বোলিং স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তনেই এই সাফল্য!

ঢাকা, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

বোলিং স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তনেই এই সাফল্য!

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:১৫ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৭

print
বোলিং স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তনেই এই সাফল্য!

এ বছরে খেলা আগের ৫ ম্যাচের মধ্যে ৪টিতে বোলিং করার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই ৪ ম্যাচেই বোলিং উদ্বোধন করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। নতুন বলে কখনো তার সঙ্গী হয়েছেন মোস্তাফিজ, কখনো মেহেদী হাসান মিরাজ, কখনো সাকিব আল হাসান। এর আগে গত ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেরও তিন ম্যাচেই বোলিং উদ্বোধন করেছেন মাশরাফি। দুই ম্যাচে নতুন বলে তার সঙ্গী হয়েছিলেন মোস্তাফিজ, এক ম্যাচে শুভাশীষ রায়। মানে নতুন বলে মাশরাফির বোলিং করাটা এক রকম নিয়মই যেন হয়ে গিয়েছিল! দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বলেই কিনা, শুক্রবার ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে সেই নিয়ম ভাঙলেন মাশরাফি। শুধু নিয়ম ভাঙলেনই না, বোলিং স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করে মাশরাফি এ দিন নতুন বল তুলে দিলেন রুবেল হোসেনের হাতে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচটিতে যিনি বোলিং করতে এসেছিলেন ৭ নম্বর বোলার হিসেবে!

শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নতুন বলে রুবেলের সঙ্গী হলেন মোস্তাফিজ। অধিনায়ক মাশরাফি বল হাতে নিলেন ৩ নম্বর বোলার হিসেবে। সাকিব আল হাসান এলেন আরও পরে, ৫ নম্বরে। মাঝে এ দিন মাশরাফি ৪ নম্বরে বল দিলেন অকেশনাল বোলার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। বোলিং স্ট্র্যাটেজির পরিবর্তন কাজেও এসেছে দারুণ। আগের ম্যাচে দারুণ বোলিং করা রুবেল বোলিং অর্ডারে প্রমোশনটাকে সার্থক প্রমাণ করতে পারেননি বটে। তবে অন্যপ্রান্ত দিয়ে বোলিং করতে এসে মোস্তাফিজ উইকেট পেয়ে যান শুরুতেই। নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই কাটার মাস্টার শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন পল স্টারলিংকে।

৪ নম্বরে বোলিং করতে এসে মোসাদ্দেকও নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই পেয়ে যান উইকেট। আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে দেন দ্বিতীয় ব্রেক থ্রু। আয়ারল্যান্ড তখন ২ উইকেটে ৩৭ রানের দল। শুরুর সেই চাপটা ধরে রেখেই আইরিশদের অলআউট করে দিয়েছে ১৮১ রানে। সাকিব আল হাসান, অভিষিক্ত সানজামুল ইসলাম ও অধিনায়ক মাশরাফিও পেয়েছেন উইকেট। তবে আইরিশদের বড় সর্বনাশটা করেছেন মোস্তাফিজই। অভিষেকেই বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া মোস্তাফিজ চোটের সঙ্গে লড়াই করে মাঠে ফিরলেও নিজের ছন্দটা ঠিক খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তবে এদিন ডাবলিনের মেলাহাইড স্টেডিয়ামে মোস্তাফিজ যেন ধরা দিলেন অভিষেকের সেই অগ্নিমূর্তিরূপে। কাটার, স্লোয়ার, বাউন্সার, ইয়র্কারে নাস্তানুবাদ করেছেন আইরিশ ব্যাটসম্যানদের। ৯ ওভারে রান দিয়েছেন ২৩টি, উইকেট নিয়েছেন ৪টি।

৬১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আইরিশদের দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এড জয়েস ও নিয়াল ও’ব্রায়ান জুটি। চতুর্থ উইকেটে দুজনে ৫৫ রানের জুটি গড়ে আভাস দিচ্ছিলেন বড় কিছু করার। কিন্তু তাদের সেই বাসনায় বাধ সাধেন মোস্তাফিজ। নিয়াল ও’ব্রায়ানকে ফিরিয়ে দিয়ে ভেঙে দেন এই জুটি। একটু পর সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে ওঠা এড জয়েসকে বিদায় করে সানজামুল ইসলাম পান প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট প্রাপ্তির স্বাদ। এরপর মিনিট বিশেকের ব্যবধানে কেভিন ও’ব্রায়ান এবং গ্যারি উইলসনকেও প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান মোস্তাফিজ। মোট ৪ স্পেলে বোলিং করেছেন মোস্তাফিজ। প্রথম স্পেলে ২ ওভারে ১ মেডেন, ১০ রান, ১ উইকেট। দ্বিতীয় স্পেলে ১ ওভার, ৫ রান, উইকেট নেই। তৃতীয় স্পেলটি করতে এসে ভেঙে দিয়েছেন আইরিশ ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডই। ৫ ওভারের স্পেলে ১ মেডেন, ১২ রান, ৩ উইকেট। ১ ওভারের চতুর্থ স্পেলে উইকেট না পেলেও রান দিয়েছেন মাত্র ১টি। ৪৭তম ওভারটি করতে এসে ২ উইকেট নিয়ে আইরিশ ইনিংসটা মুড়িয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি। মাঝে ম্যাকার্থির উইকেটটিও নেওয়া সানজামুলের অভিষেক ম্যাচে বোলিং বিশ্লেষণ ৫-০-২২-২।

স্বাগতিকদের ১৮১ রানে বেঁধে ফেলে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক মতোই সেরেছেন বোলাররা। দলকে জয় এনে দেওয়ার দায়িত্বটা এখন ব্যাটসম্যানদের কাঁধে। তামিম-সৌম্য-সাব্বির-মুশফিক-সাকিবরা পারবেন ১৮২ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করে দেশকে জয় এনে দিতে? লক্ষ্য যখন এতো ছোট, জয়ের আশা করাই যায়।

কেআর/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ