ইউনিস-মিসবাহ’র শেষের শুরু

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৪

ইউনিস-মিসবাহ’র শেষের শুরু

খলিলুর রহমান ৪:১৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০১৭

print
ইউনিস-মিসবাহ’র শেষের শুরু

২০১৩ সালের নভেম্বর। শচীন টেন্ডুলকারের বিদায়ী টেস্ট সিরিজে প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের মাস্টার-ব্ল্যাস্টারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ছিলেন ড্যারেন স্যামি-ক্রিস গেইলরা। সেই স্যামি-গেইলরা এখন হয়তো দলে নেই। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ঠিকই মাঠের স্বাক্ষী হতে যাচ্ছে আরেকটি বিদায় পর্বের। এবার একজন নয়, একসঙ্গে দুজনের বিদায় দেখতে যাচ্ছে ক্যারিবীয়রা। আসলে পাকিস্তানের একটা প্রজন্মেরই শেষের স্বাক্ষী হতে যাচ্ছে জেসন হোল্ডারের দল। মিসবাহ-উল-হক ও ইউনিস খানের বিদায়ের মধ্য দিয়ে তো শেষ হবে পাকিস্তানের একটা প্রজন্মেরই।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শুরুর দিকেই মিসবাহ ও ইউনিস ঘোষণা দিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজই হবে তাদের শেষ। এরপরই ব্যাট-প্যাড তুলে রেখে নাম লেখাবেন ‘সাবেক’দের দলে। তো মিসাবহ-ইউনিসের সেই শেষের শুরুটা হয়ে যাচ্ছে শুক্রবারই। ব্রিজটাউন টেস্ট দিয়ে আজই যে শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তানের ৩ ম্যাচের টেস্ট দ্বৈরথ। ম্যাচটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়। নিজেদের সুবর্ণ সময় পেছনে ফেলে দুই দলই এখন পতন পথের যাত্রী। পাড়ি দিচ্ছে বন্ধুর পথ। নিজেদের হারিয়ে খোঁজা দুটি দলের টেস্ট দ্বৈরথ নিয়ে এমনিতে মানুষের আগ্রহটা একটু কমই ছিল। তবে মিসবাহ-ইউনিসের বিদায় ঘোষণা সিরিজটাকে ঠিকই ‘স্পেশাল’ করে তুলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তানের দলীয় চাদরে মোড়ানো সিরিজটা রূপ নিয়েছে মিসবাহ-ইউনিসের সিরিজে!

তো মিসবাহ-ইউনিসের টেস্ট সিরিজটা শুরু হচ্ছে একগাদা প্রশ্নকে সামনে রেখে। ইউনিস খান পারবেন পাকিস্তানের প্রথম এবং ইতিহাসের ১৩তম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে? পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ পারবেন দলকে টানা ৬ টেস্টে হারের বৃত্ত থেকে বের করে জয়ের ধারায় ফেরাতে? মিসবাহ’র পাকিস্তান পারবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথম বারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়তে? ওয়েস্ট ইন্ডিজ পারবে টানা সিরিজ জয়ের বৃত্ত ছিঁড়ে সিরিজ জিততে? পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নিজেদের সাফল্যের ইতিহাসটা ধরে রাখতে?

প্রথম প্রশ্নটা মিলে যাবে, এটা ধরেই নেওয়া যায়। ২০০০ সালের মার্চে টেস্ট অভিষেক হওয়া ইউনিস ১১৫ টেস্টে করে ফেলেছেন ৯৯৭৭ রান। মানে প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে টেস্টে ১০ হাজারী রান ক্লাবের সদস্য হতে তার দরকার আর মাত্র ২৩ রান। ৩ টেস্টের ৬ ইনিংসে ইউনিসের তা না পারার কোনো কারণ নেই! সিরিজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আসলে পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহই। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান হেরেছে সর্বশেষ ৬ টেস্টেই। সাদা পোষাকে লাল বলের ক্রিকেটে পাকিস্তানের টানা হারের শুরুটাও আবার এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। ২০১৬ সালের নভেম্বরে নিজেদের ‘হোম ভেন্যু’ সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তান ৩ ম্যাচের সিরিজে মুখোমুখি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। প্রথম দুই টেস্টে মিসবাহ’র পাকিস্তান জিতলেও শারজায় তৃতীয় টেস্টে ৫ উইকেটে জিতে যায় জেসন হোল্ডারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও হোয়াইটওয়াশের কলঙ্ক গায়ে মেখেছে মিসবাহ’র পাকিস্তান।

মিসবাহ নিশ্চিতভাবেই চাইবেন, ব্যর্থতার সেই গর্ত থেকে দলকে জয়ের ধারায় ফেরানোর। নিজের বিদায়টা স্মরণীয় করে রাখতেও এই সিরিজ জেতাটা খুব দরকার মিসবাহ’র। সেটা হলে পাকিস্তান গড়তে পারবে ক্যারিবীয়ানের মাটিতে প্রথম বারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের অনন্য কীর্তিও। ১৯৫৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত টেস্ট সিরিজ খেলতে ৭ বার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করে পাকিস্তান। কিন্তু ক্যারিবীয়দের মাটিতে পাকিস্তানিরা সিরিজ জয়ের হাসি হাসতে পারেনি কখনোই। ৭ বারের মধ্যে ৪ বারই ফিরতে হয়েছে সিরিজ হারের হতাশায় মুখ কালো করে। বাকি তিন বার কোনোক্রমে ড্র করতে পেরেছে। বিদায়ী সিরিজে মিসবাহদের সামনে সুযোগ ইতিহাস গড়ার।

অন্যদিকে ক্যারিবীয়রাও প্রস্তুত মিসবাহ-ইউনিসের বিদায়টাকে হতাশায় মুড়িয়ে দিতে। হারতে হারতে ক্যারিবীয়দের পিঠও যে দেয়ালে ঠেকে গেছে। ক্যারিবীয়রা সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জিতেছে ২০১৪ সালে, বাংলাদেশের বিপক্ষে। এরপর ৭টি সিরিজ খেলে ৬টি সিরজেই হার। হার সর্বশেষ পাঁচ সিরিজেই। ব্যর্থতার এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার তাড়না তো আছেই। ক্যারিবীয়দের জয়ক্ষুধা বাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ হারও।

উপরের এই তথ্যগুলো কিন্তু জমজমাট এক সিরিজেরই আভাস দিচ্ছে।

কেআর

print
 

আলোচিত সংবাদ