। এর জন্য হয়তো আপনাকে বোলিংটা সেক্রিফাইস করতে হয়েছে। কারণ এবারের লিগে আপনাকে ওইভাবে বোলিং করতে দেখা যায়নি।

নাসির : আগে অন্যান্য দলে যখন খেলেছি তখন সব ম্যাচেই দশ ওভার বল করেছি। এখানে সেটা করতে পারছিনা কারণ এখানে জুনিয়র ছেলেরা আছে। যেমন মেহেদী হাসানের কথাই ধরি। ও ৭ নম্বরে ব্যাট করে। অনেক ম্যাচে ব্যাটিংও পায় না। অফস্পিন করে। এখন আমি যদি বোলিং করি তাহলে ও তো এখান থেকে কিছুই পেলো না। না বোলিং করলো, না ব্যাটিং করলো, শুধু ফিল্ডার হিসেবে খেলা। আর আমি যেহেতু ব্যাটিং করছি তাই চাইছি ও বল করুক। তারপর যদি দরকার হয় আমি করি।

পরিবর্তন : আপনার কোচ বলেছেন আপনাকে আসলে আপনার মতো খেলতে দেওয়া উচিৎ। জাতীয় দলে ঢোকার জন্য খেলাটা আপনার জন্য চাপ হবে। এটা আপনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে কতোটা মনে করেন?

নাসির : সত্যি কথা বলতে আমি এখন ক্রিকেটটা অনেক উপভোগ করছি। জাতীয় দল থেকে বাদ পরার পর খারাপতো লাগছেই। তবে এটা থেকে আমি কামব্যাক করেছি। ভেবেছি এটাই সব কিছু না। আমি যদি এটা নিয়েই পড়ে থাকি তাহলে প্রিমিয়ার লিগেও পারফর্ম করা কঠিন হয়ে যাবে। অনেককে দেখেছি এটা নিয়ে পড়ে থাকতে থাকতে একেবারে হারিয়ে গেছে। তাই আমি এখন চিন্তা করেছি, আমি আসলে জাতীয় দলের খেলার জন্য খেলবো না নিজের জন্য খেলবো। আর গাজী গ্রুপের জন্য খেলবো। এখন আমার মাথায় নেই যে জাতীয় দলে খেলবো বা অন্যকিছু।

পরিবর্তন : আপনি বললেন এসব আপনার মাথায় নেই, আপনার কি মনে হয় এটাই আপনার ভালো পারফরম্যান্সের অন্যতম কারণ?

নাসির : আপনি যখন রানের জন্য খেলবেন তখন আপনার রান করা কঠিন। যদি মনে করেন এ ম্যাচে আপনাকে রান করতেই হবে তখন রান করা অনেক কঠিন হবে। আর আপনি যদি জানেন যে রান করার এতো তাড়া নেই, খেলাটা উপভোগ করে খেলা মানে রিল্যাক্স থাকা, তখন অনেক সহজ হয়ে যায় রান করা। এমনকি আমার পরিবারের সদস্যরাও বলে দিয়েছেন, 'তোকে জাতীয় দলে খেলতে হবে না তুই প্রিমিয়ার লিগে খেল। তুই ভালো খেললেই আমাদের ভালো লাগে, ব্যাস শেষ...এখন সেটা যেখানেই হোকনা কেন।'

পরিবর্তন : আপনার কি মনে হয় জাতীয় দলের কথা বাদ দিয়ে নিজের মতো খেললে আপনি সফল হবেনই?

নাসির : জাতীয় দল মাথার একটা জায়গায় তো থাকেই। তবে ওইটার জন্য খেললে সব অনেক কঠিন হয়ে যায়। এখানে যেখানে যার অধীনে খেলেন না কেন পারফর্ম করতে হবে। আর শেষে এই ফলটাই জাতীয় দলে ঢোকার ক্ষেত্রে কাজে দেবে। আর শুধু জাতীয় দল লক্ষ্য করে খেললে এ পারফর্ম করা সম্ভব হবে না। বা হলেও তিন চার ম্যাচ পর একটা।

পরিবর্তন : আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়ে একটা কথা জিজ্ঞাসা করি। শেষ ম্যাচে আপনি শুরুতেই একটা ক্যাচ মিস করেছেন, নিজের প্রথম ওভারে ১০ রান দিয়েছে।  তারপর আপনি যেভাবে কামব্যাক করেছেন মানে যে ম্যাচুরিটি দেখিয়েছেন সেটা অবিশ্বাস্য। আপনি ব্যাট করার সুযোগ পাননি। অনেকেই দেখা যায় এ সময় উল্টো ব্যাকফুটে চলে যায়...

নাসির : সত্যি বলতে আমি আট নয় মাস পর একটা ম্যাচ খেলেছি। আমি আগে এতো চাপে কোনোদিনও ছিলাম না। বল আসছে আমার কাছে মনে হচ্ছিল আগুন আসছে! চাপে এমনটা হয়েছে এটাই সত্যি কথা। প্রথম চার বলের মাথায় ক্যাচ ফেলে দিয়েছি খুব খারাপ লাগছিল। আগে যেটা হতো, যেখানে বল বেশি যেতো সেখানে নিজ থেকেই জেতাম ফিল্ডিং করতে। আর তখন কোথায় কম বল যায় সেটা খুঁজছিলাম। চাপে এমন হয়ে গিয়েছিল। তারপর বল করতে গিয়েও প্রথম ওভারে ১০ রান দিয়ে ফেললাম। তখন মানসিকভাবে আরো ডাউন হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর ধীরে ধীরে নিজেকে বললাম 'ঠিক আছে, ঠিক আছে'। আর ক্রিকেট খেলায় একটা দুইটা বলই সব বদলে দিতে পারে। ফিল্ডিংয়ের সময় নিজেকে বলছিলাম 'রিল্যাক্স থাকি, রিল্যাক্স থাকি। পরে বল হাতে নিয়ে আল্লাহর রহমতে খুব খারাপ বল করিনি।

পরিবর্তন : আপনার কি মনে হয়ে  এই যে আপনি রিল্যাক্স থেকে খেলতে পারছেন এটাই আপনার বেড়ে ওঠার একটা লক্ষণ?

নাসির : ওই সকল লেভেলে আপনি যত রিল্যাক্স থাকবেন যতো মানসিকভাবে শক্ত থাকবেন আপনার জন্য ততো ভালো। আপনি ক্যাচ মিস করেছেন, ১ ওভারে ১০ রান দিয়েছেন, এটা নিয়ে পড়ে থাকলে পরে আর ভালো বল করতে পারতেন না। মানে আপনি ওইখানেই শেষ। ক্রিকেটে একটা খেলোয়ারের 'হিরো' হতে খুব সময় লাগে না।  ক্রিকেটে ১ ওভারই সব বদলে দিতে পারে। দেখা যায় পরে এক ওভার বল করলেন তাতে দুইটা উইকেট পেয়ে যেতে পারেন। তাহলে সবাই পুরো ম্যাচের সব ভুলে যাবে কিন্তু। আপনি যদি মানসিকভাবে শক্ত থাকেন তাহলে এমন হবে আপনার সাথে। না থাকলে আরও দুর্বল হয়ে পড়বেন।

পরিবর্তন : আগামীকাল (সোমবার) আর ২৩ রান করতে পারলে লিগ শেষে আপনার গড় ৫০০ হবে। এটা একটা রেকর্ড। কি ভাবছেন এ নিয়ে?

নাসির : আমি কোন রেকর্ড-টেকর্ড নিয়ে ভাবি না। আমার মাথায় এসব নেই। খেলার জন্য খেলবো এই আর কি।

পরিবর্তন : আপনার নামের সঙ্গে একটা ট্যাগ লাগানো ছিল 'মিস্টার ফিনিশার'। মানে আপনি ম্যাচ ফিনিশ করে আসবেন, অনেকেরই প্রত্যাশা থাকবে। তবে এবার এটা ছিলো না। তারপরও প্রতি ম্যাচেই ফিনিশ করে এসেছেন। আপনার কি মনে হয় এই ট্যাগ এবার আপনার নিজের জন্য সঠিক?

নাসির : আত্মবিশ্বাস আছে। আমি দলের জন্য খেলি। শেষ এমন কিছু ম্যাচ হয়েছে ৩০ রান আছে ৫ উইকেট হাতে আছে। তখনও আমি ভেবেছি যদি আমি আউট হয়ে যাই তাহলে এ ৩০ রান করতেই আমাদের কষ্ট হয়ে যাবে। তখন ভেবেছি এখন আউট হওয়া যাবে না। আরো ২০টা রান করি আমার দলের জন্য। আমার একটা রোল থাকে দলে। আমার যে রোল সৌরভের (মুমিনুল হক) সে রোল না কিংবা বিজয়ের (আনামুল হক) সেটা না। ওরা ওদের পরিকল্পনায় খেলে আমি আমার। আমার পরিকল্পনা আমি ইনিংসটা লম্বা করবো।

পরিবর্তন : নতুন এ ভূমিকা কেমন লাগছে? মানে অধিনাকত্বের ব্যাপারটা?

নাসির : এই লেভেলে অধিনায়কের তেমন কিছু করার থাকে না। এখানে সবাই পেশাদার। ধরেন ১৩/১৪ বছরের হলে একটা কথা ছিল। যে কোথায় দাঁড়াবে না দাঁড়াবে এমন কিছু থাকে। এই লেভেলে ছোট ছোট কিছু সিদ্ধান্ত আছে। আমার মনে হয়না খুব কঠিন কিছু আছে। তবে যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারি তাহলে খুব ভালো লাগবে। কারণ এর আগে প্রিমিয়ার লিগে অধিনায়কত্ব করেছি কিছু ম্যাচে।  তবে চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। তো আমার অধীনে যদি একটা দল চ্যাম্পিয়ন হয় এটা অবশ্যই ভালো লাগার একটা ব্যপার।

পরিবর্তন : আর কোচ সালাহউদ্দিনের সঙ্গে কেমন উপভোগ করছেন?

নাসির : সালাহউদ্দিন স্যার আমার বিকেএসপির কোচ। অনেক সময় আমার স্যারের সঙ্গে কথা হয় খেলা নিয়ে। স্যারকে আগেই বলেছিলাম আপনার সঙ্গে একটা বছর খেলবো। খেলছি ভালোই লাগছে। স্যার আমাকে কোন চাপই দিচ্ছেন না। আমাকে আমার মতোই খেলতে দিচ্ছেন। আর আমি এটা উপভোগ করছি। আমার যে সকল স্বাধীনতা দরকার স্যার সব স্বাধীনতাই দিচ্ছেন আমাকে।

আরটি/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ