ডু প্লেসির দৃঢ়তায় ফাইনালে চেন্নাই

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

ডু প্লেসির দৃঢ়তায় ফাইনালে চেন্নাই

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:০০ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০১৮

print
ডু প্লেসির দৃঢ়তায় ফাইনালে চেন্নাই

প্রতিপক্ষকে স্বল্প রানে বেঁধে রেখেও রান তাড়া করতে নেমে ভীষণ বিপদে পড়ে গিয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রথম কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে হার অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল দলটির। কিন্তু সেখান থেকে ঘুড়ে দাঁড়িয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। অনবদ্য ব্যাটিং করে দলকে ফাইনালে নিয়ে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসি। মঙ্গলবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে চেন্নাইয়ের জয় ২ উইকেটে।

এদিন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টস জিতে প্রতিপক্ষকে আগে ব্যাট করতে পাঠায় চেন্নাই। সাকিব আল হাসানদের হায়দ্রাবাদ শুরু থেকেই ছিল ছন্নছাড়া। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৯ রান করে দলটি। জবাবে প্রথম দিকে বিপাকে পড়লেও ওপেনার ডু প্লেসির অপরাজিত ৬৭ রানে ভর করে ৫ বল বাকি রেখেই জয় চেন্নায়ের। হারলেও ফাইনালে উঠতে আরেকটি সুযোগ থাকছে হায়দ্রাবাদের।

বুধবার এলিমিনেটর ম্যাচে খেলবে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রাজস্থান রয়্যালস। এই ম্যাচে জয়ীদের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ার খেলবে হায়দ্রাবাদ।

আসরটা মোটেও ভালো যাচ্ছিল না ডু প্লেসির। একাদশেও ছিলেন না নিয়মিত। এর আগে মাত্র চার ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন। রান করেছিলেন ৮৫। কিন্তু ৩৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচকেই আসল মঞ্চ বানালেন। শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে যখন উইকেট হারাচ্ছিল চেন্নাই, তখন ছোট কয়েকটি জুটি উপহার দিলেন। ৫৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়া চেন্নাইয়ের এক পর্যায়ে ৯২ রানে পড়ে যায় ৭ উইকেট। ম্যাচটা তখন একেবারে হায়দ্রাবাদের হাতে। কিন্তু ডু প্লেসির ৪২ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কার ইনিংসে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত চেন্নাইয়ের দিকে ঘুরে যায়।

অথচ ডু প্লেসির শুরুটাও ছিল ধীর গতির। তবে শেষের ১০ ওভারে দুর্দান্ত ব্যাটিং তার। দ্বিতীয় উইকেটে সুরেশ রায়নার সঙ্গে ২৪ রানের জুটি হয়েছিল তার। এরপর তো ব্যাটিং ধস। সপ্তম উইকেটে দিপক চাহারকে নিয়ে ৩০ রান যোগ করেন। অষ্টম উইকেটে হরভজন সিংয়ের সঙ্গে ২১ ও নবম উইকেটে শার্দুল ঠাকুরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ২৭ রানের জুটিতে ম্যাচ নিজেদের করেন তিনি।

শার্দুল ঠাকুর ৫ বলে ৩ চারে ১৫ রান করেন। ভুবনেশ্বর কুমারের করা ২০তম ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন ডু প্লেসি। হায়দ্র্রাবাদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন সন্দিপ শর্মা, সিদ্ধার্থ কাউল ও রশিদ খান।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই শিখর ধাওয়াকে হারিয়ে হায়দ্রাবাদের বিপর্যয় শুরু। ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। তবে সাত নম্বরে নেমে ব্র্যাথওয়েট ২৯ বলে ৪ ছক্কা ও ১ চারে অপরাজিত ৪৩ রান করেন। এছাড়া ইউসুফ পাঠান ও কেন উইলিয়ামসনের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান করে। চেন্নাইয়ের পক্ষে সর্বাধিক ২ উইকেট নেন ডোয়াইন ব্রাভো।

২০১০ ও ২০১১ টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল চেন্নাই। তবে শেষ দুই আসরে নিষেধাজ্ঞার কারণে ছিল না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। নির্বাসন কাটিয়ে ফিরেই ফাইনালে জায়গা করে নিল অন্যতম ফেভারিটরা। এনিয়ে ৭ বারের মতো আইপিএলের ফাইনালে উঠলো চেন্নাই।

এদিন সাবিক আল হাসান ব্যাট এবং বল দুই বিভাগেই ব্যর্থ। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১০ বলে ২ চারে ১২ রান করেন। বল করে ২ ওভারে ২০ রান দিয়েছেন।

টিএআর/এএস/পিএ

 
.




আলোচিত সংবাদ