মোস্তাফিজদের তোপে ১৮১ রানেই শেষ আইরিশরা

ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

ত্রিদেশীয় সিরিজ

মোস্তাফিজদের তোপে ১৮১ রানেই শেষ আইরিশরা

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:১০ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৭

print
মোস্তাফিজদের তোপে ১৮১ রানেই শেষ আইরিশরা

শেষবার ২০১০ সালে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশটা বৃষ্টিতে পণ্ড প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেছিল। শুক্রবার ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজে ফের দেখা যখন তখন জয়ের স্বপ্ন নিয়েই নেমেছিল মাঠে। কিন্তু কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ফিরেছেন তার চেনা চেহারায়। ২০১৫ সালের শেষটার পর সেরা বোলিং দেখা গেল এখানেই। ২৩ রানে ৪ উইকেট। শেষটায় অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ২ উইকেট। অভিষিক্ত স্পিনার সানজামুল ইসলামেরও শিকার ২ ব্যাটসম্যান। ১টি করে উইকেট সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেনের। টাইগারদের এই সম্মিলিত বোলিং আক্রমণে দুশো রানেও পৌঁছাতে পারেনি আইরিশরা। পারেনি ৫০ ওভারও টিকে থাকতে। ৪৬.৩ ওভারে মাত্র ১৮১ রানেই বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ গুটিয়ে দিয়েছে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের ইনিংস।

.

শুক্রবার ডাবলিনের মালাহাইড স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামে আয়ারল্যান্ড। তবে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপে পড়ে দলটি। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান পল স্টারলিংকে (০) হারায় তারা। মোস্তাফিজের বলে শর্ট থার্ডম্যানে ডান দিকে ঝুঁকে দারুণ ক্যাচ ধরেন সাব্বির রহমান। তবে আইরিশ শিবিরে বড় আঘাতটি হানেন মোসাদ্দেক। বাংলাদেশকে পেলে নিজেকে ব্র্যাডম্যান ভাবা অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে (২২) ফেরান তিনি। নিচের দিকে কিছুটা ঝুঁকে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নেন মোসাদ্দেক। তবে আরও আগেই আউট হতে পারতেন আইরিশ অধিনায়ক। মাশরাফির বলে শর্ট এক্সট্রা কভারে সহজ ফেলেছিলেন মোসাদ্দেকই। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে জেতা শেষ ম্যাচে পোর্টারফিল্ড করেছিলেন সেঞ্চুরি।

এরপর ১৫তম ওভারে এন্ড্রু বালবিরনিকে (১২) সাকিব বোল্ড করলে আরো চাপে পড়ে যায় দলটি। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ড ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল নিয়াল ও'ব্রায়ান এবং এড জয়েসের ব্যাটে। ৫৫ রানের দারুণ একটি জুটিও গড়েছিলেন তারা। ২৮তম ওভারে বল হাতে নিয়েই এ জুটি ভাঙ্গেন মোস্তাফিজ। নিয়ালকে তামিম ইকবালের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ব্যক্তিগত ৩০ রানে আউট হন নিয়াল।

এক প্রান্তে উইকেট হারালেও অন্য প্রান্তটি আগলে রেখেছিলেন এড জয়েস। আগের দুই ম্যাচে না খেললেও তৃতীয় ম্যাচে এসে নির্ভরতার প্রতিক হয়ে উঠছিলেন তিনি। তাকে ফেরান অভিষিক্ত সানজামুল। হাফ সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে বাউন্ডারি লাইনে তামিমের ক্যাচে পরিণত হন এ আইরিশ।

এর পর আইরিশ শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। ভয়ংকর ব্যাটসম্যান কেভিন ও'ব্রায়ানকে আউট করার পর শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান গ্যারি উইলসনকেও ফেরান তিনি। তবে কেভিনের আউটে দারুণ অবদান রয়েছে মোসাদ্দেক হোসেনের। প্রায় ১০ গজ দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ লুফে নেন এ তরুণ।

১৩৬ রানে ৭ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ড তখন অল্প রানেই গুটিয়ে যাওয়ার বড় শঙ্কায় ছিল। তবে অষ্টম উইকেটে ম্যাকার্থিকে নিয়ে ৩৫ রানের জুটিতে লড়ার মতো স্কোরের আশা দেখে দলটি। ম্যাকার্থিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে কার্যত সে স্বপ্ন ভেঙ্গে দেন সানজামুল। এরপর ৪৭তম ওভারে এসে শেষ দুই উইকেট তুলে নেন অধিনায়ক মাশরাফি। জর্জ ডকরেল আউট হন ব্যক্তিগত ২৫ রানে। শেষ পর্যন্ত ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ রানেই অলআউট হয় আইরিশরা।

আরটি/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad