গেইলের বীরত্বের ম্যাচে জয় পেল পাঞ্জাব

ঢাকা, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

গেইলের বীরত্বের ম্যাচে জয় পেল পাঞ্জাব

পরিবর্তন ডেস্ক ২:০৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৮

print
গেইলের বীরত্বের ম্যাচে জয় পেল পাঞ্জাব

ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান চেষ্টা করেছিলেন। তবে লক্ষ্যটা বেশ বড় ছিল। তিনি যখন ব্যাট হাতে নামেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০ বলে ৬১ রান। বল হাতে অনুজ্জ্বল ছিলেন, ব্যাট হাতে সাকিব ১২ বলে করেন ২৪ রান। তবে সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ক্রিস গেইলের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরির রাতে জয়টা পেল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবই। ৩০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁতে পারেননি সাকিব। কিন্তু নিজের ২০০তম টি-টুয়েন্টি ম্যাচে পাঞ্জাব অধিনায়ক রবিচন্দ্রন অশ্বিন ভাসলেন ১৫ রানের জয়ের আনন্দে।

আইপিএলের এবারের আসরে এর আগের ১৫ ম্যাচে টস জয়ী দল নিয়েছে ফিল্ডিং। জুয়াটা প্রথমে খেললেন অশ্বিনই। মোহালিতে ঘরের মাঠে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তার হয়ে বাজিমাত করেছেন ক্যারিবিয় ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। ৩৯ বলে ফিফটি করা গেইল সেঞ্চুরি করেছেন ৫৮ বলে। এটি ছিল ২০১৫ সালের পর আইপিএলে তার প্রথম সেঞ্চুরি। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৬ সেঞ্চুরির রেকর্ডও তার দখলে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪টি সেঞ্চুরি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলির। গেইলের ৬৩ বলে অপরাজিত ১০৪ রানের ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ১১টি ছয়ের মার। আইপিএলে কোন ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে এর অবস্থান নয় নম্বরে। এখানে সর্বোচ্চ ২৮০ ছক্কার রেকর্ডও এই ৩৮ বছরের বুড়ো গেইলের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোহিত শর্মার, ১৭৯টি।

গেইলের ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান করে পাঞ্জাব। চার হাজার রান আগেই করেছেন সাকিব, একটি উইকেট নিলে ছুঁতে পারতেন পঞ্চম বোলার হিসেবে টি-টুয়েন্টিতে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক। তবে পাননি কোন উইকেট। তাই ছোঁয়া হয়নি ডোয়াইন ব্রাভোর পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ৩০০ উইকেট ও ৪হাজার রানের ডাবল। ১টি করে উইকেট পেয়েছিলেন রশিদ খান, ভুবনেশ্বর কুমার ও সিদ্ধার্থ কাউল।

১৯৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৭ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারায় হায়দ্রাবাদ। এছাড়া প্রথম ওভারেই ওপেনার শিখর ধাওয়ান রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও মনিশ পান্ডের ৭৬ রানের জুটি জয়ের আশা জোগাচ্ছিল বটে। তবে রান তোলার গতিটা একটু কমই ছিল বৈকি। দলীয় ১১৩ রানে আউট হওয়ার আগে ৪১ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ৫৪ রান করেন উইলিয়ামসন। ১৩৩ রানে দিপক হুডা আউট হলে ব্যাট করতে নামেন সাকিব। তবে তিনি ও মনিশের পক্ষে শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ রান তোলা সম্ভব হয়নি। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। অশ্বিনকে দুটি ছক্কা মেরে সাকিব শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন। ১২ বলে ২ ছয় ও ১ চারে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন এই বাঁহাতি অল রাউন্ডার। দলীয় সর্বোচ্চ ৫৭ রান করে অপরাজিত থাকেন মনিশও। তার ৪২ বলের ইনিংসে ছিল ১টি ছয় ও ৩টি চার। ২০ ওভারে ৪ উইকেটের বিনিময়ে ১৭৮ রান করে হায়দ্রাবাদ। মাইলফলকের ম্যাচে ৪ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন অশ্বিন। দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন মোহিত শর্মা ও অ্যান্ড্রু টাই।

ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন গেইল। এই জয়ের ফলের অবশ্য পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান পরিবর্তন হয়নি পাঞ্জাবের। ৪ ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে দলটি। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে হায়দ্রাবাদ। ৫ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কলকাতা নাইট রাইডার্স। সমান পয়েন্ট হলেও রানরেটের ভিত্তিতে এগিয়ে আছে দলদুইটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব : ১৯৩/৩ (২০ ওভার) (রাহুল ১৮, গেইল ১০৪*, মায়াঙ্ক ১৮, নায়ার ৩১, ফিঞ্চ ১৪*; ভুবনেশ্বর ১/২৫, জর্ডান ০/৩১, রশিদ ১/৫৫, কাউল ১/৩৩, হুডা ০/১৬, সাকিব ০/২৮)।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ : ১৭৮/৪ (২০ ওভার) (ঋদ্ধিমান ৬, ধাওয়ান ০ (রিটায়ার্ড হার্ট), উইলিয়ামসন ৫৪, ইউসুফ ১৯, মনিশ ৫৭*, হুডা ৫, সাকিব ২৪*; স্রান ০/২২, মোহিত ২/৫১, টাই ২/২৩, অশ্বিন ০/৫৩, মুজিব ০/২৭)।

ফলাফল : কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ১৫ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ক্রিস গেইল।

এসএম/এএস

 
.




আলোচিত সংবাদ