ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৩২ রানের পর ৫ উইকেট অ্যামিলিয়ার!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ | ৫ আষাঢ় ১৪২৫

ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৩২ রানের পর ৫ উইকেট অ্যামিলিয়ার!

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮

print
ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৩২ রানের পর ৫ উইকেট অ্যামিলিয়ার!

নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল ও আয়ারল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের মধ্যকার ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ইতিহাসেই ঠাঁই করে নিল নিশ্চতভাবে। বুধবার দুই দলের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৩০৫ রানে জয় পেয়েছে কিউই মেয়েরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রতিটিতে আগে ব্যাট করে চারশতাধিক রান করার নতুন কীর্তি গড়েছে নিউজিল্যান্ড। প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা তিনশতাধিক রানে।

এদিনের জয়টি যেমন মেয়েদের ক্রিকেটে রানের হিসেবে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ জয়। এই সিরিজেই চতুর্থ ও পঞ্চম সর্বোচ্চ রানে জয়ের কীর্তি গড়েছে কিউই মেয়েরা। তবে এতোকিছুর মাঝে বুধবার দিনটি আলাদা করে নিয়েছেন অ্যামিলিয়া কার। ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৩২ রানের বল হাতে নিয়েছে ৫ উইকেট। বুধবার ডাবলিনে ওপেন করতে নেমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি গড়েছেন অ্যামিলিয়া কার। টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৪০ রান সংগ্রহ করে কিউই মেয়েরা। অ্যামিলিয়া কার অপরাজিত ২৩২ রানের অনবদ্য ইনিংসটি খেলেন।

১৯৯৭ সালে মেয়েদের বিশ্বকাপে ডেনমার্কের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বেলিন্ডা কার্ক। ছেলেদের ও মেয়েদের ক্রিকেট মিলিয়ে যা প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। এরপর ছেলেদের ক্রিকেটে মোট ৭টি ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে। তবে বেলিন্ডার পর মেয়েদের মধ্যে আর কেউ সে কীর্তি গড়তে পারেননি। এদিন অ্যামিলিয়া ২১ বছর পর সেটি পুনরায় করেছেন তা নয়, ছাড়িয়ে গেছেন বেলিন্ডা কার্ককেও।

এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলতে থাকেন কিউই দুই ওপেনার অ্যামিলিয়া ও এমি। দুজনে গড়েন ১১৩ রানের জুটি। এরপর অ্যামিলিয়া ও লি কাসপারেক দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ২৯৫ রান। লি কাসপারেক ১০৫ বলে ১১৩ রান করেন। তবে অ্যামিলিয়া অপরাজিত থেকে যান ২৩২ রানে। মূলত লেগ স্পিনার হিসেবে দলের আবির্ভাব গড়েছিল তার। কিন্তু এদিন বিস্ময়ের পর বিস্ময় উপহার দিয়েছেন ব্যাট হাতে। তার ১৪৫ বলের ইনিংসে ছিল ৩১টি চার ও ২টি ছক্কা। অ্যামিলিয়ার তার ২৩২ রানের অপরাজিত ইনিংসটি নারী-পুরুষ মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। সর্বোচ্চ ২৬৪ রানের ইনিংসটি রোহিত শর্মার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৩৭ রান মার্টিন গাপটিলের।

৪৪১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আইরিশ মেয়েরা গুটিয়ে যায় ১৩৫ রানে। দলটির পক্ষে উনা রায়মোন্ড সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন। ২৯ রানে করেন সাওনা কাভানাগ। ব্যাট হাতে ডাবল সেঞ্চুরির পর অ্যামিলিয়ার লেগ স্পিনের কথা কেউ ভুলে যেতে পারেন। একারণেই বোধহয় নিজেকে বল হাতেও দারুণভাবে মেলে ধরলেন। ৫ উইকেট তুলে নেন অ্যামিলিয়া কার। গুটিয়ে দিলেন আইরিশ মেয়েদের। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ সেরা তিনি। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে নিউজিল্যান্ড জিতেছিল ৩৪৬ রানে। দ্বিতীয়টিতে জয় পায় তারা ৩০৬ রানে।

মেয়েদের ক্রিকেটে রানের হিসেবে সবচেয়ে বড় জয়টি নিউজিল্যান্ডের মেয়েদেরই। তবে সেটি এই সিরিজের নয়। ১৯৯৭ সালে পাকিস্তানের মেয়েদের ৪০৮ রানে হারিয়েছির কিউই মেয়েরা।

২০১৬ সালে প্রথম ওয়ানডে খেলা অ্যামিলিয়া এ ম্যাচেই প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান। ৫ উইকেটেও এই প্রথম। ১৭ বছর ২৪৩ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করলেন অ্যামিলিয়া। মেয়েদের ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির তালিকায় যা চতুর্থ।

 

টিএআর/এএস/আরজি

 
.




আলোচিত সংবাদ