হেসেখেলেই জিতল বাংলাদেশ

ঢাকা, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

হেসেখেলেই জিতল বাংলাদেশ

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৭

print
হেসেখেলেই জিতল বাংলাদেশ

আয়ারল্যান্ডকে ১৮১ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ের মঞ্চটা তৈরি করে রেখেছিলেন বোলাররাই। ব্যাটসম্যানদের কর্তব্য ছিল শুধু সেই সাজানো মঞ্চে দাঁড়িয়ে জয়টাকে হাতের মুঠোয় পোড়া। তা ব্যাটসম্যানরাও নিজেদের সেই কাজটা করছে ঠিকঠাক মতোই। সৌম্য-তামিম-সাব্বিরের ব্যাটে চড়ে বাংলাদেশ হেসেখেলেই তুলে নিয়েছে ৮ উইকেটের জয়। ২২.৫ ওভার বাকি থাকতেই ৮ উইকেটে জয়, হেসেখেলেই তো।

 

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টি বাগড়ায় পণ্ড হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হার। সেই হতাশা দূর করে শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা বাংলাদেশের খুব দরকার ছিল।  প্রয়োজনীয় সেই জয়টা ধরা গেছে অনায়াসেই। ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার শুরুটা করেছিলেন সাবধানেই। লক্ষ্য ছোট হলে ব্যাট করা যায় চাপহীন। সে কারণেই কিনা খোলস ছেড়ে বেরোতে খুব বেশি দেরি হয়নি তাদের।

প্রথম ৪ ওভারের পর থেকেই চালিয়ে খেলা শুরু করেন তামিম। সঙ্গীকে মারতে দেখে সৌম্য কী আর খোলস বন্দী থাকতে পারেন! তিনিও তাই খেলতে থাকেন হাত খুলে। ফল, ১৩.৫ ওভারের উদ্বোধনী জুটিতেই তারা তুলে ফেলেন ৯৫ রান। এই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ারের ৩৫তম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা তামিম ৩৬তম হাফসেঞ্চুরির দিকেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাকে শেষ পর্যন্ত তা স্পর্শ করতে দেননি আয়ারল্যান্ডের দুই ভাই কেভিন ও’ব্রায়ান ও নিয়াল ও’ব্রায়ান।

দুই ও’ব্রায়ান ভাইয়ের কম্বিনেশনের শিকার হয়ে তামিম ফিরেন ব্যক্তিগত ৪৭ রানে। কেভিন ও’ব্রায়ানের বলে সহজ ক্যাচ নিয়েছেন উইকেটকিপার নিয়াল ও’ব্রায়ান। ৫৬ বলের ইনিংসে তামিম চার মেরেছেন ৬টি। তামিম হাফসেঞ্চুরি করতে না পারলেও সৌম্যকে সেই আক্ষেপে পুড়তে হয়নি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৬১ রানের ইনিংস খেলা সৌম্য ঠিকই তুলে নিয়েছেন টানা দ্বিতীয় এবং ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি। সৌম্য হয়তো পেতে পারতেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিও। কিন্তু অপরাজিত ৮৭ রান করার পরই যে দল পৌঁছে যায় লক্ষ্যে।

দলকে ৯৫ রানে রেখে তামিম বিদায় নেওয়ার পর সাব্বির রহমানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৬ রানের জুটি গড়েন সৌম্য। এক ছক্কা ও ৩ চারে ৩৪ বলে ৩৫ রান করে সাব্বির আউট হলেও মুশফিকুর রহীমকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের বাকি কাজটুকু অনায়াসেই সেরেছেন সৌম্য। সৌম্যর হার না মানা ৮৭ রানের ইনিংসটি ৬৮ বলে। তার যে ইনিংসে ছিল ২ ছক্কা ও ১১টি চারের মার। মুশফিক অপরাজিত থাকেন ৩ রান করে।

প্রথম দুই ম্যাচেই টস হারা বাংলাদেশ এ দিন জিতেছিল টসও। আর টস জিতে আগের ম্যাচগুলোর ধারাবাহিকতা ধরে রেখে মাশরাফিও ফিল্ডিং নেন প্রথমে। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়াটা যে ত্রিদেশীয় এই টুর্নামেন্টে নিয়মই হয়ে দাঁড়িয়েছে! তো বোলিং করতে নেমে শুরুতেই উইকেট আনন্দে মেতে উঠে বাংলাদেশ। নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই আইরিশ ওপেনার পল স্টারলিংকে আউট করে দলকে দিনের প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। পরে আরও ৩ উইকেট তুলে নিয়ে আইরিশদের বড় সর্বনাশটা করেছেন তিনিই। সঙ্গে অভিষিক্ত সানজামুল ইসলাম, অধিনায়ক মাশরাফি, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেনরাও যোগ দেন উইকেট উৎসবে। সানজামুল ও মাশরাফি নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। সাকিব ও মোসাদ্দেক একটি করে।

আইরিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন চোট কাটিয়ে এই ম্যাচ দিয়েই দলে ফেরা ওপেনার এড জয়েস। এ ছাড়া কেভিন ও’ব্রায়ান ৩০, ডকরেল ২৫, অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ২২ রান করেন।

দারুণ এই জয়ে পূর্ণ ৪ পয়েন্টই পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট হলো ৬। দুই ম্যাচেই ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচে আইরিশদের পয়েন্ট মাত্র ২।

কেআর

print
 

আলোচিত সংবাদ