মাশরাফিদের উপস্থিতিতে 'ব্রাজিল' এর প্রকাশনা উৎসব

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৪

মাশরাফিদের উপস্থিতিতে 'ব্রাজিল' এর প্রকাশনা উৎসব

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
মাশরাফিদের উপস্থিতিতে 'ব্রাজিল' এর প্রকাশনা উৎসব

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ। যখন প্রিয় খেলোয়াড়দের যখন মাঠে দাবড়ে বেড়াতে দেখতেন, তখন থেকেই ভাবতেন— আহা যদি আমি সামনে থেকেই দেখতে পারতাম। ভাগ্যদেবী তার কথা শুনেছেন বলে আজ দেশের খেলাধুলার অনেক হাসিকান্নার গল্প হরহামেশাই উঠে আসছে তার কলমে। লিখেছেন, ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অলিম্পিক নিয়েও। দুই বছর আগেই তিনি কাভার করে এসেছেন রিও অলিম্পিক। ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় এই আসর নিয়ে দারুণ সব লেখা এসেছে তার কলম থেকে। কিন্তু ব্রাজিল নিয়ে লেখা কি আর কাগজের ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে দেয়া জায়গায় আঁটে! তিনি তাই ব্রাজিল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখে ফেললেন আস্ত এক বই। বলা হচ্ছে দৈনিক কালের কণ্ঠের ক্রীড়া সম্পাদক সাইদ জামান এবং তার সদ্য প্রকাশিত বই ‘ব্রাজিল’ এর কথা। বুধবার রাজধানীর এক রেস্তোরায় হয়ে গেলো ‘ব্রাজিল’-এর প্রকাশনা উৎসব।

সাংবাদিক জীবনে অবশ্য সাইদুজ্জামান নামে পরিচিত সাইদ জামান। তার প্রিয় খেলোয়াড় দিয়াগো ম্যারাডোনা। কিন্তু ছোট বেলা থেকেই ব্রাজিলের পাড় সমর্থক তিনি। এই বৈসাদৃশ্য থাকলেও, দুই দেশের প্রতিই তার ভিন্ন রকমের আবেগ। আর এ জন্যই হতে পেরেছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রীড়া সাংবাদিক। কারণ সাংবাদিকদের জন্য যে কোন দলই নেই। আবার সব দলই তার। তবে ব্যক্তির চেয়ে দল কিংবা দেশ অনেক বড়। তাই আবেগটা ব্রাজিলের প্রতি একটু বেশি। পেলের খেলা দেখতে পারেননি। কিন্তু তার উত্তরসূরি রোনালদো, রোনালদিনহো, কাকাদের খেলা দেখে বরাবরই মুগ্ধ হয়েছেন। তাই ব্রাজিলের ফুটবলটা কেমন কিংবা তাদের দেশের সাধারণ খেলোয়াড়দের কাছেই বা কেমন জানার আগ্রহটা দিন দিন বেড়েই ওঠে। সুযোগটা মিলে যায় রিও অলিম্পিকে। যদিও এর জন্য অনেক কাঠখড়ই পোড়াতে হয়েছে তাকে।

মূলত ক্রিকেটকেই ভিত্তি করে লিখে থাকেন সাইদ জামান। তবে অন্য খেলাতেও যে তার ভালোবাসা অপরিসীম তার প্রমাণ মেলে নানা ক্ষেত্রেই। ব্রাজিলের রিওতে অনুষ্ঠিত খেলাধুলার সবচেয়ে বড় আসর অলিম্পিক কাভার তার ছোট্ট একটি উদাহরণ মাত্র। মূলত খেলার প্রতি ভলোবাসা থেকেই ঘুরলেন ব্রাজিল। দেখলেন পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর দেশ। কী নেই সেখানে। বিশ্বের সেরা সৈকত, রেইনফরেস্ট, জলপ্রপাত, ঐশ্বরিক রন্ধনপ্রণালী, সবচেয়ে বড় বনভূমি। যেখানে ঘোরার কিংবা দেখার ভাগ্য হয় বা কয়জনের। তাই সাধারণ জনতার কথা ভেবেই সৃষ্টি করলেন ভ্রমণ কাহিনী 'ব্রাজিল'। যাতে মাঝে মধ্যেই ফুটে উঠেছে ব্রাজিলের খেলা ও খেলোয়াড়দের কথাও।

বইয়ের ফ্ল্যাপে বারবার লিখেছেন এটা মূলত একটা ভ্রমণ কাহিনী। ব্রাজিলে তার ঘোরার অভিজ্ঞতার কথাই ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। কিন্তু পাঠক জানেন, বোঝেন তার মতো ক্রীড়া সাংবাদিক চেষ্টা করলেই কি পারবেন খেলাধুলাকে আড়াল করতে? সাইদের ভাষায়, ‘এটা মূলত ভ্রমনের গল্প। খেলাধুলার ভ্রমণ। খেলার কোন রিপোর্ট নেই, তবে খেলোয়াড়দের কথা কিছু আছে। ফুটবলটাকে ব্রাজিলিয়ানরা কতোটা ভালোবাসে। অন্য খেলা গুলো কিভাবে দেখে। বিচ ফুটবল অনেক জনপ্রিয় সেখানে। ওদের খাবার, প্রকৃতি কেমন। ইপানেমা বিচের খুব কথা শুনেছি, আরও অনেক বিচ, আমাজনের জীবন এগুলো। যেটুকু আমি দেখেছি। যদিও দেখেছি খুব সামান্যই। এইটুকু সময়ের আর কতো দেখা যায়। ওই অভিজ্ঞতাটাই লিখেছি।’

নিজের স্বপ্নকে পূরণ করেছেন সাইদ। এমন স্বপ্ন আছে বাংলাদেশের অনেকেরই। কারণ তার মতো ব্রাজিল ফুটবলের পাড় ভক্ত রয়েছেন ভুরি ভুরি। কিন্তু সবার ভাগ্যে হয় না ব্রাজিল ঘুরে দেখার। সুযোগ এবং সামর্থ্যের ব্যাপারটাও থাকে। মূলত তাদের জন্যই 'ব্রাজিল'। এ বই পড়ে ভালোবাসার দেশটি সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারবেন বলে মনে করছেন সাইদ, ‘স্বপ্ন ছিল। এতদিন পর... পেশাগত কারণে হোক সে সুযোগটা হয়েছে, ব্রাজিল দেখলাম। আমাজন দেখলাম। প্রতিটা মুহূর্তই মনে হয়েছে উপভোগ্য। এটা আরকি নিজের উত্তেজনাটা সবার সঙ্গে শেয়ার করা। আসলে সবার তো সুযোগ হয় না। ভাগ্য গুনে আমার হয়েছে। তাই লিখলাম। কেউ যদি এটা পড়ে। পড়ে যদি ব্রাজিলের আবহটা বুঝতে পারে।’

ব্রাজিলের প্রকাশনা উৎসবে বুধবার উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই। টি-টুয়েন্টি দলের জন্য ঘোষিত দলের সবাই ছিলেন। তবে সব আলো কেড়েছেন ওয়ানডে সংস্করণের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যক্তিগত কাজে আটকে পড়ায় কিছুটা দেরি হলেও উপস্থিত হয়েছেন তিনি। ব্রাজিলের জন্য শুভেচ্ছা জানালেন অধিনায়ক। পাশাপাশি বইটি কিনে পড়ার জন্যও সবাইকে অনুরোধ করেন অধিনায়ক। তবে শুধু মাশরাফিই নন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও।

উল্লেখ্য, বুধবার মিরপুরে সাকিব’৭৫ রেস্টুরেন্ট বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে বই ‘ব্রাজিলে’র প্রকাশনা উৎসব করা হয়। তবে বইটি বাজারে পাওয়া যাবে বৃহস্পতিবার থেকে। বইটি প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা বাংলা প্রকাশ। এবারের একুশে বই মেলায় তাদের প্যাভিলিয়ন নম্বর ৭।

আরটি/এসএম

 

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad